ওয়েস্ট ইন্ডিজ টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার পর মাঝে চার দিন পেরিয়ে গেছে। কিন্তু এখনো দেশে ফিরতে পারেনি। কলকাতাতেই আটকা পড়ে আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল। কিন্তু এভাবে আর কত দিন? পুরো দলের আকুতিটাই যেন প্রকাশ পেয়েছে এক্স হ্যান্ডলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামির পোস্টে, ‘আমি বাড়ি ফিরতে চাই।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের ভারতে আটকে পড়ার কারণটা মনে হয় না আপনার অজানা। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এলোমেলো করে দিয়েছে বিমানের চলাচল। বাতিল হয়ে গেছে অনেক ফ্লাইট। আইসিসির অফিশিয়াল এয়ারলাইনস পার্টনার এমিরেটস। লম্বা ফ্লাইটগুলোর প্রায় সবগুলোই তাই দুবাই হয়ে যায়। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই দুবাইয়ের আকাশসীমায় বিমান চলাচল বন্ধ।
শুরুতে জানা গিয়েছিল, চার্টার্ড ফ্লাইটে লন্ডন হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের ক্রিকেটারদের ক্যারিবীয় অঞ্চলে ফেরানোর চেষ্টা করছে আইসিসি। পরিকল্পনা ছিল, সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে তাঁরা ভারত ছাড়বে, যদিও নির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানানো হয়নি। কিন্তু তা আর হয়নি বলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল এখনো কলকাতাতেই আছে। গত ১ মার্চ সুপার এইটে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে হেরে বাদ পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো জিম্বাবুয়ে দলও আটকা পড়েছিল। তবে তাদের একটা অংশ গতকাল দিল্লি থেকে দেশের উদ্দেশে রওনা হতে পেরেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো জিম্বাবুয়েও গত ১ মার্চ সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে বাদ পড়ে। তাদের দেশে ফেরার জন্য ভারত থেকে রওনা দেওয়ার কথা ছিল ২ মার্চ। দলের বাকি সদস্যদের ভ্রমণ–পরিকল্পনা নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
গতকাল জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘জিম্বাবুয়ের ছেলেদের সিনিয়র দল, যারা টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে, তারা ভারত থেকে দেশে ফেরার পথে রয়েছে। সাম্প্রতিক ট্রানজিট–সংকটের কারণে বিকল্প ভ্রমণব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে আইসিসি। ফ্লাইটের প্রাপ্যতা ও নতুন রুটের কারণে দলটি ধাপে ধাপে হারারেতে ফিরবে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘জিম্বাবুয়ের মূল ভ্রমণপথ ছিল দুবাই হয়ে এমিরেটসের ফ্লাইটে। তবে সেটি পরিবর্তন করতে হয়েছে। জানা গেছে, এখন তারা আদ্দিস আবাবা, ইথিওপিয়া হয়ে হারারেতে ফিরছে।’
টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে গতকাল নিউজিল্যান্ডের কাছে হারে দক্ষিণ আফ্রিকা। এখন তাদের দেশে ফেরার সূচি কী হবে, সেটি জানতে অপেক্ষা করতে হবে। আর আজ দ্বিতীয় সেমিফাইনালে যদি ভারতের কাছে ইংল্যান্ড হেরে যায়, তাহলে তাদের ফেরার পরিকল্পনাও নতুন করে ঠিক করতে হবে।