দুই শহরে দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে হবে পিএসএল, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ
পশ্চিম এশিয়া বা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার প্রভাব এবার পড়ল ক্রিকেট মাঠে। বড় কোনো অঘটন এড়াতে ও উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ২০২৬ আসর দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। শুধু তা–ই নয়, ছয়টি ভেন্যুর বদলে পুরো টুর্নামেন্ট গুটিয়ে আনা হয়েছে মাত্র দুটি শহরে। লাহোরে হতে যাওয়া জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটিও বাতিল করা হয়েছে।
এবারের পিএসএলে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের পাঁচজন ক্রিকেটারের খেলা চূড়ান্ত হয়েছে—তাঁরা হলেন মোস্তাফিজুর রহমান, পারভেজ হোসেন, শরীফুল ইসলাম, নাহিদ রানা ও রিশাদ হোসেন।এ ছাড়া ওপেনার তানজিদ হাসানের সঙ্গেও পেশোয়ার জালমির কথাবার্তা চলছে বলে জানা গেছে।
পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি জানিয়েছেন, টুর্নামেন্টের সব ম্যাচ করাচি ও লাহোরে অনুষ্ঠিত হবে। তবে টুর্নামেন্টের শেষভাগে গ্যালারিতে দর্শক ফেরার একটি ক্ষীণ সম্ভাবনা জিইয়ে রেখেছেন তিনি। তবে সেটি পুরোপুরি নির্ভর করছে ইরানের বর্তমান পরিস্থিতির ওপর। নাকভি বলেন, ‘হয়তো ১০ দিন বা ১৫ দিনের মধ্যে এই সংকটের সমাধান হবে। তখন আমরা পরিস্থিতি বিবেচনা করব।’
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ফলে বিশ্বজুড়ে যে তেলের সংকট তৈরি হয়েছে, তার বড় ধাক্কা লেগেছে পাকিস্তানে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় দেশটিতে জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে নাকভি বলেন, ‘জ্বালানি–সংকটের কারণে প্রধানমন্ত্রী পুরো দেশের মানুষকে চলাফেরা সীমিত করার অনুরোধ জানিয়েছেন। আমরা স্কুল বন্ধ রেখেছি, হোম অফিস চালু করেছি এবং ঈদের ছুটিও বাড়িয়েছি। আমরা জানি না এই যুদ্ধ কত দিন চলবে।’
যেখানে দেশের মানুষকে চলাফেরা সীমিত করতে বলা হচ্ছে, সেখানে প্রতিদিন ৩০ হাজার মানুষকে মাঠে আসার আমন্ত্রণ জানানো স্ববিরোধী। যতক্ষণ এই সংকট চলছে, আমরা দর্শক ছাড়াই খেলা চালাব। সিদ্ধান্তটি কঠিন ছিল, কিন্তু এর বিকল্প ছিল না।মহসিন নাকভি, পিসিবি চেয়ারম্যান
গ্যালারি কেন খালি থাকবে, তার ব্যাখ্যায় পিসিবির প্রধান বলেন, ‘নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর আমরা সূচি অনুযায়ী পিএসএল চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কিন্তু যেখানে দেশের মানুষকে চলাফেরা সীমিত করতে বলা হচ্ছে, সেখানে প্রতিদিন ৩০ হাজার মানুষকে মাঠে আসার আমন্ত্রণ জানানো স্ববিরোধী। যতক্ষণ এই সংকট চলছে, আমরা দর্শক ছাড়াই খেলা চালাব। সিদ্ধান্তটি কঠিন ছিল, কিন্তু এর বিকল্প ছিল না।’
দর্শক না থাকায় ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হবে। নাকভি আশ্বস্ত করেছেন, পিসিবি এই ক্ষতির ভার নেবে এবং যারা আগে টিকিট কিনেছিলেন, তাঁদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। বিশেষ করে পেশোয়ারের মতো শহর, যারা একটি ম্যাচ (২৮ মার্চ) আয়োজনের অপেক্ষায় ছিল, তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি।
২৬ মার্চ পর্দা উঠবে পিএসএলের এবারের আসরের, আর আগামী ৩ মে ফাইনালের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ টুর্নামেন্ট।