টি–টুয়েন্টিতেও হেরে শুরু বাংলাদেশের
চতুর্থ উইকেটে ২৯ বলে ৩৯ রান যোগ করলেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় ও ইয়াসির আলী মিলে। পরে মেহেদীকে নিয়ে ষষ্ঠ উইকেটে ইয়াসিরের জুটিতে ৩৭ বলে আসে আরও ৫২ রান। কিন্তু দুই জুটির কোনোটিই বাংলাদেশকে জয় অবধি পৌঁছে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট হয়নি।
জিম্বাবুয়ের পেসারদের বাড়তি বাউন্সে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা কেউ বিভ্রান্ত হয়েছেন, কেউ বাউন্সার বুঝতে না পেরে ক্যাচ তুলে দিয়ে হয়ে গেছেন আউট। বুলাওয়েতে আজ তিন ম্যাচ টি–টুয়েন্টি সিরিজের প্রথমটিতে জিম্বাবুয়ের দেওয়া ১৭১ রান তাড়া করতে নেমে ১৩৮ রানে অলআউট হয়ে গেছে বাংলাদেশ। ম্যাচ হেরেছে ৩২ রানে।
বড় রান তাড়া করতে নেমে ৩৪ রানের মধ্যেই আউট হয়ে যান বাংলাদেশের টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান ও পারভেজ হোসেন। সেখান থেকে হৃদয় ও ইয়াসিরের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা দেখেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু মিল্টন সুম্বার বলে হৃদয় ১৩ বলে ১৪ রানে ক্যাচ তুলে দিলে জুটির সঙ্গে বাংলাদেশের আশাটাও ভেঙে যায়। বাংলাদেশের রান তখন ৪ উইকেটে ৭৩।
পরের ওভারে দলকে ৭৮ রানে রেখে ৫ নম্বরে নামা নুরুলও রানআউট হয়ে গেলে জয়ের সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হয়ে আসে বাংলাদেশের, যা একটু সম্ভাবনা দেখিয়েছিলেন তিন বছর পর টি–টুয়েন্টিতে ফিরে ফিফটি করা ইয়াসির। শেষ ৩ ওভারে বাংলাদেশের জয়ের জন্য দরকার ছিল ৪১ রান, হাতে তখনো ছিল ৫ উইকেট।
১৭তম ওভারের চতুর্থ বলে মেহেদী (১৮ বলে ১৯) আউট হলেও ততক্ষণে উইকেটে থিতু হয়ে গিয়েছিলেন ইয়াসির। কিন্তু রিচার্ড এনগারাভার ১৮তম ওভারের প্রথম বলে ক্যাচ তুলে দেন তিনিও। বাউন্সারটা কাভারের ওপর দিয়ে তুলে মারতে চেয়েছিলেন ইয়াসির, টাইমিং ঠিকঠাক না হওয়ায় হয়ে যায় ক্যাচ। ৩৮ বলে ৫৪ রান করে ইয়াসির আউট হওয়ার পর আর জয়ের সম্ভাবনা খুব একটা ছিল না বাংলাদেশের। মাত্র ৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে তাওহিদ হৃদয়ের দল অলআউট হয়ে ১৩৮ রানে।
এর আগে এক নাহিদ রানা ছাড়া বাংলাদেশের আর কোনো বোলারই জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানদের ওপর চাপ তৈরি করতে পারেননি। স্বাগতিকেরা প্রথম ৩ ওভারে ৩৬ রান তুলে ফেলার পর চতুর্থ ওভারে বোলিংয়ে এসে মাত্র ১ রান দিয়েই ওপেনার তাদিওয়ানাসে মারুমানিকে সাইফ হাসানের ক্যাচ বানান তিনি।
নিজের প্রথম ৩ ওভারে মাত্র ৮ রান দিয়েছিলেন নাহিদ। কিন্তু ইনিংসের শেষ ওভারটা করতে এসে হজম করেন ১৮ রান। তার আগে অবশ্য উইকেট নিয়েছেন আরও তিনটি। শেষ পর্যন্ত ৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে নাহিদ রানা পেয়েছেন ৪ উইকেট। বাংলাদেশের হয়ে আর একজন বোলারই উইকেট পেয়েছেন আজ, সাইফউদ্দিন। ৪ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট।
জিম্বাবুয়ের ৬ উইকেটে করা ১৭০ রানে ফিফটি নেই একটিও। দুই ওপেনার ব্রায়ান বেনেট (৩০ বলে ৪৪) ও তাদিয়ানসু মারুমানির (৯ বলে ১৪) গড়ে দেওয়া ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে শেষদিকে রানটা এগিয়ে নেন রায়ান বার্ল ও ইভান্স। ২৫ বলে ৩০ রান করে বার্ল ও ১০ বলে ১৯ রান করে অপরাজিত থাকেন ইভান্স। সেটিই যথেষ্ট হয়েছে একমাত্র টেস্ট আর ওয়ানডে সিরিজের পর প্রথম টি–টুয়েন্টিতেও জয়ের জন্য। বুলায়েতেই সিরিজের দ্বিতীয় টি–টুয়েন্টিটি হবে ১৭ জুলাই।