৭০০ উইকেটের অনন্য মাইলফলকে রশিদ খান
মাইলফলকটা যেন কদিন ধরেই লুকোচুরি খেলছিল তাঁর সঙ্গে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচেই হয়তো ছুঁয়ে ফেলবেন, এমন প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু সেই ম্যাচে ২ উইকেট নিয়ে থেমে গিয়েছিলেন ৬৯৯-এ। এরপর অপেক্ষার প্রহরটা দীর্ঘ হয়েছে আজকের ম্যাচ পর্যন্ত। অবশেষে দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে ধরা দিল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। প্রথম বোলার হিসেবে স্বীকৃত টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে ৭০০ উইকেটের এভারেস্ট জয় করলেন আফগান অধিনায়ক রশিদ খান।
আরব আমিরাতের ইনিংসের ১৬তম ওভার ছিল সেটা। নিজের শেষ স্পেল করতে এসেছেন রশিদ। ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ আরফান তাঁকে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে ভারসাম্য হারিয়ে উল্টো স্টাম্পে আঘাত করে বসলেন। হিট উইকেট! অদ্ভুত এক আউটে ধরা দিল সেই ঐতিহাসিক ৭০০তম উইকেট। তবে মাইলফলকের আনন্দ থাকলেও উদযাপনে রশিদ ছিলেন একেবারেই নির্লিপ্ত। হয়তো মাথায় ঘুরছিল সুপার এইটে ওঠার সমীকরণ।
টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটের রাজত্বে রশিদ খান এখন এমন এক উচ্চতায়, যেখানে বাকিদের পক্ষে তাঁকে ছোঁয়া ভীষণ কঠিন। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা সাবেক ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান তারকা ডোয়াইন ব্রাভোর উইকেট সংখ্যা ৬৩১। বর্তমানে খেলছেন এমন বোলারদের মধ্যে রশিদের ধারেকাছে আছেন শুধু আরেক ক্যারিবিয়ান সুনীল নারাইন (৬১৩ উইকেট)।
আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতেও রশিদ সবার ওপরে। আজকের এই উইকেটটি ছিল দেশের জার্সিতে তার ১৯১তম। এখানে তাঁর পেছনে আছেন নিউজিল্যান্ডের টিম সাউদি (১৬৪) ও ইশ সোধি (১৬২)।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই সংবাদ সম্মেলনে ঘুরেফিরে আসছিল এই ৭০০ উইকেটের প্রসঙ্গ। গত মঙ্গলবার দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের আগেও অবলীলায় বলেছিলেন, ‘আমি এমন কোনো লক্ষ্য ঠিক করিনি যে ৭০০ উইকেট নিয়েই থেমে যাব। দেশের হয়ে যখন বিশ্বকাপে খেলি, আমার শতভাগ চেষ্টা থাকে দলের প্রয়োজনে উইকেট নেওয়া।’
রশিদের এই অর্জনের দিনে ম্যাচে আগে ব্যাট করে সংযুক্ত আরব আমিরাত তুলেছে ৯ উইকেটে ১৬০ রান।