এশিয়া কাপ ফাইনাল, মিরপুর, ২০১৬

বৃষ্টির কারণে ১৫ ওভারে নেমে এসেছিল ম্যাচ। বোলারদের জন্য সহায়ক কন্ডিশনে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে যেন ব্যাট করতে ভুলে গিয়েছিলেন তামিম-সাকিবরা। শেষ দিকে মাহমুদউল্লাহর ১৩ বলে ৩৩ রানের ইনিংসটি না থাকলে ১০০ রানই পার হতো না বাংলাদেশের। শেষমেশ ৫ উইকেটে ১২০ রান তোলে বাংলাদেশ।

এর জবাবে ভারতও শুরুটা ভালো করতে পারেনি। শুরুতেই ফেরেন রোহিত শর্মা। শিখর ধাওয়ান ও বিরাট কোহলির ৯৪ রানের জুটিও বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকে ছিটকে ফেলেনি। শেষ ২ ওভারে ভারতের প্রয়োজন ছিল ১৯ রান। ক্রিজে ছিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। তিনি খেলাটাকে শেষ ওভার পর্যন্ত নিতেই দেননি। ৭ বল আগেই ম্যাচ জিতে নেন। সাধে কী তাঁকে সর্বকালের সেরা ফিনিশারদের একজন বলা হয়!

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, বেঙ্গালুরু, ২০১৬

বাংলাদেশের সমর্থকেরা বোধ হয় এই ম্যাচ কখনোই ভুলতে পারবেন না। ভারতকে হারানোর হাতছোঁয়া দূরত্বে এসেও নিজেদের ভুলের কারণে ম্যাচ হেরে বসে বাংলাদেশ। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৭ উইকেটে ১৪৬ রান তোলে ভারত। এই রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ জয়ের পথেই ছিল।

শেষ দিকে ৩ বলে ২ রান প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। তখন ক্রিজে ছিলেন মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। হার্দিক পান্ডিয়াকে সীমানাছাড়া করার ভূত চেপে ধরে মুশফিক-মাহমুদউল্লাহকে। তা করতে গিয়ে আউট হন দুজনই। ওভারের ষষ্ঠ বলে শুভাগত হোম রানআউট হলে শেষ ৩ বলেই ৩ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ হেরে বসে ১ রানে।

নিদাহাস ট্রফি ফাইনাল, কলম্বো, ২০১৮

বেঙ্গালুরুর সে ম্যাচ নাকি নিদাহাস ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ ফাইনাল—কোন ম্যাচে হেরে স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় বেশি পুড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে? এমন একটা প্রশ্ন কিন্তু তোলা যেতেই পারে।

সেই ফাইনালে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেটে ১৬৬ রান তোলে বাংলাদেশ। ৫০ বলে ৭৭ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলেন সাব্বির রহমান। ভারতকে এই রানে প্রায় আটকেই রেখেছিল বাংলাদেশ। শেষ ৩ ওভারে ভারতের প্রয়োজন ছিল ৩৫ রান। মোস্তাফিজুর রহমানের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ১৮তম ওভারে মাত্র ১ রান তুলতে পেরেছিল ভারত। তাতেই প্রথমবারের মতো ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি জয় ও ত্রিদেশীয় সিরিজ জয়ের আশা বাড়ে বাংলাদেশের।

শেষ ৩ ওভারে ৩৪ লাগবে, এমন সমীকরণে উইকেটে আসেন দিনেশ কার্তিক। রুবেলের করা ১৯তম ওভারে ২২ রান তোলেন তিনি। শেষ ওভারে ১২ লাগলেও ম্যাচটা আসলে বাংলাদেশ হেরে বসে রুবেলের ওভারেই।

অথচ এই রুবেলই সুরেশ রায়না ও লোকেশ রাহুলকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে এগিয়ে দিয়েছিলেন। শেষ ওভারেও সৌম্য শেষ চেষ্টা করেছিলেন ভারতের রানের গতিতে লাগাম দেওয়ার। পঞ্চম বল পর্যন্ত পেরেছিলেনও। শেষ বলে দরকার ছিল ৫ রানের। কার্তিক শেষ বলে ছক্কা মেরে ভারতকে জিতিয়ে দেন শিরোপা।

তৃতীয় টি টোয়েন্টি, নাগপুর, ২০১৯

এই ম্যাচে ইতিহাস হাতছানি দিচ্ছিল বাংলাদেশকে। মোহাম্মদ নাঈমের ৪৮ বলে ৮১ রানের ইনিংসের পরও তা আর হয়নি। ১৭৫ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১১.৫ ওভারেই ১০০ রানের কোটা ছুঁয়ে ফেলে বাংলাদেশ।

তখনো উইকেটেই আসেননি মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ ও আফিফ হোসেন। শেষ ৩০ বলে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৫০ রান। তাই ম্যাচ ও সিরিজ জয়ের বড় সম্ভাবনাই ছিল বাংলাদেশের সামনে। কিন্তু দীপক চাহারের বোলিং–তোপে বাংলাদেশ শেষ ৮ উইকেট হারায় মাত্র ৩৪ রানে।