বিপিএল হ্যাটট্রিকের গল্পে মৃত্যুঞ্জয় যেখানে শীর্ষে
মাহিদুল ইসলামের ব্যাট ছুঁয়ে বল গেল উইকেটকিপার নুরুল হাসানের হাতে। নুরুলের কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। আম্পায়ার তুললেন আঙুল, ড্রেসিংরুমের পথে হাঁটা দিলেন মাহিদুল। উইকেট পেয়েও বোলার মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী নির্বিকার।
নতুন ব্যাটসম্যান জহির খান। প্রথম বলেই ক্যাচ দিলেন। নিলেন বোলার মৃত্যুঞ্জয় নিজেই। এবারও নির্বিকার। ক্যাচ নিয়েই ঘুরে বোলিং মার্কের দিকে হাঁটা দিলেন। দ্রুত ওভার শেষ করার তাড়া।
এবার ব্যাটিংয়ে বিলাল সামি। ইনিংসের শেষ ওভার চলছে বলেই হয়তো হ্যাটট্রিক ঠেকানোর কথা মাথায় রাখেননি। স্টাম্পের ওপর থাকা বলে শট খেললেন স্কয়ার লেগ বাউন্ডারির দিকে। ক্যাচ নিলেন লিটন দাস। এবার মুখে হাসি ফুটল মৃত্যুঞ্জয়ের, মুচকি হাসি। দুই হাত দুই দিকে ছড়িয়ে করলেন উদ্যাপন।
গতকাল সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে করা এই হ্যাটট্রিকে বিপিএলে নতুন উচ্চতায় উঠেছেন মৃত্যুঞ্জয়। বাংলাদেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি টি–টোয়েন্টি টুর্নামেন্টটিতে তিনিই একমাত্র বোলার, যিনি দুটি হ্যাটট্রিকের মালিক। রংপুর রাইডার্সের হয়ে করা মৃত্যুঞ্জয়ের এই হ্যাটট্রিক ছিল বিপিএলের দশম। এই সূত্রে চোখ বোলানো যাক বিপিএলের হ্যাটট্রিকের গল্পে।
সামি–ই প্রথম
বিপিএলের প্রথম হ্যাটট্রিক একজন বিদেশির। ২০১২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি বিপিএলের প্রথম আসরে হ্যাটট্রিক করেছিলেন পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ সামি। দুর্দান্ত রাজশাহীর হয়ে খেলা সামি সেদিন টানা তিন বলে আউট করেছিলেন ঢাকা গ্লাডিয়েটর্সের ড্যারেন স্টিভেনস, আফতাব আহমেদ ও নাভিদ উল হাসানকে। তিনজনকেই বোল্ড করেছিলেন সামি।
১০
বিপিএলে এখন পর্যন্ত হ্যাটট্রিক হয়েছে ১০টি। এর মধ্যে দুটিই চলমান দ্বাদশ আসরের (মৃত্যুঞ্জয়ের আগে মেহেদী হাসান রানা)। এর আগে ২০২৪ আসরেও দুটি হ্যাটট্রিক হয়েছিল (শরীফুল ইসলাম ও মঈন আলী)। সর্বোচ্চ তিনটি হ্যাটট্রিক দেখা গেছে ২০১৯ সালে। সেবার হ্যাটট্রিক করেন আলিস আল ইসলাম, ওয়াহাব রিয়াজ ও আন্দ্রে রাসেল।
বাঁহাতি পেসারদের জয়জয়কার
বিপিএলের ১০ হ্যাটট্রিকের মধ্যে অর্ধেকই বাঁহাতি পেসারদের। এর মধ্যে দুটি মৃত্যুঞ্জয়ের। একটি করে মেহেদী হাসান রানা, শরীফুল ইসলাম ও ওয়াহাব রিয়াজের। বাকি পাঁচটির তিনটিও পেসারদের—মোহাম্মদ সামি, আল–আমিন হোসেন ও আন্দ্রে রাসেলের।