বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ২৩৪ ইনিংসে উদ্বোধনী জুটি ১০০ পেরিয়েছে মাত্র সাতবার, গড় রান ২৮.২৬। গত আড়াই বছরের চিত্র আরও মলিন। ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটি গড়ে রান তুলেছে ২৩.৯২। এই সময়ে জুটিতে বদল হয়েছে ১০ বার। গত বছর দেশের মাঠে আফগানিস্তানের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টের দুই ইনিংস তো দুটি ভিন্ন ওপেনিং জুটিও দেখেছে বাংলাদেশ! তামিম ইকবালের যোগ্য সঙ্গী খুঁজে না পাওয়াতেই বারবার এমন বদল।

উদ্বোধনী জুটি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নির্বাচক হাবিবুল বাশারের কপালে চিন্তার ভাঁজ, ‘ওপেনিং জুটি ভঙ্গুর হলে দলের বাকি ব্যাটসম্যানদের ওপর চাপ বাড়ে। ওপেনাররা যদি নতুন বলটা খেলে দিতে পারে, তাহলে যেকোনো দলেরই সুবিধা হয়।’ বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক সামনে আনলেন রান তোলায় টেস্ট ইতিহাসের দ্বিতীয় সেরা উদ্বোধনী জুটি জাস্টিন ল্যাঙ্গার আর ম্যাথু হেইডেনের উদাহরণ, ‘অস্ট্রেলিয়ার যে দলটা ধারাবাহিক সাফল্য পেয়েছে তাদের মূলে ছিল ল্যাঙ্গার আর হেইডেন। এই জুটি যে রান তুলে দিত, সেটিই তাদের বাকি কাজ সহজ করে দিত।’

সর্বশেষ তিন-চার সিরিজে উদ্বোধনী জুটি বদলাতে হয়েছে অনেকটা বাধ্য হয়েই। গত বছর ব্যক্তিগত কারণে আফগানিস্তান সিরিজ ও ভারত সফরে ছিলেন না তামিম ইকবাল। অবশ্য বাংলাদেশ দলের উদ্বোধনী জুটির এক প্রান্ত বাঁহাতি এই ওপেনারের জন্য বরাদ্দই হয়ে আছে এক রকম। অদলবদলটা হয় মূলত অন্য প্রান্তে।

আফগানিস্তান ও ভারত সিরিজে তামিমের অনুপস্থিতি সুযোগ করে দিয়েছিল অন্যদের যোগ্যতা প্রমাণের। কিন্তু সুযোগটা যে কাজে লাগাতে পারেননি কেউই! উল্টো এই দুই সিরিজে বাংলাদেশ দল দেখেছে চার ওপেনার-ইমরুল কায়েস, লিটন দাস, সাদমান ইসলাম ও সৌম্য সরকার। কেউই দিতে পারেননি আস্থার প্রতিদান।

ভারতের বিপক্ষে চার ইনিংসে ৬,৬, ৪ ও ৫ রান করা ইমরুলকে তো প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো ভারতেই বলে দেন, ‘পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে তুমি থাকছ না।’

ফেব্রুয়ারিতে সাদমান চোটে পড়ায় পাকিস্তানের বিপক্ষে সুযোগ পান সাইফ হাসান, এই টেস্ট দিয়ে তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক। রাওয়ালপিন্ডি টেস্ট ও দেশের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে তামিমের সঙ্গী হন সাইফ। তরুণ এই ওপেনার দ্রুতই বুঝে যান, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কতটা কঠিন। প্রথম টেস্ট ইনিংসে ‘শূন্য’ করার পরের দুই ইনিংসে নামের পাশে যোগ করতে পেরেছেন ১৬ ও ৮ রান। গত এক বছরে বাংলাদেশের কোনো উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানই ফিফটি পাননি। উদ্বোধনী জুটি গড়ে খেলতে পারেনি ৫ ওভারও।

default-image

এমন পরিসংখ্যানে নির্বাচকদের খুশি হওয়ার কথা নয়। তারপরও এত দ্রুত তরুণ ওপেনারদের ওপর আস্থা হারাতে চান না তাঁরা। তামিমের সঙ্গী হিসেবে আপাতত সাইফ-সাদমানকে নিয়েই পরিকল্পনা। আসন্ন শ্রীলঙ্কা সফরে চোট কাটিয়ে ফেরা সাদমানকে জায়গা ছেড়ে দিতে হতে পারে সাইফের। তামিমের সঙ্গে আবারও ওপেন করতে পারেন সাদমান, এমন আভাস মিলছে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুলের কথায়, ‘সাদমান তো খেলছিলই। তাকে আমরা বাদ দিইনি। চোটে পড়ায় দলের বাইরে ছিল। সে আবার অনুশীলনে ফিরেছে।’ আবার সাইফ যে শ্রীলঙ্কাগামী দলে থাকবেন, সে ইঙ্গিতও দিচ্ছেন মিনহাজুল, ‘সে-ও থাকবে। একটা সফরে সাধারণত আমাদের তিনজন ওপেনার যায়।’

কোচ রাসেল ডমিঙ্গো আজ ঢাকায় এসে পৌঁছালে কাল তাঁর সঙ্গে শ্রীলঙ্কা সফরের দল নিয়ে আলোচনা করার কথা নির্বাচকদের। এরপর দু-এক দিনের মধ্যে ঘোষণা হতে পারে ২১ সদস্যের দল।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন