ছক্কা খেয়েও বিশ্বাস ছিল, চারের পর নির্ঘুম রাত মোহিত শর্মার

গুজরাট টাইটানসের পেসার মোহিত শর্মা। আইপিএল ফাইনালে শেষ ওভারের শেষ দুই বলে দুঃস্বপ্ন দেখার পরছবি: টুইটার

আহমেদাবাদে পরশু আইপিএল ফাইনালে জয়ের জন্য শেষ ওভারে ১৩ রান দরকার ছিল চেন্নাই সুপার কিংসের। গুজরাট টাইটানসের পেসার মোহিত শর্মা শেষ ওভারের প্রথম ৪ বলে ৩ রান দিয়ে ম্যাচের পাল্লা নিজেদের পক্ষে টেনে এনেছিলেন। কিন্তু গড়বড় করে ফেলেন শেষ দুই বলে—ছক্কা ও চারে প্রয়োজনীয় ১০ রান তুলে চেন্নাইকে দুর্দান্ত জয় উপহার দেন রবীন্দ্র জাদেজা।

ক্রিজের অন্য প্রান্তে তখন ২১ বলে ৩২ রানে অপরাজিত ছিলেন শিবম দুবে। ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’–এর সঙ্গে শেষ ওভার এবং ওই দুই ডেলিভারি নিয়ে কথা বলেছেন মোহিত শর্মা, শিবম দুবে। শেষ দুই বলে কার কী ভাবনা ছিল, সেগুলোই বলেছেন তাঁরা।

আরও পড়ুন

শেষ ওভারে ব্যাটিংয়ের আগে জাদেজার সঙ্গে সলাপরামর্শ সেরেছেন দুবে। কী কথা হয়েছিল সতীর্থের সঙ্গে, এমন প্রশ্নের উত্তরে দুবে বলেন, ‘শেষ ওভারে আমরা কথা বলে সিদ্ধান্ত নেই, কোনোভাবে দুটি ভালো শট খেলতে পারলেই হবে। সেটা দুটি চার কিংবা দুটি ছক্কাতেই হয়ে যেতে। এখান থেকে আমরা হারব না, এই বিশ্বাসটা ছিল।’

রবীন্দ্র জাদেজা ও শিবম দুবে শেষ ওভারে জয় এনে দেন চেন্নাইকে
ছবি: আইপিএল

দুবে-জাদেজাদের পরিকল্পনা কাজে লাগলেও বড় ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সবার পরিকল্পনাই কিন্তু ফলে যায় না। শেষ ওভারে ওই শেষ দুটি ডেলিভারির আগে মোহিত শর্মার সঙ্গে কথা বলেছেন হার্দিক পান্ডিয়া। নিশ্চয়ই কোনো পরিকল্পনা ফেঁদেছিলেন! কিছুই কাজে লাগেনি। ভারতের হয়ে ২০১৫ বিশ্বকাপ খেলা মোহিত নেট বোলার থেকে উঠে এসেছেন আইপিএলের আলোয়। ‘ডেথ ওভারে’ বল করার অভিজ্ঞতায় পুষ্ট মোহিতের ওপরই ভরসা রেখেছিলেন গুজরাট অধিনায়ক। প্রথম চারটি ডেলিভারিতে আস্থার দারুণ প্রতিদান দিলেও শেষ দুটি বলে স্বপ্নভঙ্গ হয়।

শেষ ওভারে কীভাবে বোলিংয়ের পরিকল্পনা করেছিলেন জানিয়েছেন মোহিত শর্মা, ‘যা করতে চেয়েছিলাম, সে ব্যাপারে মাথা পরিষ্কার ছিল। নেটে এমন পরিস্থিতিতে বোলিং করেছি এবং আগেও এমন চাপের মধ্যে বল করেছি। নিজের সহজাত সামর্থ্যে ভরসা রেখে সব কটি বলই ইয়র্কার করতে চেয়েছিলাম।’

আরও পড়ুন

শেষ ওভারে মোহিতের প্রথম চারটি ডেলিভারিই ছিল ইয়র্কার কিংবা তার কাছাকাছি লেংথের। শিবম দুবেও মনে করেন, শেষ ওভারে মোহিতের প্রথম চারটি ডেলিভারি ছিল দুর্দান্ত, ‘আমাদের কোনো সুযোগ ছিল না। যেভাবে বল করেছে সে জন্য প্রশংসা প্রাপ্য মোহিত ভাইয়ের।’

চেন্নাই শেষ ২ বলে ১০ রানের সমীকরণের সময় মোহিতের সঙ্গে কথা বলেছেন গুজরাট অধিনায়ক পান্ডিয়া। তখন গুজরাটের আরও কয়েকজন খেলোয়াড় পাশেই ছিলেন। কী নিয়ে কথা হয়েছিল, এমন প্রশ্নের উত্তরে মোহিত বলেছেন, ‘তারা আমার পরিকল্পনাটা জানতে চেয়েছিল। বলেছিলাম, আমি আবারও ইয়র্কার করার চেষ্টা করব। লোকে এখন হয়তো অনেক কথা বলছে কিন্তু সত্যি বলতে কী করতে হবে সে বিষয়ে আমার পরিষ্কার ধারণা ছিল।’

চেন্নাইয়ের ইনিংসে শেষ ওভারের শেষ দুই বলে ১০ রান দেওয়ায় হার দেখতে হয় গুজরাটের মোহিতকে
ছবি: টুইটার

শেষ দুই বলের মুখোমুখি হওয়ার আগে জাদেজার মনে কী খেলা করেছে? ম্যাচ শেষেই সে কথা বলেছেন জাদেজা, ‘বল কোথায় পড়বে, তা ভাবিনি। জোরে ব্যাট চালানোর কথা ভেবেছি শুধু। সোজা চালানোর কথা ভেবেছি। কারণ, আমি জানতাম মোহিত স্লোয়ার করতে পারে।’

জাদেজার ওপর বিশ্বাস ছিল দুবের, ‘জাড্ডু (জাদেজা) ব্যাটে লাগাতে পারবে এই বিশ্বাস ছিল। ছক্কা মারার পর স্বস্তি লেগেছে। শেষ বলে ভাবনা ছিল ব্যাটে ভালোভাবে খেলতে না পারলে দৌড়ে তিন রান নিব। জানতাম ৩ রান নেওয়া কঠিন হবে কিন্তু যতটা দ্রুত সম্ভব দৌড়াতে চেয়েছিলাম। আর কিছু না পারলে ম্যাচটা টাই তো করতে হবে! কিন্তু জাড্ডু মেরে দিয়েছে।’

আরও পড়ুন

মোহিত শর্মা জানিয়েছেন, পঞ্চম বলে ছক্কা হজমের পরও তাঁর নিজের ওপর ভরসা ছিল। শেষ বলটা পায়ের পাতার ওপর ইয়র্কার লেংথে করতে চেয়েছিলেন মোহিত। কিন্তু পরিকল্পনামতো জায়গায় বল ফেলতে পারেননি। বলটা ফুলটস হয়ে জাদেজার প্যাডের ওপর ছিল। সেটি ব্যাটে খেলে ফাইন লেগ দিয়ে চার মারেন জাদেজা।

মোহিত জানিয়েছেন ম্যাচ মুঠো ফসকে গেলেও চেষ্টার কোনো ত্রুটি রাখেননি তিনি, ‘আবারও ইয়র্কার লেংথে বল করার চেষ্টা করেছিলাম। নিজের ওপর ভরসা ছিল। গোটা আইপিএলেই এটা করে এসেছি। কিন্তু বলটা যেখানে গিয়ে পড়েছে, সেখানে পড়ার কথা ছিল না এবং জাদেজাও ব্যাটে খেলেছে। আমি চেষ্টা করেছি, নিজের সেরাটাই দিয়েছিলাম।’

হারের পর গুজরাটের ড্রেসিংরুমের এক কোণে গিয়ে বসেছিলেন মোহিত শর্মা। কোচ আশিষ নেহরা গিয়ে তাঁকে সান্ত্বনা দেন। সেদিন রাতে ঘুমোতে পারেননি মোহিত, ‘একটুও ঘুমোতে পারিনি। ভেবেছি এই বলটা না করে ওটা করলে কী হতো? ভালো লাগছিল না।’

আরও পড়ুন