তা রুটের বদলে কে অধিনায়ক হচ্ছেন? এতদিন ধরে বেন স্টোকসের নামই শোনা গেছে সব সময়। ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোও জানাচ্ছে, স্টোকসই দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে থাকছেন। এর পাশাপাশি ররি বার্নস, স্টুয়ার্ট ব্রড আর জস বাটলারের নামও শোনা যাচ্ছে, তবে এই তিনজনের কারওই তো টেস্ট একাদশে জায়গা একেবারে পাকা নয়!

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অ্যাশেজে ইংল্যান্ড ৪-০ ব্যবধানে হেরে যাওয়ার পর থেকেই তো রুটের অধিনায়কত্বের ছাঁচাছোলা সমালোচনা চলছে। তবে সে সময় ইংল্যান্ড কোচ ক্রিস সিলভারউডকে বরখাস্ত করলেও রুটকে দায়িত্বে রেখে দেয়। বরং নতুন দিনের গান শোনানো রুটের অধীনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে দুই অভিজ্ঞ বোলার জিমি অ্যান্ডারসন আর স্টুয়ার্ট ব্রডকে দলের বাইরে রাখে ইংল্যান্ড। কিন্তু এতকিছুর পর হলো কী? তিন টেস্টের সিরিজের প্রথম দুটিতে দাপট দেখিয়েও জিততে পারেনি ইংল্যান্ড, টেস্ট দুটি ড্র হয়। এরপর সিরিজের শেষ টেস্টে হেরে সিরিজটাও ১-০ ব্যবধানে হেরে যায় রুটের দল!

চারিদিকে সমালোচনা আরও বাড়ে। কিন্তু রুট তখনো অনড় ছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে তাঁর দল ‘অনেক উন্নতি’ করেছে, ‘অসাধারণ ক্রিকেট খেলেছে’ জানিয়ে বলেছিলেন, তিনি ‘এই সময়টাকে আরও টেনে নিয়ে যেতে চান।’ কিন্তু গত মাসের শেষদিকে শেষ হওয়া সিরিজের দিন পনের না যেতেই রুটের সরে যাওয়ার খবর এল। কীভাবে বদলে গেল রুটের মনোজগত?

default-image

দায়িত্ব ছাড়ার বিবৃতিতে সেটির ব্যাখ্যায় পরিবারের কথাই বলেছেন রুট, ‘ক্যারিবিয়ান সফর থেকে ফেরার পর যথেষ্ট সময় পেয়েছি সবকিছু ভেবে দেখার। সিদ্ধান্ত নিয়েছি ইংল্যান্ডের ছেলেদের টেস্ট দলের অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর। ক্যারিয়ারে এ পর্যন্ত যত সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে তার মধ্যে কঠিনতম সিদ্ধান্ত ছিল এটি। কিন্তু পরিবার ও কাছের মানুষের সঙ্গে আলোচনার পর বুঝতে পারছি, (ছেড়ে দেওয়ার) এটাই সঠিক সময়।’

পাঁচ বছর দায়িত্বটা পালনের সুযোগ পেয়ে গর্বের কথা তো জানানোরই কথা, জানিয়েছেন রুট। তবে সেটির শেষদিকে এসে এত ব্যর্থতা আর সেসবের জেরে চলে আসা সমালোচনার ধকল একটু বেশিই মনে হচ্ছিল তাঁর, ‘টেস্টে আমার দেশের নেতৃত্ব দেওয়া সব সময়ই খুব উপভোগ করেছি, কিন্তু একইসঙ্গে এটার ধকল আমার ওপর কতটা বেশি পড়ছে, খেলার বাইরের জীবনেও কতটা প্রভাব ফেলছে, সেটি সাম্প্রতিক সময়ে বুঝতে শুরু করেছি।’

তাঁর বয়স মাত্র ৩১, এখনই অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিলেও খেলা ছেড়ে দেওয়ার তো কোনো কারণ ছিল না। রুট নিশ্চিত করলেন, তিনি খেলাটা চালিয়েই যাবেন, ‘চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে, দলের কাজে আসে এমনভাবে খেলে যাওয়ার ব্যাপারে রোমাঞ্চিত। পরের অধিনায়ক, আমার সতীর্থ ও কোচদের যেভাবে সম্ভব সাহায্য করতেও উন্মুখ হয়ে আছি’—বিবৃতিতে লিখেছেন রুট।

default-image

তবে রুটের পদত্যাগ এমন সময়ে এল, যখন ইংল্যান্ডের ক্রিকেটে পালাবদল চলছে। রুটের বিদায়ে ইংল্যান্ডের বোর্ড থেকে শুরু করে দলের নেতা পর্যন্ত কোনো পর্যায়েই নেতৃত্ব দেওয়ার মতো কেউ থাকলেন না। এই দলে এই মুহূর্তে কোনো মহাব্যবস্থাপক নেই, কোনো প্রধান কোচ নেই, কোনো নির্বাচক নেই, এখন টেস্ট অধিনায়কও নেই! শুধু ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টির অধিনায়ক হিসেবে এউইন মরগানের জায়গাটা ঠিকঠাক আছে।

২০১৭ সালে কুক সরে যাওয়ার পর দায়িত্ব পাওয়া রুটের অধীনে টেস্টে ইংল্যান্ডের সাফল্যের হাইলাইটস খুঁজতে গেলে চোখ পড়বে ২০১৮ সালে ভারতের বিপক্ষে নিজেদের মাটিতে সিরিজ জয়, দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ২০১৯-২০ সিরিজের দিকে। আর ব্যর্থতা? সর্বশেষ অ্যাশেজ তো আছেই, তার আগে নিজেদের মাটিতে নিউজিল্যান্ড ও ভারতের বিপক্ষে টানা দুই সিরিজেও হেরেছে ইংল্যান্ড।

তাঁর অধিনায়কত্ব তাঁর ব্যাটিংয়ে কতটা প্রভাব ফেলেছে, সে অবশ্য বিতর্ক করার মতো। পরিসংখ্যান যে দুদিকেই কথা বলে। ১১৭ টেস্টের ক্যারিয়ারে রুটের ব্যাটিং গড় যেখানে ৪৫.৪৬, অধিনায়ক হিসেবে ৬৪ টেস্টে সেটি ৪৪.১৬। তবে ২০২১ সালে তাঁর ব্যাটিং এসব প্রশ্নকে ছাপিয়ে যায়। গত বছরে ১৭০৮ রান করেছেন রুট—যা টেস্ট ইতিহাসে এক বছরে তৃতীয় সর্বোচ্চ, ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন