গম্ভীর ভারতীয় দলে অধিনায়কত্ব না করলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে ছিলেন প্রতিষ্ঠিত একজন অধিনায়ক। আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্স যে দুবার শিরোপার স্বাদ পেয়েছে, সেই দুবারই অধিনায়ক ছিলেন গম্ভীর।

২০১২ আইপিএল ফাইনালে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের মতো তারকা ক্রিকেটারকে বেঞ্চে বসিয়ে মানবিন্দর বিসলাকে খেলিয়েছিলেন তিনি। পরে সেই বিসলার ওপর ভর করেই প্রথম শিরোপা জেতে কলকাতা।

default-image

ফাটকা খেলতে দারুণ পটুই ছিলেন গম্ভীর। সবচেয়ে বড় কথা, তিনি কোনো খেলোয়াড়ের ভেতর লুকিয়ে থাকা সম্ভাবনাটা ভালোই বুঝতে পারতেন। গম্ভীরের সেই খেলোয়াড়ের সামর্থ্য বুঝতে পারার বড় উদাহরণ সুনীল নারাইনের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হয়ে ওঠা।

নারাইনের অবশ্য ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলার অভিজ্ঞতা ছিল। সেটি ২০১৭ আইপিএলের আগেই। মেলবোর্ন রেনেগেডসের হয়ে ২০১৬-১৭ বিগ ব্যাশ মৌসুমে তিনি ইনিংসের শুরু করেছিলেন।

সে ম্যাচে অবশ্য নারাইনের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলার একটা বিশেষ উদ্দেশ্য ছিল। সেটি হলো মেলবোর্ন স্টারসের লেফট আর্ম অর্থোডক্স মাইকেল বিয়ারের কার্যকারিতা কমানো। যদিও সেদিন তিনি সফল হননি।

তবে নারাইনের মধ্যে ব্যাটিংটা ছিলই। নিচের দিকে নেমে মোটামুটি মেরে খেলতে পারতেন তিনি। তাঁর বাবা চেয়েছিলেন, ব্যাটিংয়ের সামর্থ্যটা নারাইন বিশ্ব ক্রিকেটকে আরও ভালোভাবে দেখান।

এ ব্যাপারে বাবার কাছ থেকে প্রেরণাও মিলেছিল তাঁর, ‘আইপিএলে ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে সবাই জানত, আমি কিছুটা ব্যাটিং করতে পারি। আমার বাবার চাওয়া ছিল, পুরো বিশ্ব জানুক আমি ব্যাটিংটা বেশ ভালোই জানি। তাই আমার বাবার চলে যাওয়ার পর আমি ব্যাটিং নিয়ে আলাদাভাবে ১৮ মাস অনুশীলন করি।’

default-image

২০১৭ আইপিএলে ক্রিস লিনের সঙ্গে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে নেমে প্রায় প্রতি ম্যাচেই ঝড় তুলতেন নারাইন। সে আসরে তাঁর ব্যাট থেকে আসে ২২৪ রান। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে ১৫ বলে ফিফটিও হাঁকিয়েছিলেন তিনি, যা নারাইনকে বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন পরিচিতি এনে দেয়।

উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হওয়ার সে স্মৃতি আজও জ্বলজ্বলে নারাইনের, ‘গৌতম গম্ভীর আমাকে ওপেন করতে বলেছিল। দলকে ঝোড়ো শুরু এনে দেওয়ার দায়িত্ব সে আমাকে দিয়েছিল, যদি আমি আউট হয়ে যেতাম, তাতেও কোনো সমস্যা ছিল না।

ওপেনার হিসেবে নতুন হওয়ায় প্রতিপক্ষ কেউই আমাকে নিয়ে পরিকল্পনা করত না, গুরুত্বের সঙ্গে নিত না। আমি যতই ভালো খেলতে থাকি, কলকাতা ততই আমার প্রতি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছিল এবং আমাকে উৎসাহিত করেছিল।’

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন