সাকিব সৌদি আরবে কেন গেলেন
দেশের ক্রিকেটে হঠাৎই আবার আলোচনায় সাকিব আল হাসান। গতকাল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জানিয়েছে, দেশে ও দেশের বাইরে জাতীয় দলের হয়ে খেলার জন্য আবারও বিবেচিত হবেন এই অলরাউন্ডার।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে দেশে ফিরতে না পারা এই ক্রিকেটারকে আবারও বিবেচনায় নেওয়ার খবরে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। কিন্তু যে সাকিবকে নিয়ে আলোচনা, তিনি এখন কোথায় কী করছেন? খেলার মধ্যে আছেন তো?
হ্যাঁ, খেলার মধ্যেই আছেন সাকিব। ৩৮ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার সর্বশেষ খেলেছেন সৌদি আরবের ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট ফেস্টিভ্যালে। এর আয়োজক সৌদি আরব ক্রিকেট ফেডারেশন। ২০ জানুয়ারি শুরু হয়ে ১০ দলের টুর্নামেন্টটি শেষ হয় ২৩ তারিখে। টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ নামের একটি দলের হয়ে খেলেন সাকিব।
টুর্নামেন্টে খেলেছেন আরও বিশ্ব ক্রিকেটের আরও কয়েকজন তারকা, যদিও তাঁদের বেশির ভাগই জাতীয় দলের আশপাশেও নেই। এই খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিলেন পাকিস্তানের শোয়েব মালিক, দক্ষিণ আফ্রিকার ইমরান তাহির, শ্রীলঙ্কার ইসুরু উদানা ও জীবন মেন্ডিস, ভারতের স্টুয়ার্ট বিনি ও ইরফান পাঠান ও অস্ট্রেলিয়ার বেন কাটিংসহ অনেকে। টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইংল্যান্ড। তবে এটি স্বীকৃত কোনো টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট ছিল না।
সাকিব সর্বশেষ স্বীকৃত টি-টুয়েন্টি খেলেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইএল টি–টুয়েন্টিতে। সেখানে এমআই এমিরেটসের হয়ে ৮ ম্যাচে বল হাতে ৩ উইকেট আর ব্যাট হাতে ১১৫ রান করেন বাংলাদেশ দলের এই সাবেক অধিনায়ক।
২০২৫ সালে বেশ কটি লিগেই খেলেছেন সাকিব। পাকিস্তানের পিএসএল, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সিপিএল থেকে ১০ ওভারের খেলার টুর্নামেন্ট আবুধাবি টি টেন লিগেও খেলেছেন। তবে কোনো টুর্নামেন্টেই ব্যাটে বলে ওই অর্থে সেরা ছন্দে ছিলেন না।
যেমন সিপিএলে ১১ ম্যাচের ১০ ইনিংসে রান ছিল ২০ গড়ে ১৮০, বল হাতে ৮.৩০ ইকোনমি রেটে উইকেট ৬টি। তবে পুরো টুর্নামেন্টে সাকিবকে দিয়ে এবার মাত্র ২৩ ওভার বল করানো হয়েছে। বোলিং কোটা পূরণ করেছেন মাত্র দুটি ম্যাচে। অন্য লিগগুলোতেও প্রায় একই চিত্র।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে মাগুরা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সাকিব। ওই বছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি আর দেশে ফিরতে পারেননি। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে সর্বশেষ ভারতের কানপুরে সাকিব দেশের হয়ে মাঠে নামেন।