মজার ব্যাপার হচ্ছে, সেবারের মতো এবারও ফাইনাল হবে মেলবোর্নে। পাকিস্তানের ’৯২ বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক ওয়াসিম আকরাম গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে বাবর-শাহিনদের নির্ভার থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

সেই সঙ্গে মেলবোর্নের বেশির ভাগ দর্শক পাকিস্তানের পক্ষে থাকবে বলেও মন্তব্য করেছেন ‘সুলতান অব সুইং’খ্যাত আকরাম। প্রথম দুই ম্যাচের পর পাকিস্তানকে বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছিল সবাই। তবে সেই পাকিস্তান নিজেদের ‘অননুমেয়তার’ ইতিহাস অব্যাহত রেখে লিখেছে দারুণ গল্প।

লড়াই করে বিশ্বকাপ ফাইনাল নিশ্চিত করা পাকিস্তানকে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে পরামর্শ দিয়ে আকরাম বলেছেন, ‘এটা অনেক বড় একটা দিন। এ জন্যই তো আমরা খেলি। প্রথমত, দেশকে প্রতিনিধিত্ব করা আপনার স্বপ্ন। এরপর বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলা, এটা অনেক বড় একটা ব্যাপার। তাই আগে পাকিস্তান ও ইংল্যান্ডকে অভিনন্দন জানাতে হয়। তারা এটা করে দেখিয়েছে।

ইংল্যান্ডের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার দ্বৈরথটা বেশ পুরোনো। অ্যাশেজের কারণে প্রতিনিয়ত সেই দ্বৈরথের নবায়নও ঘটে। অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা মূলত সুবিধা করে দেবে পাকিস্তানকে।

আকরামের মতে, ফাইনালে পাকিস্তান স্বাগতিক দর্শকদের দারুণ সমর্থন পাবে। আকরাম বলেছেন, ‘বিষয়টাকে খুব স্বাভাবিক রাখতে হবে। মাঠে গিয়ে স্রেফ উপভোগ করা। আমি আরেকটি গোপন বিষয় বলতে পারি, গোটা অস্ট্রেলিয়া কিন্তু পাকিস্তান দলকে সমর্থন দেবে। এর কারণ হচ্ছে ইংল্যান্ড। এমনটা ঘটেছিল ’৯২ বিশ্বকাপের ফাইনালেও। যদি ৮৯ হাজার দর্শক উপস্থিত থাকে, তবে এর মধ্যে ৫০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ছিল। তারা পরিকল্পনা করে টিকিট আগেই নিয়ে নেয়। আমাদের মতো শেষ মুহূর্তে এসে ওরা টিকিট খোঁজে না।’

ফাইনালের দিন মাঠে নেমে কেমন অনুভব করেছিলেন, তা জানাতে গিয়ে বাবর-শাহিনদের উদ্দেশে আকরাম বলেছেন, ‘পাকিস্তান দারুণ পরিশ্রম করেছে। তাদের উচিত দিনটাকে উপভোগ করা, পরিবেশটাকে উপভোগ করা। নির্ভার থাকতে হবে। যদি আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়, ৩০ বছর আগে আমি কেমন বোধ করেছিলাম, আমি অনেকবার সাক্ষাৎকারে বলেছি। সে দিনটাতে আমি বেশ হালকা বোধ করেছিলাম। মাঠে নেমে আমি কোনো চাপ নিইনি। বিশ্বকাপ ফাইনাল ভেবে বাড়তি চাপও রাখিনি। আমি আশা করি, আমাদের খেলোয়াড়েরাও অনুভব করবে যে তারা দারুণ কিছু করতে পারবে।’