ব্রিস্টলের কাউন্টি গ্রাউন্ডে টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে টি-টোয়েন্টিতে ঘরের মাঠে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ তুলে নেয় ইংল্যান্ড। বেয়ারস্টোর ৫৩ বলে ৯০ এবং মঈন আলীর ১৮ বলে ৫২ রানে ভর করে ৬ উইকেটে ২৩৪ রান তোলে জস বাটলারের দল।

default-image

টি-টোয়েন্টিতে এটি ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। ডেভিড মালানের ২৩ বলে ৪৩ রানের ইনিংসটির অবদানও কম নয়। তবে বেয়ারস্টোর শতকের সুবাস পাওয়ার পেছনে প্রোটিয়া ফিল্ডারদেরও কিন্তু বেশ ভালোই অবদান আছে। একটি-দুটি হলেও না হয় মানা যেত, দক্ষিণ আফ্রিকার ফিল্ডাররা তাঁর চার-চারটি ক্যাচ ছেড়েছেন!

কাউন্টি গ্রাউন্ডের ব্যাটিংবান্ধব পাটা উইকেট এবং ছোট সীমানার সদ্ব্যবহার করেন ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা। টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের ইতিহাসে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ২০টি ছক্কা মারার রেকর্ডটি এ ম্যাচেই গড়েছেন বেয়ারস্টো-মঈনরা।

অলরাউন্ডার মঈন আলী এ সংস্করণে ইংল্যান্ডের হয়ে তুলে নেন দ্রুততম অর্ধশতক (১৬ বলে)। আর বেয়ারস্টো খেলেন টি-টোয়েন্টিতে নিজের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। তৃতীয় উইকেটে মালানের সঙ্গে ৪৫ বলে ৭১ রানের জুটি গড়েন বেয়ারস্টো। চতুর্থ উইকেট জুটিতে রান ওঠে আরও দ্রুত।

default-image

৩৭ বলে ১০৬ রানের জুটি গড়েন বেয়ারস্টো-মঈন। ৮ ছক্কা ও ৩ চারে ৯০ রানের ইনিংসটি খেলেন বেয়ারস্টো। মঈনের ব্যাট থেকে এসেছে ৬ ছক্কা ও ২টি চার। ৪টি ছক্কা মারেন মালান।

তাড়া করতে নেমে ম্যাচের ১৭ ওভার পর্যন্ত মোটামুটি লড়াইয়ে টিকে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। শেষ তিন ওভারে জয়ের জন্য ৫৪ রান দরকার ছিল প্রোটিয়াদের। ১৮তম ওভারে পেসার ক্রিস জর্ডান মাত্র ৩ রান দিয়ে জয়ের পাল্লা ইংল্যান্ডের পক্ষে ভারী করেন।

১৯তম ওভারের প্রথম বলে ত্রিস্তান স্টাবস আউট হওয়ার পর ম্যাচ থেকেই ছিটকে পড়ে প্রোটিয়ারা। ক্যারিয়ারের তৃতীয় আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন ২১ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান। প্রথমবারের মতো ব্যাটিংয়ে নেমেই ২৮ বলে ৭২ রানের ‘সাইক্লোন’সুলভ ইনিংস খেলে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। ৮ ছক্কা ও ২ চারে ইনিংসটি সাজান তিনি।

দারুণ এক ইনিংস দিয়েই আন্তর্জাতিক ময়দানে আগমনী বার্তা ঘোষণা করলেন ত্রিস্তান স্টাবস। ৩৩ বলে ৫৭ রান করেন ওপেনার রেজা হেনড্রিকস। ৮ উইকেটে ১৯৩ রানে থেমেছে প্রোটিয়াদের ইনিংস। ৪১ রানের এই জয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড।

জয়ের পর ইংল্যান্ড অধিনায়ক বাটলার বলেছেন, ‘সবাই দারুণ খেলেছে। আমরা বড় সংগ্রহের খোঁজে ছিলাম। ম্যাচে কিছু সময় চাপে থাকলেও জয় তুলে নিতে পেরে ভালো লাগছে।’

ত্রিস্তান স্টাবসকে নিয়ে কথা বলেছেন প্রোটিয়া পেসার লুঙ্গি এনগিদি, ‘অনুশীলনেই সে আমাদের দেখায় কী করতে পারে। তাই আজ (কাল রাতে) তার পারফরম্যান্সে মোটেও অবাক হইনি। আজ সবাই যা দেখেছে সেটি আমি তাকে বল করার সময় পেয়ে থাকি।’

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন