বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

ইংল্যান্ডের ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) ও ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) হাতে এখন কার্যত তিনটি বিকল্প। ১. দুই পক্ষ হাত মিলিয়ে সিরিজ এখন যে অবস্থায় আছে, সেভাবে শেষ করে নেওয়া, অর্থাৎ ভারত ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতবে। ২. ভারত ম্যাচটা আসলেই ছেড়ে দেওয়া, সে ক্ষেত্রে সিরিজ শেষ হবে ২-২ সমতায়। ৩. ব্যস্ত সফরসূচির মধ্যেও বাকি থাকা টেস্টটা খেলার একটা সময় খুঁজে নেওয়া।

১৯ সেপ্টেম্বর আইপিএল শুরু, যেখানে ভারত ও ইংল্যান্ড দুই দলেরই মূল খেলোয়াড়দের প্রায় সবাই আছেন। এরপর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। চাইলেও তাই শিগগিরই ম্যাচটা আয়োজন সম্ভব নয়। ভারতীয় দলে সমস্যার কারণেই টেস্টটা বাতিল হওয়ায় ইংল্যান্ডও না খেলে হার মানতে চাইবে না। আবার চার টেস্ট শেষে এগিয়ে থাকা ভারতই–বা কেন সমতায় সিরিজের শেষ মানতে চাইবে! তার ওপর আগে হলে হয়তো এতটা আলোচনা হতো না, কিন্তু এখন এই সিরিজগুলো যে ‘বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের’ অংশ! এখানে প্রতিটি ম্যাচের জয়-পরাজয় গুরুত্বপূর্ণ।

default-image

তা কে জিতছে সিরিজ, সে বিতর্কের আগে টেস্ট বাতিল হওয়া নিয়ে গতকাল দুই বোর্ডের দেওয়া বিবৃতিতে একবার চোখ বুলিয়ে নেওয়া ভালো। ইংল্যান্ডের ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) বিবৃতিতে টেস্ট বাতিল হওয়ার কারণ হিসেবে প্রথমে লিখেছিল, ‘...নিজেদের ক্যাম্পে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেড়ে যাওয়ার শঙ্কায় ভারত দল মাঠে নামাতে পারছে না। ম্যাচটা তারা ছেড়ে দিচ্ছে।’

কিন্তু ‘ছেড়ে দেওয়া’ শব্দটা নিয়ে আপত্তি ওঠে। ভারতের দাবি, তারা ম্যাচটা খেলতে চায়, কিন্তু পরিস্থিতির কারণে সেটা সম্ভব হচ্ছে না। আপত্তির মুখে তাই কিছুক্ষণ পরই বিবৃতি বদলায় ইসিবি, সেখানে শুধু লেখা ছিল, ‘...নিজেদের ক্যাম্পে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেড়ে যাওয়ার শঙ্কায় ভারত দল মাঠে নামাতে পারছে না।’ অন্যদিকে ভারতের ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) বিবৃতিতে লেখে, ম্যাচটা বাতিল হয়েছে, তবে পরে কোনো এক সময়ে ম্যাচটা আয়োজনের ব্যাপারে বিসিসিআই ও ইসিবি আলোচনা চালিয়ে যাবে।

এই সিরিজের ফল কী হবে, সেটা বিসিসিআই ও ইসিবিকে যৌথভাবে মিলে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। না হলে আইসিসির হস্তক্ষেপের অপেক্ষা করতে হবে

দুই পক্ষের বিবৃতিতে এটা স্পষ্ট যে সিরিজটাকে ধরে নেওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু টেস্টটা কখন হবে, কোথায় হবে, কীভাবে হবে, সেটি একটা বড় প্রশ্ন হয়ে থেকে যায় বটে। একটা সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে আগামী বছরের জুনে। ভারতীয় দল সে সময় ইংল্যান্ড সফরে যাবে সাদা বলের ক্রিকেট খেলতে। কিন্তু দুই বোর্ড রাজি হলে তখন ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজের মধ্যেই অথবা টি-টোয়েন্টি সিরিজের বদলে একটা টেস্ট খেলে ফেলতে পারে।

ভারতের সংবাদপত্র টাইমস অব ইন্ডিয়া সে কারণে লিখেছে, ‘এই টেস্ট ম্যাচটা যদি এখন থেকে শুরু করে আগামী বছরের মধ্যে কোনো এক সময়ে খেলা হয়, সে ক্ষেত্রে এটির ফল (বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের এবারের রাউন্ডের হিসাবে) যোগ হবে। কিন্তু যদি ম্যাচটা না হয়, সে ক্ষেত্রে এই সিরিজের ফল কী হবে, সেটা বিসিসিআই ও ইসিবিকে যৌথভাবে মিলে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। না হলে আইসিসির হস্তক্ষেপের অপেক্ষা করতে হবে।’

আইসিসির কেন হস্তক্ষেপ করতে হবে? টাইমস অব ইন্ডিয়া লিখেছে, ‘কার্যত, সিরিজের ফল নির্ধারণে দুই বোর্ড যদি বিতর্কে জড়ায়, সে ক্ষেত্রে আইসিসি একটা কমিটি ঠিক করে দেবে, যারা খেলার কোড অব কন্ডাক্ট অনুসরণ করে ব্যাপারটা ঠিক করবে। তবে পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবগত লোকেরা বলছেন, ‘‘এটা (সিরিজের ফল) ঠিক করার ক্ষমতা ইসিবির নেই।’’’

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন