ব্রিসবেনের উইকেটে স্পিন ধরবে, বোঝা যাচ্ছিল আগেই। প্রথম ইনিংসেই মিচেল স্যান্টনার ও ইশ সোধি ৮ ওভারে দেন মাত্র ৪৮ রান। বাটলার তাই প্রথম ওভারেই আনেন অফ স্পিনার মঈনকে, তৃতীয় ওভারে আসেন লেগ স্পিনার আদিল রশিদ। অবশ্য দ্বিতীয় ওভারে প্রথম ব্রেকথ্রু দেন ক্রিস ওকস, ডাউন দ্য লেগে কট বিহাইন্ড হন ডেভন কনওয়ে, বাটলার নেন ভালো ক্যাচ। পাওয়ার প্লেতে নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় উইকেট হারায় পঞ্চম ওভারে। স্যাম কারেনের গতির বৈচিত্র্যে হার মানেন ফিন অ্যালেন, পুল করতে গিয়ে ক্যাচ দেন স্টোকসের হাতে। প্রথম ৬ ওভারে ওঠে ৪০ রান। তবে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে ছিল নিউজিল্যান্ডই।

দশম ওভারে নিজের তৃতীয় ওভারটি করতে আসেন আদিল রশিদ, সে ওভারে উইকেটটা পেয়েই গিয়েছিলেন। তবে গ্লেন ফিলিপসের তোলা সহজতম ক্যাচটি কাভারে অদ্ভুতভাবে ফেলে দেন মঈন আলী, বদলে যায় ম্যাচের চিত্রটাও। ফিলিপসের রান তখন ছিল ১৫, উইলিয়ামসনের সঙ্গে জুটি ছিল ৩৭ রানের। ‘মোমেন্টাম’ কাজে লাগালেন ফিলিপসরা, ওই জুটি গেল ৯১ রান পর্যন্ত। আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করা ফিলিপস ফিফটি পান মাত্র ২৫ বলে, ১৪তম ওভারে রশিদকে টানা দুটি ছক্কায় যেন বার্তাও দেন।

তবে ইংল্যান্ডকে আশা জোগান বেন স্টোকস। আগের দুই ম্যাচে নতুন বল হাতে নেওয়া স্টোকস ১৫তম ওভারে নিজের প্রথমটি করতে এসে ফেরান কেইন উইলিয়ামসনকে, শর্ট থার্ডম্যানে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক। পরের ৩ ওভারে ইংল্যান্ডের ৩ পেসারের বলে ক্যাচ দেন আরও ৩ নিউজিল্যান্ড ব্যাটসম্যান—মার্ক উডের বলে ডিপ মিড উইকেটে জিমি নিশাম, ক্রিস ওকসের বলে লং অনে ড্যারিল মিচেল, কারেনের বলে ফিলিপস। শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ২৬ রান, কারেন দেন মাত্র ৫।

এর আগে টসে জিতে অনুমতিভাবেই ব্যাটিং নেন বাটলার। ক্রিকভিজের ডেটা অনুযায়ী, পাওয়ার প্লেতে প্রায় ৭৫ শতাংশ আক্রমণাত্মক শট খেলেন বাটলার ও আরেক ওপেনার অ্যালেক্স হেলস, প্রথম ৬ ওভারে ওঠে ৪৮ রান। অবশ্য শুরুতে বেশ আঁটসাঁট ছিলেন নিউজিল্যান্ড বোলাররা, প্রথম ৪ ওভারে ২৫ রানের বেশি আসেনি। হেলস প্রতি–আক্রমণ করেন এরপর। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে স্যান্টনারকে কাভারের ওপর দিয়ে মারতে গিয়ে উইলিয়ামসনের হাতে প্রায় ধরাই পড়েছিলেন বাটলার, এমনকি বাউন্ডারি পর্যন্ত চলেও গিয়েছিলেন। ডাইভ দিয়ে পড়ে যাওয়ার সময় উইলিয়ামসনের হাত থেকে ছিটকে যায় বল, বাটলার প্রথম জীবন পান ৮ রানে।

১০ ওভারে ৮১ রানের বেশ শক্ত একটা ভিতই পায় ইংল্যান্ড। পরের ওভারে ৩৯ বলে ফিফটি পান হেলস, সেটি পূর্ণ করেন স্যান্টনারকে চার মেরে। যদিও ঠিক তার পরের বলেই হন স্টাম্পড। স্যান্টনার-সোধির সঙ্গে ম্যাচআপে এগিয়ে থাকা মঈন আলীকে তিনে পাঠায় ইংল্যান্ড, যদিও সোধির শর্ট লেংথের বলে তুলে মারতে গিয়ে লং অনে ক্যাচ তোলার আগে ৬ বলে ৫ রানের বেশি করতে পারেননি মঈন।

বাটলার দ্বিতীয় জীবন পান ৩৯ রানে, ফার্গুসনকে পুল করেছিলেন, তবে ডিপ মিড উইকেটে ড্যারিল মিচেল ফেলেন সহজ ক্যাচ। ৩৫ বলে ক্যারিয়ারের শততম ম্যাচে ফিফটি পান বাটলার। এ ইনিংসের পথে এউইন মরগানকে ছাড়িয়ে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি রানের মালিকও হয়ে যান। ৮ বল বাকি থাকতে রানআউট হওয়ার আগে ৪৭ বলে করেন ৭৩ রান।

মঈনের পর আসেন লিয়াম লিভিংস্টোন, ফার্গুসনকে দ্বিতীয়বারের মতো স্কুপ করতে গিয়ে বোল্ড হওয়ার আগে ১৪ বলে করেন ২০ রান। হ্যারি ব্রুক মারেন একটি ছয়। ছয়ে আসেন বেন স্টোকস, ডেভিড ম্যালানকে আসতে হয় আট নম্বরে। ডেথ ওভারে উইকেট নিয়ে লকি ফার্গুসনরা বেশ ভালোভাবেই ফিরিয়ে আনেন নিউজিল্যান্ডকে, তবে বাউন্ডারি না পেলেও সিঙ্গেল ডাবলসেই গ্যাবার ‘পার’ স্কোর পেরিয়ে যায় ইংল্যান্ড। শেষ ৪ ওভারে তোলে ৪২ রান। নিউজিল্যান্ড সেখানে তোলে ৩৩ রান। শুরুর মতো ইনিংসের শেষ ভাগেও দুই দলের মধ্যে পার্থক্য ছিল এমন।