আইসিসি প্রতি সপ্তাহেই র্যাঙ্কিং হালনাগাদ করে। সেখানে কেউ নতুন করে শীর্ষে ওঠেন, কেউবা বছরের পর বছর আধিপত্য ধরে রাখেন। সাধারণত ব্যাটসম্যান ও বোলারদের ১ থেকে ১০০০ রেটিং পয়েন্টের স্কেলে মূল্যায়ন করা হয়। তবে অলরাউন্ডারদের জন্য মানদণ্ডটা ভিন্ন—তাঁদের ব্যাটিং ও বোলিং পয়েন্টের গুণফলকে ১০০০ দিয়ে ভাগ করে।
যার অর্থ হচ্ছে, একজন খেলোয়াড়কে অলরাউন্ডার র্যাঙ্কিংয়ে বেশি পয়েন্ট পাওয়ার জন্য ব্যাটিং ও বোলিং দুই বিভাগেই বেশি রেটিং পেতে হয়। যে কারণে একজন বোলার বা ব্যাটসম্যান সহজে ৬০০-৭০০ রেটিং ছুঁয়ে ফেললেও একজন অলরাউন্ডারের জন্য ৫০০ পয়েন্ট পাওয়াও পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ।
এই কঠিন সমীকরণ মিলিয়েই যাঁরা ইতিহাসের সেরা রেটিং পয়েন্ট অর্জন করেছেন, তাঁদের নিয়ে সাজানো হয়েছে এই শীর্ষ ১০ তালিকা।
রেটিং পয়েন্ট: ৩২৮
প্রতিপক্ষ: দক্ষিণ আফ্রিকা (২০২৬)
চলমান টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের মধ্যেই ৩২৮ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠেছেন জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজা। যে ম্যাচের পারফরম্যান্সে তাঁর রেটিং এই পর্যায়ে গেছে, সেটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ব্যাট হাতে করেন ৪৩ বলে করেন ৭৩, বল হাতে ২৯ রানে নেন ৩ উইকেট। সুপার এইটের ম্যাচটিতে জিম্বাবুয়ে হেরে যাওয়ার পরও অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের কারণে ম্যাচসেরা হন রাজা। আইসিসির পূর্ণ সদস্যদেশগুলোর মধ্যে রাজাই প্রথম ক্রিকেটার, যিনি ৩০০০ রান ও ১০০ উইকেটের ‘ডাবল’ মাইলফলক স্পর্শ করেছেন।
রেটিং পয়েন্ট: ৩৩৭
প্রতিপক্ষ: ভারত (২০১২)
ডেভিড হাসি মূলত ব্যাটসম্যান হলেও পার্ট-টাইম বোলিং দিয়েই অলরাউন্ডার র্যাঙ্কিংয়ের চূড়ায় উঠেছিলেন। ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের বিপক্ষে সিরিজের পর তিনি ৩৩৭ রেটিং পয়েন্ট অর্জন করেন। সে বছর বল হাতেও দারুণ কিপটে ছিলেন তিনি, ওভারপ্রতি খরচ ছিল ৬-এরও কম রান।
রেটিং পয়েন্ট: ৩৬১
প্রতিপক্ষ: বাংলাদেশ (২০১৯)
২০১৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে বেশ কয়েকবার টি-টুয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বর অলরাউন্ডার হয়েছিলেন মোহাম্মদ নবী। এর মধ্যে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে শীর্ষে ছিলেন ৩৬১ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে। সে বার ১৫ সেপ্টেম্বর মিরপুরে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৫৪ বলে ৮৪ রানের ইনিংস খেলার পর তাঁর এই রেটিং হয়েছিল। পরে ২০২১ সালের নভেম্বর থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক নম্বরে থাকলেও তখন তাঁর এত রেটিং হয়নি।
রেটিং পয়েন্ট: ৩৬৩
প্রতিপক্ষ: অস্ট্রেলিয়া (২০১৩)
টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটের শুরুর দিকের অন্যতম ‘পোস্টার বয়’ যুবরাজের কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ২০০৭ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে স্টুয়ার্ট ব্রডের এক ওভারে ছয় ছক্কার সেই দৃশ্য। এই সংস্করণে আইসিসির ব্যাটিং র্যাঙ্কিংয়ে ৮০০ রেটিং ছোঁয়া প্রথম ব্যাটসম্যানও তিনি। ২০১৩ সালের অক্টোবরে রাজকোটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অপরাজিত ৩৫ বলে ৭৭ রানের ইনিংস খেলে অলরাউন্ডার হিসেবে নিজের সর্বোচ্চ ৩৬৩ রেটিংয়ে পৌঁছান। সেই ম্যাচের পর তার ব্যাটিং রেটিং ছিল ৭০০-এর বেশি, বোলিং রেটিং ৫০০-এর বেশি।
রেটিং পয়েন্ট: ৩৬৬
প্রতিপক্ষ: নিউজিল্যান্ড (২০১০)
নব্বইয়ের দশকে ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কার বদলে যাওয়ার অন্যতম কারিগর ছিলেন সনাৎ জয়াসুরিয়া। তাঁর আক্রমণাত্মক ধারার ব্যাটিং পরবর্তী সময়ে টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটের জন্যও আদর্শ হয়ে ওঠে। জয়াসুরিয়া সব মিলিয়ে মাত্র ৩১টি টি-টুয়েন্টি খেললেও শীর্ষ ১০ অলরাউন্ডার তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন ওই স্বল্প সময়েই। ২০১০ সালের এপ্রিলে তাঁর ২৪তম ম্যাচের পর জয়াসুরিয়ার পরিসংখ্যান ছিল—২৭ গড়ে ৬০৬ রান এবং ২৩ গড়ে ১৭ উইকেট; রেটিং উঠে যায় ৩৬৬-তে।
রেটিং পয়েন্ট: ৩৭৫
প্রতিপক্ষ: শ্রীলঙ্কা (২০১৬)
গ্লেন ম্যাক্সওয়েল এখনো খেলা ছাড়েননি। অস্ট্রেলিয়ার এই ব্যাটিং অলরাউন্ডার ইদানীং বোলিং কমই করেন। ২০১৬ সালে শ্রীলঙ্কা সিরিজে টানা দুই ম্যাচে অপরাজিত ১৪৫ ও ৬৬ রানের ইনিংস খেলে অলরাউন্ডার র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠেছিলেন ম্যাক্সওয়েল। তখন তাঁর রেটিং পয়েন্ট ছিল ৩৭৫।
রেটিং পয়েন্ট: ৪২০
প্রতিপক্ষ: পাকিস্তান (২০১৫)
২০২০ করোনা মহামারির বছর বাদ দিলে ২০১৪ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে প্রতিবছরই অন্তত একবার হলেও টি-টুয়েন্টি অলরাউন্ডার র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ছিলেন সাকিব আল হাসান। এর মধ্যে ২০১৫ সালের এপ্রিলে পাকিস্তান সিরিজের সময় তাঁর রেটিং উঠেছিল সর্বোচ্চ ৪২০ পর্যন্ত।
রেটিং পয়েন্ট: ৪৩৭
প্রতিপক্ষ: নিউজিল্যান্ড (২০০৯)
বিধ্বংসী ব্যাটিং আর কার্যকর লেগ স্পিন—শহীদ আফ্রিদি যেন ছিলেন টি-টুয়েন্টির আদর্শ প্যাকেজ। ২০০৯ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ১৭৬ রান ও ১১ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানকে শিরোপা জেতাতে বড় ভূমিকা রাখেন। সেই বছরের শেষ দিকে নিউজিল্যান্ড সফরে ক্যারিয়ার–সর্বোচ্চ ৪৩৭ রেটিং পয়েন্ট স্পর্শ করেন।
রেটিং পয়েন্ট: ৪৫২
প্রতিপক্ষ: শ্রীলঙ্কা (২০১৩)
মূলত ব্যাটসম্যান ছিলেন, শুরুর দিকে অফ স্পিন করতেন খণ্ডকালীন হিসেবে। তবে বল হাতে ধারাবাহিকতা একপর্যায়ে তাঁকে শীর্ষ অলরাউন্ডারে পরিণত করে। ২০১৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের সুবাদে ৪৫২ রেটিং পয়েন্ট তোলেন ‘প্রফেসর’ নামে পরিচিত এই অলরাউন্ডার।
রেটিং পয়েন্ট: ৫৬৬
প্রতিপক্ষ: দক্ষিণ আফ্রিকা (২০১২)
শীর্ষ দশে থাকা একমাত্র পেস-বোলিং অলরাউন্ডার এবং একমাত্র খেলোয়াড় যাঁর রেটিং ৫০০ ছাড়িয়েছে। ২০১২ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত টানা এক বছরের বেশি সময় ৪০০-এর ওপর রেটিং ধরে রেখেছিলেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৭০ রান ও ২ উইকেট নিয়ে যখন ৫৬৬ পয়েন্টের চূড়ায় পৌঁছান, তখন তাঁর ব্যাটিং রেটিং ছিল ৮৪৭, বোলিং রেটিং ৬৬৯।