default-image

মাহমুদউল্লাহরও নিশ্চয়ই একটা যুক্তি ছিল। সেটি তাঁর মুখ থেকে জানা যায়নি পরশু প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে তৃতীয় টি–টোয়েন্টির পর তিনি সংবাদ সম্মেলনে আসেননি বলে। চিন্তাটা অনুমান করা কঠিন কিছু নয় অবশ্য। স্মিথের আউটের পর ওপেনার কাইল মায়ার্সের সঙ্গে জুটি বাঁধেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক নিকোলাস পুরান, দুজনই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। দুই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের বিপক্ষে বাঁহাতি স্পিনার দিয়ে বোলিং করানো যাবে না, এটা বাংলাদেশ দলের অলিখিত একটা নীতিতেই পরিণত হয়েছে এখন। সাকিবকে এক ওভার বোলিং করিয়েই থামিয়ে দেওয়ার পেছনেও এটাই মাহমুদউল্লাহর যুক্তি হবে।

কিন্তু নিজের প্রথম ওভারের প্রথম বলে স্মিথকে ফেরানোর পর পরের পাঁচ বলে মায়ার্স বা পুরান একবারও সাকিবকে আক্রমণ করতে চেষ্টা করেননি। সাবধানী ব্যাটিং করে এই পাঁচ বলে তাঁরা এক–এক করে নিয়েছেন ৪ রান। তাঁরা এটাও জানতেন যে সাকিব বাংলাদেশ দলের ১ নম্বর বোলার। স্বাভাবিকভাবে পরের ওভারেও সাকিবকে তাঁরা দেখে খেলতে চাইতেন।

ওই সময় বাংলাদেশ দলের চিন্তাও স্বাভাবিকভাবে এটাই হওয়া উচিত ছিল এবং সপ্তম ওভারের পর নবম ওভারটাও সাকিব পেলেই ভালো হতো। কিন্তু সেটা না করে মাহমুদউল্লাহ বল তুলে দিলেন বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের হাতে। পরিণতি, সাকিবের হাত থেকে মুক্তি পেয়ে প্রথম বলেই লং অফ দিয়ে পুরানের ছক্কা। মোস্তাফিজ ওই ওভারে দিলেন ১২ রান।

সাকিব মাত্র ২ ওভার বোলিং পেলেও ‘অকেশনাল’ অফ স্পিনার মোসাদ্দেক তাঁর ১৮টি টি–টোয়েন্টিতে এ ম্যাচেই দ্বিতীয়বারের মতো ৪ ওভারের কোটা পূরণ করলেন। পরশুর আগে সর্বশেষ খেলা ৮ টি–টোয়েন্টির তিনটিতে তিনি বোলিংই করেননি। বাকি ৫ ম্যাচে করেছেন এক ওভার করে।

সাকিবকে তাঁর দ্বিতীয় ওভারটি করার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে ১৭তম ওভার পর্যন্ত, যখন খেলাই প্রায় শেষ। কারণ, মায়ার্সের আউটে ১৫তম ওভারে ভেঙেছে পুরানের সঙ্গে তাঁর জুটি। তা সাকিব বল না করায় এই ৯ ওভার কি তাঁরা বসেছিলেন? দুজনই ততক্ষণে তুলে নিয়েছেন ফিফটি, দুজনই চালিয়ে গেছেন বিস্ফোরক ব্যাটিং।

সাকিব ছাড়াই আরও ছয় বোলার ব্যবহার করেও মেলেনি সাফল্য। যে ম্যাচে বাংলাদেশের আটজন বোলার বোলিং করেছেন, সে ম্যাচে দলের সেরা বোলারের জন্য বরাদ্দ মাত্র ২ ওভার! কোটার বাকি ২ ওভার করার সুযোগই পাননি তিনি। ভাবা যায়?

সাকিব যে প্রান্ত থেকে বোলিং করছিলেন, তার অন্য প্রান্তের ব্যাটসম্যানদের জন্য একটা সমস্যা ছিল বিশাল বাউন্ডারি। বিপরীত দিক থেকে আসা বাতাসে আটকে যাচ্ছিল বল। ওদিক থেকে বড় শট খেলাটা তাই সহজ ছিল না এবং নিজেদের ব্যাটিংয়ের সময় বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরাও সেটা বুঝেছেন। চেষ্টা করেছেন ওই প্রান্ত থেকে উঁচু শট না খেলতে। কাজেই ‘বাঁহাতি স্পিনার–বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের’ তত্ত্ব মাথায় রেখেও এটা বলা যায় যে সাকিব বোলিং চালিয়ে গেলে তখন খুব বেশি ঝুঁকিতে পড়তেন না।

অন্য সময় বোলিং না পেলে সেটাকে স্বাভাবিকভাবে নেওয়া সাকিবও তাই পরশু ভীষণ হতাশ হয়েছেন। ব্যাট হাতে ভালো করেননি বলেই এদিন বল হাতে কিছু করে দেখানোর তাড়নাটা বেশি থাকার কথা ছিল তাঁর। অথচ বোলিংটাই পেলেন না সেভাবে।

default-image

সপ্তম ওভারে প্রথম বোলিংয়ে আসা সাকিবের বল হাতে পাওয়া উচিত ছিল আরও আগেই। নতুন বলে ইনিংসের প্রথম ওভারে উইকেট পাওয়া আরেক বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদকে দিয়ে পাওয়ার প্লেতে টানা তিন ওভার বোলিং করিয়েছেন অধিনায়ক। কিন্তু নিজের তৃতীয় ওভারে নাসুম ধরে রাখতে পারেননি প্রথম দুই ওভারের ধারাবাহিকতা। মায়ার্সের মারা একটি ছক্কা, একটি চারসহ ওই ওভারে দিয়েছেন ১১ রান। সাকিবকে তখনই বোলিংয়ে আনা হলে নতুন বোলার হিসেবে নিশ্চয়ই মায়ার্সও তাঁকে বুঝে খেলতে একটু সময় নিতেন।

আর বাঁহাতি–ডানহাতি তত্ত্বের কথা যদি বলেনই, সেটি অনুসরণ করার ক্ষেত্রেও ভুল ছিল এদিন। নাসুমের সঙ্গে ওপেনিং বোলিং জুটিতেই শেষ অফ স্পিনার শেখ মেহেদী হাসানের তিন ওভার। উল্টো দিকে বাঁহাতি মায়ার্স ছিলেন বলেই হয়তো, কিন্তু বাংলাদেশ দলের অলিখিত নীতি অনুযায়ী মায়ার্স–পুরানের বাঁহাতি জুটির সময়ই মেহেদীর দরকার ছিল বেশি। কিন্তু ততক্ষণে তাঁর হাতে আর মাত্র ১ ওভার। পরে মোসাদ্দেক হোসেনকে দিয়েও তাই করাতে হয়েছে পুরো চার ওভার বোলিং।

মজার ব্যাপার হলো সাকিব মাত্র ২ ওভার বোলিং পেলেও ‘অকেশনাল’ অফ স্পিনার মোসাদ্দেক তাঁর ১৮টি টি–টোয়েন্টিতে এ ম্যাচেই দ্বিতীয়বারের মতো ৪ ওভারের কোটা পূরণ করলেন। পরশুর আগে সর্বশেষ খেলা ৮ টি–টোয়েন্টির তিনটিতে তিনি বোলিংই করেননি। বাকি ৫ ম্যাচে করেছেন এক ওভার করে।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন