৪২৯ রান করেও হারল ইংল্যান্ড, রান তাড়ায় অবিশ্বাস্য জয় শ্রীলঙ্কার
ইংল্যান্ড: ৫০ ওভারে ৪২৯/৪। শ্রীলঙ্কা: ৪৯.৫ ওভারে ৪৩০/৮।
অবিশ্বাস্য, অভাবনীয়!
স্কোরবোর্ডে ৪২৯ রান নিয়েও জিততে পারল না ইংল্যান্ড। ২ উইকেট হাতে রেখে তাদের রান টপকে গেছে শ্রীলঙ্কা।
রাওয়ালপিন্ডিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের ম্যাচে জানিত লিয়ানাগের ছক্কায় শ্রীলঙ্কা লক্ষ্যে পৌঁছে গেছে ১ বল হাতে রেখে।
ওয়ানডে ইতিহাসে এর চেয়ে বড় রান তাড়া হয়েছে মাত্র একবার। ২০০৬ সালে চার শ রানের প্রথম ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার ৪৩৪ টপকে গিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।
শেষ ওভারে জয়ের জন্য শ্রীলঙ্কার দরকার ছিল ৮ রান। বোলার জশ টাং দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে টানা দুই উইকেট তুলে নিলে ম্যাচ হেলে পড়ে ইংল্যান্ডের দিকে।
লিয়ানাগে যখন স্ট্রাইকে যান, ২ বলে দরকার ৬ রান। টাংয়ের ফুল লেন্থে করা ডেলিভারি সোজা তুলে দেন বোলারের মাথার ওপর দিয়ে, লং অফ বাউন্ডারি দিয়ে ছক্কা।
শ্রীলঙ্কার পুরো ড্রেসিংরুমে ছুটে যায় মাঠের ভেতরে। নিজেদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের উচ্ছ্বাস ছিল বাধভাঙা।
২৭ বলে ৬১ রানের ইনিংসটা খেলে শেষটা করেছেন লিয়ানাগে। তার আগে শ্রীলঙ্কাকে এত বড় রান তাড়ার ভিত্তিটা তৈরি করে দিয়ে যান আভিস্কা ফার্নান্দো, পবন রত্নায়েকে ও দাসুন শানাকারা।
এর মধ্যে চারে নামা রত্নায়েকে খেলে যান ১০৬ বলে ১৩০ রানের ইনিংস। ওপেনিংয়ে আভিস্কা আর শানাকা ফেরেন ৯৭ রান করে।
শ্রীলঙ্কার রান তাড়ার আগে দিনটা নিজের করে নিয়েছিলেন হ্যারি ব্রুক। ১১৪ বলে দুই শ ছুঁয়ে ওয়ানডেতে দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির বিশ্ব রেকর্ড গড়েন ইংল্যান্ড অধিনায়ক।
তবে দলগত খেলায় অধিনায়কের পারফরম্যান্স যে জয়ের নিশ্চয়তা দেয় না, সেটিই দেখা গেছে শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক কুশল মেন্ডিসের শূন্য আর অন্যদের দাঁড়িয়ে যাওয়ায়।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ইংল্যান্ড: ৫০ ওভারে ৪২৯/৪ (ব্রুক ২০২, রুট ৬৯, জ্যাকস ৬৬, ব্যান্টন ৫০, ডাকেট ২৯; ভেল্লালাগে ২/৫৬, লিয়ানাগে ১/৩২)।
শ্রীলঙ্কা: ৪৯.৫ ওভারে ৪৩০/৮ (রত্নায়েকে ১৩০, শানাকা ৯৭, আভিস্কা ৯৭, লিয়ানাগে ৬১*; টাং ৩/৭৯, কারেন ২/১০৩)।
ফল: শ্রীলঙ্কা ২ উইকেটে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: পবন রত্নায়েকে।