ভারত–ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচে শরফুদ্দৌলার সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক
বলটি ব্যাটে লেগেছিল, নাকি প্যাডে? নিউ চণ্ডীগড়ে ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ তৃতীয় ওয়ানডে শেষ হওয়ার পর এই আলোচনাটা থেকে গেছে। আর এই আলোচনার কেন্দ্রে বাংলাদেশের আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ।
গতকাল ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচে তিনি ছিলেন থার্ড আম্পায়ার। তাঁর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যান শেরফান রাদারফোর্ডকে আউট দেওয়া হয়।
কী হয়েছিল
ঘটনাটি ঘটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসের ৩০তম ওভারের শেষ বলে। ৩৫২ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ভারতের হয়ে বল করছিলেন নামান ধীর। তাঁর করা বলটি কাট করতে যান রাদারফোর্ড। বলটি উইকেটকিপার লোকেশ রাহুলের হাতে গেলে ক্যাচের আবেদন করে ভারত। মাঠের আম্পায়ারও আউট দেন। সঙ্গে সঙ্গে রিভিউ নেন রাদারফোর্ড।
রিপ্লেতে বল ব্যাটের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় একটি স্পাইক দেখা যায়। এরপর বিষয়টি যায় তৃতীয় আম্পায়ার বাংলাদেশের শরফুদ্দৌলার কাছে। রিপ্লে দেখে তিনি মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। তবে সিদ্ধান্তে খুশি ছিলেন না রাদারফোর্ড। তিনি আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বলেন। নিজের অসন্তোষও জানান। মাঠ ছাড়েন ক্ষুব্ধ অবস্থায়।
যা নিয়ে বিতর্ক
রিপ্লেতে আরেকটি বিষয় নিয়ে তৈরি হয় প্রশ্ন। বল ব্যাটের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় একই সঙ্গে ব্যাট ও প্যাডের সংস্পর্শ দেখা যায়। ফলে স্পাইকটি ব্যাটে বল লাগার কারণে তৈরি হয়েছিল, নাকি ব্যাট প্যাডে লাগার কারণে—তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ভিডিও দেখে মনে হয়েছে বল ও ব্যাটের মধ্যে একটা ফাঁক ছিল।
বিষয়টি নিয়ে তখন ধারাভাষ্যকার ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক তারকা ইয়ান বিশপও কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘রাদারফোর্ড মোটেও খুশি ছিলেন না। তাঁর মনে হয়েছিল, ব্যাট বলের বদলে প্যাডে লেগেছিল। তৃতীয় আম্পায়ারের ব্যাখ্যাও তুলে ধরেন বিশপ। তিনি বলেন, ‘তৃতীয় আম্পায়ার বলেছেন, ব্যাট ও বলের মধ্যে কোনো ফাঁক তিনি দেখতে পাননি। এটা ইন্টারেস্টিং।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শরফুদ্দৌলার সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। এই যেমন সাংবাদিক বিক্রান্ত গুপ্ত এক্সে লিখেছেন, ‘রাদারফোর্ড আউট ছিলেন না। টিভি আম্পায়ার কীভাবে বল আর ব্যাটের এজের মধ্যে কোনো ফাঁক দেখেননি, তা আমি বুঝতে পারছি না—যেখানে একই টিভিতে আমরা সবাই স্পষ্ট দেখেছি, সেখানে ফাঁক ছিল। স্নিকোতে যে শব্দটি ধরা পড়েছিল, সেটি ছিল ব্যাট প্যাডে লাগার। বাজে সিদ্ধান্ত।’
রাদারফোর্ডের আউট নিয়ে বিতর্ক থাকলেও ম্যাচে দারুণ জয় তুলে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৩৫২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তারা ৪৮.২ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে জয় পায়।
এ জয়ে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ এড়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম দুই ম্যাচ জেতায় তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে নিজেদের করে নেয় ভারত।