ব্রিসবেনে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ৬৫ রানের লক্ষ্য দিতে পারল ইংল্যান্ড

ক্যারির উল্লাস, স্টোকসের হতাশাএএফপি

প্রথমে স্টিভ স্মিথ, এরপর অ্যালেক্স ক্যারি!

ব্রিসবেন টেস্টের চতুর্থ দিনে উইকেটের দেখা নেই! সিরিজে প্রথমবারের মতো কোনো এক সেশনে উইকেট হারায়নি কোনো দল। দ্বিতীয় সেশনেও লড়াই করছেন বেন স্টোকস ও উইল জ্যাকস। সপ্তম উইকেট এই দুজনের জুটি থেকে এসে গেছে ৯৬ রান। সবচেয়ে বড় কথা দুজনে মিলে খেলেছেন ২২০ বল। জুটি ভাঙতে বিশেষ কিছু করারই প্রয়োজন ছিল অস্ট্রেলিয়ার। করেছেও। মাইকেল নেসারের বলে স্লিপে বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে অসাধারণ এক ক্যাচে ৪১ রান করা জ্যাকসকে ফেরান স্মিথ।

জ্যাকস ফেরার পরও অস্ট্রেলিয়ার স্বস্তি নেই! কীভাবে থাকবে, উইকেটে যে তখনো ছিলেন স্টোকস। লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের নিয়ে তিনি কী করতে পারেন, সেটা কী অস্ট্রেলিয়া ভুলে গেছে নাকি। ফিফটি করা স্টোকসকে ফেরানোর দায়িত্ব নিলেন নেসার, এবার সঙ্গী ক্যারি। ঘণ্টায় ১৩০-১৩৫ কিলোমিটার গতির বলে শর্ট কিপিং করে যেভাবে স্টোকসের ক্যাচটা ক্যারি লুফে নিলেন, সেটাকে দুর্দান্ত না বলে উপায় কী!

শুধু এই ক্যাচটিই নয়! পুরো ম্যাচে দুর্দান্ত কিপিং করেছেন ক্যারি। কখনো স্কট বোল্যান্ড, কখনো নেসারের বলে প্রয়োজন হলেই স্টাম্পের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। বলের অসমান বাউন্সও তাঁর হাত ফসকাতে পারেনি। ইংল্যান্ডের শেষ উইকেটটিও নিয়েছেন নেসার। ঘরের মাঠে দলে এসে তিনি নিয়েছেন ৫ উইকেট।

স্মিথদের এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ইংল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংসে গুটিয়ে গেছে ২৪১ রানে। ব্রিসবেনে তাতে অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে ৬৫ রানের।

১৭৭ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করতে নামা ইংল্যান্ডের হয়ে কেউ বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। দুই ওপেনার বেন ডাকেট ও জ্যাক ক্রলি ৭.৪ ওভারে ৪৮ রানের জুটি গড়ে শুরুটা ভালোই করেন।

ডাকেট ফিরলেও একটা পর্যায়ে ইংল্যান্ড ১ উইকেটে ৯০ রান তোলে। তবে পরের ৩৮ রান তুলতে কাল দিনের শেষদিকে ৬ উইকেট হারায় স্টোকসের দল। সেখান থেকে ৯৬ রানের জুটি গড়েন স্টোকস ও জ্যাকস। ইনিংসে ৭০তম ওভারে ২২৪ রানে জ্যাকস ফিরলে পরের ৩ উইকেট যেতেও তাদের সময় লাগেনি। শেষ ৪ উইকেট ইংল্যান্ড হারিয়েছে ১৭ রানে।