আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন ডুসেন
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান রেসি ফন ডার ডুসেন। ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার (সিএসএ) সঙ্গে হাইব্রিড কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা এই ক্রিকেটার ২০২৬-২৭ মৌসুমের জন্য নতুন করে চুক্তিতে সই করেননি।
প্রায় সাত মাস জাতীয় দলের বাইরে থাকা ডুসেন শেষ পর্যন্ত অবসরের সিদ্ধান্তই নিলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে লায়নসের হয়ে এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে খেলা চালিয়ে যাবেন। সেই সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার ‘পরবর্তী প্রজন্মের ক্রিকেটারদের মেন্টর’ হিসেবে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন ৩৭ বছর বয়সী ডুসেন।
আজ সকালে ইনস্টাগ্রামে করা পোস্টে অবসরবার্তায় ডুসেন লেখেন, ‘অত্যন্ত গর্ব ও গভীর কৃতজ্ঞতা নিয়ে আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিচ্ছি। প্রোটিয়া জার্সি গায়ে দেওয়াটা এমন এক অর্জন, যেখানে টিকে থাকতে হলে অদম্য সহনশীলতা ও নিবেদন প্রয়োজন, যা আপনার কঠিন পরীক্ষা নেবে, আবার অবিশ্বাস্য অর্জনেও ভরিয়ে দেবে। দেশের হয়ে খেলা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান।’
লায়নস ও ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ ও কর্মকর্তাদের পাশাপাশি নিজের এজেন্ট এবং স্ত্রী লারাকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন ডুসেন। দক্ষিণ আফ্রিকার জনগণ ও ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তরুণ ক্রিকেটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বড় স্বপ্ন দেখো এবং তা অর্জনে নিজের সবটুকু দিয়ে দাও।’ সবশেষে আবেগঘন এক বার্তায় তিনি লেখেন, ‘আমি আমার দেশকে ভালোবাসি, আমি ক্রিকেটকে ভালোবাসি।’
২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ১৮টি টেস্ট, ৭১টি ওয়ানডে ও ৫৭টি টি-টুয়েন্টি খেলেছেন ডুসেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়ানডে ইতিহাসে এবি ডি ভিলিয়ার্সের (৫৪.১৭) পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গড় (৫০.১৩) নিয়ে ক্যারিয়ার শেষ করলেন।
ওয়ানডেতে ৬৫ ইনিংসে ৬ সেঞ্চুরি ও ১৭ ফিফটির পথে ২৬৫৭ রান করেছেন ডুসেন। এর মধ্যে ২০১৯ সালের শুরুতে নিজের প্রথম ৯ ম্যাচেই করেছিলেন ৫টি ফিফটি। সেই ধারাবাহিকতায় ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপের দলেও সুযোগ পান। অবসর ভেঙে ডি ভিলিয়ার্স সেই বিশ্বকাপে খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও ডুসেনের ওপরই আস্থা রেখেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।
ডুসেনের সেটাই ছিল প্রথম বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট। তখন তিনি স্বীকার করেছিলেন, ডি ভিলিয়ার্স ফিরলে ‘সরাসরি আমার জায়গাতেই প্রভাব পড়ত’। ২০১৯ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার পারফরম্যান্স ছিল শোচনীয়, সবার আগে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গিয়েছিল তারা। তবে সেই হতাশার মাঝেও উজ্জ্বল ছিলেন ডুসেন। তিনটি ফিফটিসহ দলের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান করেন।
টি-টুয়েন্টিতে ৫৭ ম্যাচে ৫৩ ইনিংসে ৩৩.৪৭ গড়ে ১৪০৬ রান করেছেন ডুসেন। ১০ ফিফটিসহ স্ট্রাইক রেট ১২৮.৭৫। টেস্টে ৩২ ইনিংসে ৩০.১৬ গড়ে ৬ ফিফটিসহ করেছেন মোট ৯০৫ রান।