জিম্বাবুয়ের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলও ভারতে আটকা পড়েছে

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলআইসিসি

টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম দল হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধের কারণে পশ্চিম এশিয়ার আকাশসীমা বন্ধের শিকার হয়েছে জিম্বাবুয়ে। গত রোববার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নিজেদের শেষ ম্যাচটি খেলার পর দেশে ফিরতে পারেনি জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দল। আপাতত তাঁদের ভারতেই থাকতে হচ্ছে এবং কবে দেশে ফিরতে পারবে তা এখনো অনিশ্চিত।

একই কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলকেও ভারত ছাড়ার সময়সূচি পেছাতে হয়েছে। ‘উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক তৎপরতার জেরে সৃষ্ট নিরাপত্তাঝুঁকি’র কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড (সিডব্লিউআই)।

সিডব্লিউআইয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘দল ও সহায়ক স্টাফদের জন্য যত দ্রুত সম্ভব নিরাপদ ভ্রমণের ব্যবস্থা করতে আমরা আইসিসি, সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ এবং এয়ারলাইনস অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি। আমাদের খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ও সুস্থতাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘দল বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছে এবং সবাই নিরাপদ ও সুস্থ আছেন। পরিস্থিতির ওপর আমরা নিবিড় নজর রাখছি। ভ্রমণসংক্রান্ত চূড়ান্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত হলে পরবর্তী হালনাগাদ তথ্য জানানো হবে।’

জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দল
এএফপি

ভারত ও শ্রীলঙ্কায় চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দলগুলোর খেলা শেষ হওয়ার পর তাদের দেশে ফেরাতে বিকল্প পথ খুঁজছেন আয়োজকেরা। জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট থেকে বাদ পড়েছে।

ইএসপিএনক্রিকইনফোর তথ্য অনুযায়ী, জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দলের সদস্যদের ধাপে ধাপে দেশে ফেরার কথা ছিল। দলের একটি অংশের সোমবার ভোর সাড়ে চারটায় রওনা দেওয়ার কথা ছিল, বাকি সদস্যরা পরে যেতেন। তাঁদের জন্য এমিরেটসের ফ্লাইটে দিল্লি থেকে দুবাই হয়ে হারারেতে যাওয়ার টিকিট কাটা ছিল।

আরও পড়ুন

তবে এখন বিকল্প এয়ারলাইনস ও রুট বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। জিম্বাবুয়ে দলের জন্য ৪ মার্চ পর্যন্ত দিল্লির হোটেল বুকিং করা হয়েছে।

দলের ভ্রমণ-পরিকল্পনা নিয়ে স্পষ্টতা এসেছে কি না—এমন প্রশ্নে জিম্বাবুয়ের কোচ জাস্টিন সিমন্স বলেন, ‘না, আমি এমন কিছু শুনিনি। যখন খেলা শুরু করি, তখন কিছু জানা ছিল না। এখনো পুরো মনোযোগ ম্যাচেই, এর পর থেকে নতুন কিছু শুনিনি।’
গত শনিবার সুপার এইটে নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ে পাকিস্তান। শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে করে কলম্বো থেকে লাহোরে ফিরেছে পাকিস্তান দল।

দেশে ফিরেছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল
আইসিসি

শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় জড়িয়ে পড়ে। এর জেরে পশ্চিম এশিয়ার কয়েকটি দেশের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে ওই অঞ্চলে বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে এবং একাধিক এয়ারলাইনসকে ফ্লাইট বাতিল কিংবা রুট পরিবর্তন করতে হয়েছে।

আইসিসি শনিবার বিবৃতিতে জানায়, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ‘সংশ্লিষ্ট সবার ভ্রমণ, লজিস্টিকস ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত বিকল্প পরিকল্পনা’ সক্রিয় করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

আইসিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট টুর্নামেন্ট আয়োজনের ওপর সরাসরি কোনো প্রভাব ফেলছে না। তবে আইসিসি স্বীকার করছে, খেলোয়াড়, দল পরিচালনা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা, ম্যাচ কর্মকর্তারা, সম্প্রচারকর্মী, ইভেন্ট স্টাফসহ উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ নিজ নিজ দায়িত্ব শেষ করে দেশে ফেরার পথে উপসাগরীয় অঞ্চলের হাব বিমানবন্দরগুলোর ওপর নির্ভর করেন। বিশেষ করে দুবাইকে (ডিএক্সবি) গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট হিসেবে তারা ব্যবহার করেন।’

দুবাইয়ে অবস্থিত আইসিসি সদর দপ্তর
আইসিসি

আইসিসির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আইসিসির ভ্রমণ ও লজিস্টিকস দল আন্তর্জাতিক বড় এয়ারলাইনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে বিকল্প রুট খুঁজে বের করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এর মধ্যে ইউরোপ, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার হাবগুলো দিয়ে সংযোগ-রুট ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। আইসিসির নিরাপত্তা পরামর্শকেরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং পরিস্থিতির পরিবর্তন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেওয়া হবে। এ ছাড়া একটি বিশেষ আইসিসি ভ্রমণ–সহায়তা ডেস্কও চালু করা হয়েছে।’