হারারেতে কাল প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ২ উইকেটে ৩০৩ রানের পুঁজি তাড়া করতে নেমেছিল জিম্বাবুয়ে। সিকান্দার রাজার ১০৯ বলে অপরাজিত ১৩৫ রানে ৫ উইকেটের জয় পায় স্বাগতিকেরা। ১৪ ওভারে জিম্বাবুয়ে ৬৩ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর এক প্রান্ত থেকে রান তাড়ায় নেতৃত্ব দেন রাজা।

ইনোসেন্ট কাইয়া শতক তুলে নিলেও রাজার দাপুটে ইনিংস নিয়ে কথা হচ্ছে বেশি। এর মধ্যে আজ ইউটিউবে সিকান্দার রাজার একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ‘ক্রিকেট পাকিস্তান।’ জিম্বাবুয়ে তারকা সেখানে জানিয়েছেন, পাকিস্তানের হয়ে খেলার কথা কখনো ভাবেননি।

default-image

সিকান্দার রাজার উঠে আসার পথটা জানা না থাকলে এই কথা শুনে অবাক লাগাই স্বাভাবিক। ৩৬ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের জন্ম পাকিস্তানের শিয়ালকোটে। ১১ বছর বয়সে মা–বাবাকে বলেছিলেন, যুদ্ধবিমানের পাইলট হতে চান। পরীক্ষা দিয়ে প্রায় ৬০ হাজার পরীক্ষার্থীর মধ্য থেকে বিমান বাহিনী কলেজে পড়ার সুযোগ পান সিকান্দার। যে ৬০ জন সুযোগ পেয়েছিলেন সিকান্দার তাঁদের একজন। কিন্তু তাঁর পাইলট হওয়ার স্বপ্ন তৃতীয় বর্ষে এসে নসাৎ হয়ে যায়। চোখের পরীক্ষায় উতরে যেতে পারেননি।

এরপর পাকিস্তান থেকে উড়াল দিয়ে গ্লাসগোর ক্যালডোনিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। লক্ষ্য ছিল সফটওয়্যার প্রকৌশলী হবেন। সেখানেই আধা পেশাদার হিসেবে শুরু করেন ক্রিকেট খেলা।

তাঁর মা–বাবা ২০০২ সালেই জিম্বাবুয়েতে অভিবাসী হিসেবে পাড়ি জমান। ২০০৭ সালে সেখানেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে সিকান্দার রাজার। ২০১৩ সালে বুলাওয়েতে বাংলাদেশের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর ৯ বছর হয়েছে। ক্রিকেটার হিসেবে পায়ের তলায় মাটিও শক্ত হয়েছে বেশ।

পাকিস্তানের হয়ে খেলার ইচ্ছা ছিল কি না, এ প্রশ্নের উত্তরে ‘ক্রিকেট পাকিস্তান’কে সিকান্দার রাজা বলেছেন, ‘পাকিস্তানে থাকতে কখনো এ নিয়ে ভাবিনি। এখন তাই (পাকিস্তানের) বিপক্ষে খেলার সময় এ ভাবনা আসবে কেন? আগেও বলেছি, ক্রিকেটার হওয়ার জন্য পাকিস্তান ছাড়িনি। আমি যুদ্ধবিমানের পাইলট হতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পারিনি। সফটওয়্যার প্রকৌশলী হয়েছি, আমার পরিবারও জিম্বাবুয়ে চলে যায়। তখন মাস্টার্স করার কথা ভেবেছি, কিন্তু ঘটনাক্রমে জিম্বাবুয়ের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খেলার সুযোগ পেয়ে যাই এবং এর মধ্য দিয়ে অভিযাত্রাটা শুরু হয়।’

পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সঙ্গে যোগাযোগ হয় সিকান্দার রাজার। শোয়েব মালিকের উদাহরণ দিয়ে বলেছেন, ‘পাকিস্তানি খেলোয়াড়েরা শুরু থেকেই আমার বন্ধু। শোয়েব মালিকের সঙ্গে সব সময় কথা হয়।’

বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের প্রশংসাও করলেন রাজা, ‘বাবর আজমকে পছন্দ করে না, এমন মানুষ বোধ হয় নেই। শুধু বাবর নয়, রিজি (রিজওয়ান) ভাইকেও পছন্দ করি। তাঁর খেলা দেখতে অসাধারণ লাগে।’

কাল রাজার ব্যাটিং দেখে থাকলে, সন্দেহ নেই রিজওয়ানেরও অসাধারণ লেগেছে!

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন