‘সমস্যার বিপিএল’ আর করতে চায় না বিসিবি

বিপিএল ট্রফি হাতে পেয়ে নাজমুলের হাসিশামসুল হক

বিপিএল মানেই সমস্যা, বিতর্ক আর সমালোচনা। ২০১২ সালে শুরুর পর প্রথম দু–এক আসর বাদ দিলে বছরের পর বছর ফ্র্যাঞ্চাইজি এই টুর্নামেন্টটি শুধু দেশের ক্রিকেটের জন্য দুর্নামই বয়ে আনছে। তামিম ইকবালের বর্তমান বোর্ড তাই নতুন করে আর ‘দুর্নাম’ কুড়াতে চাইছে না। সরে আসতে চাইছে বিপিএল আয়োজন থেকে।

বিসিবির দায়িত্বশীল একটি সূত্র গতকাল প্রথম আলোকে জানিয়েছে, বোর্ড সমস্যাসংকুল বিপিএল আর করবে না। এ বিষয়ে বেশির ভাগ পরিচালক একমত। তাঁরা চান, দুর্বল ফ্র্যাঞ্চাইজিদের নিয়ে দেশের জন্য দুর্নাম কুড়ানো ও বিসিবির ওপর আর্থিক দায়ভার চাপানো টুর্নামেন্টটি থেকে সরে আসতে। নতুন করে যদি টুর্নামেন্টটি হয়ও, তার আগে এটিকে পুরোপুরি বিতর্কের বিষমুক্ত করতে চায় বোর্ড। অতীতে যেসব কারণে বিপিএল সমালোচিত হয়েছে এবং দেশের ক্রিকেটের জন্য বদনাম কুড়িয়েছে; সেসব দূর করার আগ পর্যন্ত টুর্নামেন্টটি আর না–ও হতে পারে। বিপিএলের পরবর্তী আসর হওয়ার কথা ছিল আগামী ডিসেম্বরে।

স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগ প্রায় প্রতি বিপিএলেই ওঠে; সঙ্গে স্থানীয় ও বিদেশি খেলোয়াড়দের বকেয়া পাওনা, বিসিবি–ফ্র্যাঞ্চাইজি সম্পর্কে টানাপোড়েন, ভালো প্রতিষ্ঠানের ফ্র্যাঞ্চাইজি না হওয়া এবং ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর অপেশাদার আচরণ মিলিয়ে বিপিএলের দুর্নাম ছড়িয়ে পড়েছে ক্রিকেট–বিশ্বে। এই টুর্নামেন্ট চিহ্নিত হয়ে গেছে ‘সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট’ হিসেবেও।

বিপিএলের ২০২৪ সালের আসরে ওঠা স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগ তদন্তে আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দারকে প্রধান করে গঠিত কমিটির রিপোর্টেও বেশ কিছু সমস্যা উল্লেখ করে সুপারিশ করা হয়েছে, পরবর্তী আসর আয়োজনের আগে যেন সব সমস্যা দূর করা হয়। যদিও তা না করেই আয়োজিত হয়েছে গত বিপিএল। এখনো আলোর মুখ দেখেনি স্পট ফিক্সিংয়ের তদন্ত প্রতিবেদনও।

বিসিবিও এখন বিপিএল নামক এই বিতর্কের বোঝা বইতে চাইছে না। এ ক্ষেত্রে অবশ্য দুই রকম চিন্তাই আছে বলে জানিয়েছে বোর্ডের একটি সূত্র। প্রথমত, এবারের বিপিএল স্থগিত রেখে ভালো ফ্র্যাঞ্চাইজিদের এনে ও বিরাজমান সমস্যা দূর করে আগামীবার থেকে নতুনভাবে শুরু করা। খেলোয়াড়েরা যেন আর্থিকভাবে খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে জন্য প্রয়োজনে বিপিএলের সময়ে এনসিএল টি–টুয়েন্টি বা অন্য কোনো ঘরোয়া টি–টুয়েন্টি টুর্নামেন্ট আয়োজন করা।

দ্বিতীয় চিন্তা, ভবিষ্যতে ‘বিপিএল’ নামেই আর কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজন না করা। ব্র্যান্ড হিসেবে ‘বিপিএল’ নামটার যেহেতু নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়ে গেছে, এই নাম বাদ দিয়ে নতুন নামে নতুনভাবে একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট শুরু করা। সে ক্ষেত্রে এ বছর বিপিএল হবে না। নতুন টুর্নামেন্টটিকে ভালোভাবে শুরু করতে প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ট সময় নিতে পারে বিসিবি। আজ বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটির সমন্বয় সভায় এ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।

বিসিবির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিচালক বিপিএলের নেতিবাচক দিক তুলে ধরে বলেছেন, ‘বিপিএলে এমনও হয়, এক–দুটি দলের প্রায় পুরো প্লেয়ার্স পেমেন্ট বিসিবিকে করতে হয়। ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকেরা ইচ্ছেমতো দামে খেলোয়াড়দের ডেকে নেয়। ৫ লাখ টাকার খেলোয়াড়কে ৫০ লাখ টাকায় ডেকে পরে টাকা দেয় না। এসব দায় ক্রিকেট বোর্ডের কাঁধে ফেলে চলে যায়। আবার টিভি স্বত্ব বিক্রি করে যে টাকা আসে, তার প্রায় পুরোটাই চলে যায় প্রোডাকশন কস্টে। এই বিপিএল করে লাভ কী?’

বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ফাহিম সিনহা অবশ্য এখনো আশাবাদী, বিপিএল হবে। তবে তাঁর কথায় অন্য সুরও আছে, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব ভালো ফ্র্যাঞ্চাইজিদের নিয়ে টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে। না পারলে তখন হয়তো একটা সিজন ব্রেক দেব।’ সঙ্গে জানিয়েছেন, ভালো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এবার ফ্র্যাঞ্চাইজি নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ভবিষ্যতে ‘বিপিএল’–এর নাম বদলে যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিয়েছেন গভর্নিং কাউন্সিল প্রধান।

আরও পড়ুন