পাকিস্তানকে হারিয়ে সোবার্সকে জন্মদিনের উপহার ওয়েস্ট ইন্ডিজের
ত্রিনিদাদে ব্রায়ান লারা স্টেডিয়ামে সিরিজে প্রথম টেস্ট জিততে ২১১ রানের লক্ষ্য পেয়েছিল পাকিস্তান। টেস্টের চতুর্থ দিনে উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য একটু কঠিন হয়ে ওঠায় লক্ষ্যটা সহজ ছিল না। তাই বলে পাকিস্তান যে এতটা বাজে ব্যাট করবে তা জানত কে!
৭১ রানেই ৯ উইকেট পড়ায় এক শ করাই কঠিন হয়ে উঠেছিল পাকিস্তানের জন্য। শেষ উইকেট জুটিতে বাবর আজমের সঙ্গে মোহাম্মদ আব্বাসের ৪৯ রানের জুটিতে এক শ পেরোতে পেরেছে পাকিস্তান। তাতে অবশ্য সফরকারিদের টেস্ট ব্যাটিংয়ের কঙ্কাল বেরিয়ে আসাও আটকে থাকেনি। এক সেশনের একটু বেশি সময় ব্যাট করে ৪০.২ ওভারে মাত্র ১২০ রানে অলআউট হয় বাবর আজমের দল। গতকাল রাতে ৯০ রানের এ জয়ে দুই টেস্টের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
পোর্ট অব স্পেনে আগামী রোববার সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। টানা চতুর্থ হারের বোঝা পিঠে নিয়ে এই টেস্টে মাঠে নামবে বাবরের দল। সর্বশেষ ১৭ টেস্টের মধ্যে তাঁরা ১৩টিতে হেরেছে। প্রতিপক্ষের মাঠে এটি তাদের টানা অষ্টম টেস্ট হার। তাতে প্রতিপক্ষের মাটিতে পাকিস্তানের টানা সর্বোচ্চ টেস্ট হারের রেকর্ডটি আরও এক ধাপ বাড়ল। ঘরের বাইরে পাকিস্তান সর্বশেষ টেস্ট জিতেছে শ্রীলঙ্কায়, ২০২৩ সালের জুলাইয়ে।
চতুর্থ দিনের শুরু থেকেই বাজে খেলেছে পাকিস্তান। অষ্টম উইকেটে ৩৩ রানের জুটি গড়ে তৃতীয় দিন শেষ করা কেমার রোচ ও শামার জোসেফ সকালের সেশনে মূল্যবান কিছু রান যোগ করেন। একটি ক্যাচ ছাড়েন উইকেটকিপার মোহাম্মদ রিজওয়ান। ৩৮ রান করা জোসেফ আউট হওয়ার মধ্য দিয়ে ভেঙেছে এই জুটি। শেষ দুটি জুটি থেকে এসেছে আরও ২৭ রান। ১৮১ রানে অলআউট হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
২২ রানে ৫ উইকেট নেন পাকিস্তানের পেসার মোহাম্মদ আব্বাস। ১৯৯৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারে টেস্টের পর এই প্রথম প্রতিপক্ষের ২০টি উইকেটই নিলেন পাকিস্তানের পেসাররা।
কিন্তু ব্যাটসম্যানরা মোটেও ভালো করতে পারেননি। কিংবা অন্যভাবে বললে ক্যারিবিয়ান চার পেসারের সামনে দাঁড়াতে পারেনি পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা। তিনে নামা বাবর ছাড়া কোনো স্বীকৃত ব্যাটসম্যান ন্যূনতম প্রতিরোধ গড়তে পারেননি। শেষ পর্যন্ত অন্য প্রান্তে সঙ্গীর অভাবে ৫৮ রানে অপরাজিত থেকে যান বাবর। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৩ রান এসেছে এগারোতম ব্যাটসম্যান আব্বাসের কাছ থেকে। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা শান মাসুদ ভাঙা আঙুল নিয়ে আটে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩ রান করেন।
২০ রানে ৫ উইকেট ক্যারিবিয়ান পেসার জেডন সিলসের। ২টি করে উইকেট গ্রিভস ও রোচের। আগের দিন পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসে টানা ৫ ওভারে কোনো রান না দিয়ে প্রতি ওভারেই উইকেট নিয়েছিলেন গ্রিভস। চতুর্থ দিনে বোলিংয়ে এসে নিজের প্রথম দুই ওভারেই উইকেট নেন তিনি। পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে এই প্রথম ২০টি উইকেটই নিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসাররা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৩১১ ও ১৮১ (জোসেফ ৩৮, চন্দরপল ৩৫, গ্রিভস ২০, রোচ ১৮; আব্বাস ৫/২২, আলী ২/৫২, শাহজাদ ২/৫৪)।
পাকিস্তান: ২৮২ ও ১২০ (বাবর ৫৮*, আব্বাস ২৩, রিজওয়ান ১১; সিলস ৫/২০, গ্রিভস ২/১২, রোচ ২/২৭)।
ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৯০ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা: জাস্টিন গ্রিভস (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)।
সিরিজ: দুই টেস্টের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
টেস্ট ইতিহাসে এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো এক ম্যাচে ৪০ উইকেট নিলেন দুই দলের পেসাররা। ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে এমন ঘটনা এই প্রথম। আর সর্বশেষ ১১ টেস্টে এটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় জয়। তবে এই জয়টাকে বিশেষ কিছু মনে হতে পারে অন্য কারণে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ যে জয়টা পেয়েছে কয়েক দিন আগে প্রয়াত হওয়া কিংবদন্তি গ্যারি সোবার্সের জন্মদিনে!
জয়টা সোবার্সকে উৎসর্গও করেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক রোস্টন চেজ, ‘এই টেস্ট জিততে পেরে খুব ভালো লাগছে। আমরা (জয়টা) প্রয়াত কিংবদন্তি স্যার গারফিল্ড সোবার্সকে উৎসর্গ করতে চাই। তাকে গর্বিত করতে ম্যাচের আগেই এ বিষয়ে আমরা কথা বলেছি। আশা করি, ওপর থেকে তিনি তৃপ্তির হাসি হাসছেন। ত্রিনিদাদের সমর্থকদেরও ধন্যবাদ জানাতে চাই মাঠে এসে আমাদের পাশে থাকার জন্য।’