‘বিন্দাস’ আছেন মোস্তাফিজ, মাঠেই প্রমাণ করছেন নিজেকে
২০১৪ সালে মোস্তাফিজুর রহমানকে প্রথমবার দেখেছিলেন ঢাকা ক্যাপিটালসের সহকারী কোচ আশিকুর রহমান। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ তাঁকে নিয়ে এসেছিলেন ঘরোয়া এক টুর্নামেন্টে খেলাতে। তখনো আশিকের কাছে বিশেষ কিছু মনে হয়নি মোস্তাফিজকে।
তবে এক যুগ আগের সেই স্মৃতিতে ফিরে গিয়েও আশিক মনে করতে পারেন, পুরো সময় ধরেই একই রকম আছেন মোস্তাফিজ। মাঝে নেটে বোলিং থেকে জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া, বিশ্বজুড়ে খ্যাতি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাফল্য—কোনো কিছুই বদলে দিতে পারেনি তাঁকে।
সে কথাই কাল সিলেটের সংবাদ সম্মেলনে বলছিলেন আশিক, ‘মোস্তাফিজ এমন একজন মানুষ, যে কোনো কিছু নিয়েই চিন্তিত হয় না। সে স্বাভাবিকভাবেই নেয় এবং বর্তমানে থাকার চেষ্টা করে। সে ভাবে যে আমার তকদিরে যেটা আছে, সেটাই হবে। সে একদম মানসিকভাবে ফ্রি থাকে এবং ১০০ ভাগ দেওয়ার চেষ্টা করে যখনই যেখানে খেলে। আমার এটা পেতেই হবে—এমন কোনো আসক্তি তার নেই।’
মোস্তাফিজকে নিয়ে গত দুই দিনে রীতিমতো তোলপাড়ই হয়েছে। বিসিসিআইয়ের নির্দেশে আইপিএল থেকে তাঁকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিলাম থেকে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে ভেড়ানো কলকাতা নাইট রাইডার্স।
ওই সিদ্ধান্তের পর কাল বিসিবি জানিয়েছে, নিরাপত্তার শঙ্কায় ভারতের মাটিতে ফেব্রুয়ারিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলবে না তারা। বিকল্প ভেন্যুর ব্যবস্থা করতে আইসিসিকে অনুরোধ জানিয়েছে তারা। তবে এসবের কিছুই ছুঁয়ে যায়নি মোস্তাফিজকে।
বিপিএলে মোস্তাফিজের দল রংপুর রাইডার্সের অধিনায়ক নুরুল হাসান জানালেন তেমনই, ‘মোস্তাফিজ বিন্দাস আছে। কিন্তু একই সঙ্গে আমার কাছে মনে হয় যে খারাপ লাগা তো থাকতেই পারে। কারণ, ও যেটা ডিজার্ভ করে...আমার কাছে মনে হয় যে এর আগে আরও বেশি ডিজার্ভ করত। ওই জায়গা থেকে থাকতে পারে। কিন্তু আমার কাছে মনে হয় যে ইটস ফাইন (ঠিক আছে)।’
কাল বিপিএলে মাঠে নেমে ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে রংপুরকে ম্যাচ জেতাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন মোস্তাফিজ। শেষ ৩ ওভারে ২৫ রান দরকার ছিল ঢাকার। ১৮ আর ২০তম ওভার করতে এসে মাত্র ৬ রান দিয়ে ১ উইকেট তুলে নিয়েছেন তিনি।
বিশ্বাস রেখেই মোস্তাফিজের হাতে বল তুলে দিয়েছেন বলেই জানালেন নুরুল, ‘শেষ পর্যন্ত বিশ্বাস ছিল, মোস্তাফিজ আছে। আকিফ জাবেদও ভালো করছে। অবশ্যই মোস্তাফিজ বিশ্বমানের বোলার। আমার কাছে মনে হয় যে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ওর সেরাটা আরও ভালো দিতে পারে।’