বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে ইঙ্গিত করে জয় শাহ—‘কোনো দলই আইসিসির চেয়ে বড় নয়’

আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহইনস্টাগ্রাম

সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর আগে অংশগ্রহণকারী দল ও আয়োজন নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, সে প্রসঙ্গে অবশেষে মুখ খুলেছেন আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ। তিনি বলেছেন, কোনো নির্দিষ্ট দল নয়, আইসিসিই সবার ওপরে।

শনিবার মুম্বাইয়ে আয়োজিত ‘ইন্ডিয়া বিজনেস লিডার অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’-এ জয় শাহকে ক্রিকেটে বিশেষ অবদানের জন্য ‘আউটস্ট্যান্ডিং কন্ট্রিবিউশন টু স্পোর্টস’ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। সেই অনুষ্ঠানেই তিনি বিশ্বকাপের চ্যালেঞ্জ ও সাফল্যের কথা তুলে ধরেন।

এবারের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর আগে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। ভারতে নিরাপত্তা শঙ্কায় দল পাঠাতে রাজি হয়নি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ স্থানান্তরের অনুরোধ করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে আইসিসি তা আমলে না নিয়ে বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে নেয়।

এরপর ‘বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় হচ্ছে’ জানিয়ে পাকিস্তান সরকার বিশ্বকাপে ভারতের সঙ্গে নির্ধারিত ম্যাচ না খেলার ঘোষণা দেয়। তবে লাহোরে পিসিবি ও বিসিবির সঙ্গে আইসিসির বৈঠকের পর পাকিস্তানের সরকার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে।

টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হওয়া অচলাবস্থার দিকে ইঙ্গিত করে ৩৭ বছর বয়সী জয় শাহ বলেন, ‘আইসিসির জন্য এবারের বিশ্বকাপটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ টুর্নামেন্ট শুরুর আগে অনেক মানুষ আলোচনা করছিলেন এই এই দল খেলবে কি না, টুর্নামেন্টটি কীভাবে আয়োজিত হবে।’

এরপর তিনি যোগ করেন, ‘আইসিসি চেয়ারম্যান হিসেবে আমি বলতে পারি যে, কোনো দলই সংস্থার চেয়ে বড় নয়, কোনো একটি একক দল সংস্থা তৈরি করে না। সংস্থা হলো সকল দলের একটি সমন্বয়।’

এবারের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ভিউয়ারশিপ (দর্শক সংখ্যা) সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে উল্লেখ করে জয় শাহ জানান, এবার একযোগে সর্বোচ্চ ৭২ লাখ মানুষ খেলা দেখেছেন।

অনুষ্ঠানে ভারতীয় দলকে তিনি ২০৩৬ অলিম্পিক পর্যন্ত পরিকল্পনা নিয়ে এগোনোর পরামর্শ দেন, ‘সংগঠক হিসেবে আমার ১৭ বছরের অভিজ্ঞতায় এটা শিখেছি যে, নিচ থেকে শিখরে পৌঁছাতে বছরের পর বছর সময় লাগে, কিন্তু শিখর থেকে নিচে নামতে লাগে মাত্র কয়েক মাস। তাই কঠোর পরিশ্রম অব্যাহত রাখুন এবং নিজেদের পারফরম্যান্স ধরে রাখুন।’

আরও পড়ুন