সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে এ ম্যাচে ভারতের জয় প্রত্যাশিতই ছিল। টি–টোয়েন্টিতে এই প্রথম মুখোমুখি ভারত–নেদারল্যান্ডস। গ্রুপ পর্ব উতরে আসা ডাচরা চ্যালেঞ্জ জানাবে কি, ভারতের বিপক্ষে খেলাটাই ‘স্বপ্ন ছিল’—এমন আবেশে ভাসছিল কদিন থেকে।

তবে প্রতিপক্ষের জন্য যেমনই হোক, ভারতের জন্য ছিল ব্যাটসম্যানদের ফর্মে ফেরার উপলক্ষ। যার কেন্দ্রে ছিলেন লোকেশ রাহুল, রোহিত শর্মা ও সূর্যকুমাররা।

রোহিত শর্মা টি-টোয়েন্টিতে সর্বশেষ ফিফটি পেয়েছিলেন এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। এরপর খেলা ৭ ম্যাচের দুটিতে ৪০ পার করেছেন। বাকি পাঁচ ম্যাচের মধ্যে তাঁর সর্বোচ্চ রান ১৭। রাহুলও পাকিস্তানের বিপক্ষে ছিলেন নড়বড়ে।

ডানহাতি এ ওপেনার অবশ্য ডাচদের বিপক্ষেও ডানা মেলতে পারেননি। আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তে এলবিডব্লু আউট হয়েছেন ৯ রান করে। তবে এরপরই ‘মনমতো’ ব্যাটিং পেয়েছে ভারত। কোহলিকে সঙ্গে নিয়ে ভারতকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান রোহিত।

১২তম ওভারের শেষ বলে যখন মিডউইকেট বাউন্ডারিতে ক্যাচ দেন, ততক্ষণে তুলে নিয়েছেন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজের নবম ফিফটি। ৩৯ বলে ৫৩ রানের ইনিংসটিতে ৪ চার আর ৩ ছয় ছিল রোহিতের।

১৩তম ওভারে ব্যাটিংয়ে নেমে ভারতের স্কোরবোর্ডে গতি এনে দেন সূর্যকুমার। তাল মেলান শুরুতে কিছুটা গুটিয়ে থাকা কোহলি। শেষ সাত ওভারে দুজনে যোগ করেন ৯৫ রান। কোহলি অপরাজিত থাকেন ৪৪ বলে ৬২ রান করে। ইনিংসের শেষ বলে ছয় হাঁকিয়ে সূর্যকুমার করেন ২৫ বলে ৫১ রান।

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এর আগে মাত্র দুবার একই দলের তিন ব্যাটসম্যান ফিফটি করেছিলেন। প্রথমবার ২০০৭ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের গৌতম গম্ভীর, যুবরাজ সিং ও বীরেন্দর শেবাগ।

দ্বিতীয়বার ২০১৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডেরই বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার কুইন্টন ডি কক, হাশিম আমলা ও জেপি ডুমিনিরা। টানা দ্বিতীয় ফিফটির পথে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসে ক্রিস গেইলকে টপকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও হয়ে গেছেন কোহলি। সবচেয়ে বেশি রান করা শ্রীলঙ্কার মাহেলা জয়বর্ধনে মাত্র ২৮ রান দূরে।

তবে নেদারল্যান্ডস ম্যাচে কোহলির সবচেয়ে বড় স্বস্তি রোহিত–সূর্যকুমারদের রান পাওয়ায়। চাপটা যে কমে গেল।