যে কৌশলে বোলারদের পেটান সূর্যবংশী

প্রথম ম্যাচে ফিফটির পর সূর্যবংশীবিসিসিআই

বৈভব বনাম জফরা!

এক্সে রাজস্থান রয়্যালসের পোস্ট করা ৪৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিওর শিরোনাম। বোঝাই যায়, লড়াইটা কাদের মধ্যে! ৩১ বছর বয়সী জফরা আর্চারকে নেটে খেলছেন ১৫ বছর বয়সী বৈভব সূর্যবংশী।

দুটো বল ডিফেন্স করেছেন, বাকি বলগুলো মিড অন, মিড অফ, কাভারে তুলে তুলে মেরেছেন। দেখে বোঝার উপায় নেই, আর্চার একজন ফাস্ট বোলার। ঘণ্টায় ১৪৫ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করেন।

আইপিএলে ভালো ভালো বোলার খেলেন। তবু প্রতি দলে একটা আর্চার নেই। নেটে যে কিশোর আর্চারকে ‘অত্যাচার’ করেন, ম্যাচে তো তাহলে অন্য বোলারদের বেধড়ক পিটুনি দেওয়ার কথা! তাতে অবশ্য ছেলেটির এতটুকু কার্পণ্য নেই।

তবে বৈভব সূর্যবংশীর এই বেধড়ক পিটুনির একটা ধরন আছে। যেমন ধরুন, লেগ সাইডে সূর্যবংশী একটু বেশি পেটান। বলা যায়, লেগ সাইডের বাউন্ডারি সীমানা পার করাটা সূর্যবংশীর জন্য ‘ডালভাত’।

সূর্যবংশী যখন চড়াও হন, তাঁর রানের একটা বড় অংশ আসে লং অন থেকে ও স্কয়ার লেগ অঞ্চলের ‘আর্ক’ দিয়ে। এই নির্দিষ্ট জোনে তিনি এতটাই আধিপত্য বিস্তার করেন যে বোলাররা তাঁদের পরিকল্পনা বদলাতে বাধ্য হন।

২০২৫ আইপিএলে গুজরাট টাইটানসের বিপক্ষে তাঁর ১০১ রানের ইনিংসটি দিয়ে উদাহরণ টানা যায়। সেদিন তাঁর মারা ১১ ছক্কার মধ্যে ৮টিই ছিল লং অন থেকে মিড উইকেটে। ওই জোনে তাঁর নিয়ন্ত্রণ ছিল দেখার মতো। ১৪ বছর বয়সেই সেই ইনিংসে অদ্ভুত দক্ষতায় তিনি বলের লেংথ পড়েছেন আগেভাগে।

আইপিএলে সেঞ্চুরির পর বৈভব সূর্যবংশী
এএফপি

ওভারপিচড বা আর্কের মধ্যে যেকোনো বলকে খুব সহজেই সীমানা ছাড়া করেছেন। বোলাররা যখন লাইন পরিবর্তন করে বাইরের দিকে বা শর্ট বল করেন, তখনো কবজির মোচড়ে অ্যাঙ্গেল তৈরি করে লেগ সাইডেই খেলেছেন।

চলতি আসরে চেন্নাইয়ের বিপক্ষে সূর্যবংশীর প্রথম ম্যাচে তাঁর ৫২ রানের ইনিংসেও ছিল একই ধাঁচের ব্যাটিংয়ের পুনরাবৃত্তি। এই ইনিংসে তিনি দেখান পাওয়ারপ্লেতে কতটা ভয়ংকর হতে পারেন। গুজরাটের বিপক্ষে সেঞ্চুরির ইনিংসে যে জোন দিয়ে তিনি সবচেয়ে বেশি মেরেছেন, চেন্নাইয়ের বিপক্ষেও সেই একই জোন দিয়ে চারটি ছক্কা হাঁকান।

আরও পড়ুন

একই জোন টার্গেট করে খেলায় তাঁর ইনিংসে দুটো কাজ হচ্ছে। রান যেমন তুলছেন, তেমনি শুরুতেই বোলারদের লাইন–লেংথ এলোমেলো করে দিচ্ছেন। এতে করে প্রতিপক্ষ যেমন চাপে পড়ছে, তেমনি তাঁর নিজের দলের ব্যাটিং সহজ হয়ে যাচ্ছে।

সব মিলিয়ে ১৫ বছর বয়সী সূর্যবংশী এখনো ‘৩৬০ ডিগ্রি’ ব্যাটসম্যান হয়ে ওঠেননি, তবে আপাতত তার প্রয়োজনও নেই। মাঠের একপাশে পিটিয়েই যদি দ্রুত রান তোলা যায় এবং আইপিএলে স্ট্রাইক রেট যদি ২১৮.৭০ হয়, তাহলে এবি ডি ভিলিয়ার্সের মতো ‘৩৬০ ডিগ্রি’ হতে না পারলেও কেউ অন্তত সূর্যবংশীকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাবেন না।

আরও পড়ুন