সিডনিতে বুধবার অনুশীলনের পর বিরূপ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন রোহিত শর্মা–বিরাট কোহলিরা। মধ্যাহ্নভোজ সারতে গিয়ে দেখেন খাবার ঠান্ডা ও নিম্নমানের। প্রতিবাদে না খেয়েই মাঠ ছাড়েন তাঁরা। জানা গেছে, সেদিন ভারতীয় দলকে দেওয়া হয়েছিল ঠান্ডা স্যান্ডউইচ ও ফল, যা শীর্ষ খেলোয়াড়দের পছন্দ হয়নি।

খাবার নিয়ে নিজেদের অসন্তোষের বিষয়টি অনানুষ্ঠানিকভাবে আইসিসিকেও জানায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। শোনা যাচ্ছে, ব্রিসবেন ও সিডনিতে রোহিতের দলকে যে হোটেলে রাখা হয়েছিল, সেগুলোও সর্বোচ্চ মানের নয়।

এসব চাউর হতেই প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি আইসিসি ও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) অতিথি দলগুলোর জন্য শহরের সেরা হোটেলগুলো ভাড়া করেনি?

ব্রিসবেনে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে ভারত। সেখানে রাইজ হোটেলে ছিলেন রোহিতরা। পার্থে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচ খেলতে যাওয়ার আগে সিডনিতে তাঁদের ঠিকানা ছিল হাইয়্যাট রিজেন্সি হোটেল। দুটি হোটেলই চার তারকা মানের। একটিতেও নেই সুইমিংপুল। ভারতীয় দলের নাখোশ হওয়াটা অস্বাভাবিকও নয়।  

হোটেলে এ ধরনের সুযোগ–সুবিধা না থাকলে দল কী ধরনের সমস্যায় পড়ে, সেটার ব্যাখ্যা দিয়েছেন ভারতের সাবেক বোলিং কোচ ভরত অরুণ। ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজকে তিনি বলেছেন, ‘সুইমিংপুলে গেলে খেলোয়াড়দের ক্লান্তি ভাব দূর হয়। সাঁতারের সেশনকে আপনি পানি থেরাপি বলতে পারেন। একটা বড় ম্যাচের পর কিংবা কঠোর অনুশীলনের পর এটা শরীরকে আরাম দেয়। (যত দিন আমি কোচ ছিলাম) ওরা কখনো পুলে যাওয়ার সুযোগ মিস করেনি। বিশ্বকাপের মতো বড় ইভেন্টে এটা আরও জরুরি।’

এখানেই শেষ নয়। যে মাঠে ভারতীয় দলকে অনুশীলন করতে বলা হয়েছিল, সেটা হোটেল থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে। এত দূর যেতে চাননি রোহিত–কোহলিরা। সে কারণে অনুশীলন সেশন বাতিলও হয়েছে।  

ব্রিসবেনের রাইজ হোটেলেও বাজে অভিজ্ঞতা হয়েছে ভারতীয় দলের। সাধারণ (গণ) জোনে তাদের সকালের নাশতা দেওয়া হয়েছিল। জনসমাগম এড়াতে সূর্যকুমার যাদব–হার্দিক পান্ডিয়ারা পরে নিজেরাই নাশতার ব্যবস্থা করেন।

ক্রিকবাজ বলছে, অভিযোগের পর খাবার সমস্যার সমাধান করেছে আয়োজকেরা। তবে আইসিসি এসবের দায় নেয়নি। তাদের ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে, এবারের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চার ও পাঁচ তারকা—দুই ধরনের হোটেলই ভাড়া করা হয়েছে।

ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সব দলকেই এসব হোটেলে থাকতে হবে। সামনে আফগানিস্তান, ইংল্যান্ড এমনকি স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া দলও চার তারকা হোটেলে থাকবে। তা ছাড়া সিডনির হাইয়্যাট রিজেন্সি হোটেলে ভারতের মতো বাংলাদেশ দলকেও থাকতে হয়েছে।

আইসিসি এটাও জানিয়েছে, টাকা বাঁচানোর উদ্দেশ্যে কিছুটা নিম্নমানের হোটেল ভাড়া করা হয়নি। বরং সব দলকে সমান সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তবে আইসিসির ওয়েবসাইটে পাওয়া ব্যাখ্যা জুতসই মনে হচ্ছে না ভারতের। তাদের দাবি, যেখানে আইপিএলের মতো ঘরোয়া টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের পাঁচ তারকা মানের হোটেলে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের, সেখানে বিশ্বকাপের মতো সর্ববৃহৎ ইভেন্টে এমন কাটছাঁট মেনে নেওয়া যায় না।

পার্থে পৌঁছার পর অবশ্য আলিশান অবস্থায় আছে ভারতীয় দল। সেখানকার ক্রাউন গ্রুপ হোটেলে আছে সব ধরনের সুযোগ–সুবিধা।
রোববার পার্থেই নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকান বিপক্ষে খেলবে ভারত। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে শেষ বলে হারানোর পর নেদারল্যান্ডসকে উড়িয়ে দিয়ে গ্রুপ ‘২’-এর শীর্ষে আছেন রাহুল দ্রাবিড়ের শিষ্যরা।