ক্রিকেটে সে নিয়ম নেই। অ্যাডিলেড ওভালে আজ বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায় শুরু টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে টস করতে নামতেই হবে ভারত ও ইংল্যান্ডের অধিনায়ককে। টসে ভাগ্যপরীক্ষার পর অবশ্য আর ব্যাটে–বলের লড়াই না হলেও চলে!

কারণ, টি–টোয়েন্টিতে অ্যাডিলেড ওভালে টসজয়ী দল আজ পর্যন্ত জিততে পারেনি। রোহিত ও বাটলার তাই একে–অপরকে বলতেই পারেন, টসের কী দরকার, নিজেদের মধ্যে কথা বলে ব্যাটিং–বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলেই তো হয়!

অ্যাডিলেডের এই ভূতুড়ে পরিসংখ্যান নিশ্চয়ই অবাক করেছে দুই দলকে। আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টিতে এখন পর্যন্ত ১১টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে অ্যাডিলেড ওভালে। এর একটি ম্যাচেও টসজয়ী দল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি।

এবারের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপেই খেয়াল করুন। আজ সেমিফাইনালের আগপর্যন্ত ছয়টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম দর্শনীয় এই স্টেডিয়ামে। জিম্বাবুয়ে, বাংলাদেশ, আয়ারল্যান্ড, আফগানিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকা এই মাঠে টস জিতে হার নিয়ে মাঠ ছেড়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ নিজেদের খেলা দুটি ম্যাচেই টস জিতে ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে হেরেছে।

বাকি ৪ ম্যাচের মধ্যে জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড, আফগানিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকা টস জিতে হেরেছে যথাক্রমে নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। ডাচদের বিপক্ষে এই মাঠে টস জিতে হেরেছে জিম্বাবুয়ে ও দক্ষিণ আফ্রিকা।

এই মাঠে বাংলাদেশ–পাকিস্তান সর্বশেষ ম্যাচের আগে ডাচদের বিপক্ষে টস জিতে ১৩ রানে হেরেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই হারেই সেমিফাইনালে ওঠার পথ খুলেছিল বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের। এই দুই দলের মধ্যে যে জিতবে, সেই দলই উঠত সেমিফাইনালে। এমন ম্যাচে বাংলাদেশ জিতল টস আর পাকিস্তান ম্যাচ।

২০১১ সালে ইংল্যান্ড দলের অস্ট্রেলিয়া সফরে টি–টোয়েন্টি সিরিজে এই সংস্করণে অভিষেক ঘটে অ্যাডিলেড ওভালের। অস্ট্রেলিয়া সে ম্যাচে টস জিতে ইংল্যান্ডের কাছে ১ উইকেটে হেরেছিল। তিন বছর বিরতির পর ২০১৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও টস জিতে হারে অস্ট্রেলিয়া।

এরপর ২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৯ সালে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই মাঠে টস জিতে হেরেছে অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কা। একটু বুঝিয়ে বলা দরকার। ২০১৬ সালে ভারতের কাছে হারে অস্ট্রেলিয়া। পরের দুই বছরে দুটি ম্যাচেই অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরেছে শ্রীলঙ্কা। এই তিন ম্যাচেই হেরে যাওয়া দল টস জিতেছিল।

তাই, আজ অন্তত রোহিত কিংবা বাটলার—কেউ টস জিততে চাইবেন না!