এমন হারের পর যেকোনো অধিনায়কই দলের বোলিংয়ের ওপর দায় চাপাবেন, রোহিতও চাপিয়েছেন। খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, ‘অ্যাডিলেডের উইকেট এমন ছিল না, যেখানে প্রতিপক্ষ ১৬ ওভারের মধ্যে ম্যাচ জিতে বেরিয়ে যাবে।’

ভারতের বোলাররা চাপের মুখে নিজেদের মেলে ধরতে পারেননি বলেই মত রোহিতের, ‘যেভাবে আজ আমরা খেলেছি, তাতে আমি খুবই হতাশ। আমি মনে করি, আমরা ব্যাটিংটা যথেষ্টই ভালো করেছি। একটা ভালো সংগ্রহও ছিল। কিন্তু বল হাতে আমরা আজ ছিলাম যাচ্ছেতাই। নকআউট ম্যাচে চাপ সামলাতে হবে। এটা ব্যক্তির ওপর নির্ভর করে। আপনি কাউকে চাপ সামলানোর ব্যাপারটি শেখাতে পারবেন না। আমার দলের খেলোয়াড়েরাই আইপিএলের চাপ সামলাতে অভ্যস্ত। কিন্তু আজ আমরা প্রথম থেকেই কেমন যেন স্নায়ুর চাপে ভুগেছি।’

তাঁর বোলাররা ঠিক জায়গামতো বল ফেলতে পারেনি বলেও আক্ষেপ রোহিতের, ‘ভুবনেশ্বর কুমার যখন প্রথম ওভারটি করেছিল, তখন বল সুইং করছি। কিন্তু সেটি আসল জায়গায় করেনি। আমাদের আঁটসাঁট বোলিং করার দরকার ছিল ব্যাটসম্যানদের শট খেলার জায়গা দেওয়া উচিত হয়নি। উইকেটের দুই পাশে প্রচুর রান এসেছে, যেটি আমাদের মাথায় ছিল। আঁটসাঁট বোলিং করার পরও যদি প্রতিপক্ষ রান করত, তাহলে বলার কিছু ছিল না। কিন্তু সেই বোলিংটাই তো আমরা করতে পারিনি।’

টুর্নামেন্ট কেমন গেল, এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচের প্রসঙ্গও টেনেছেন ভারত অধিনায়ক, ‘বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচেও আমরা এমনই অবস্থায় শুরুতে পড়েছিলাম। কিন্তু সে ম্যাচে বোলাররা স্নায়ু ধরে রেখে, পরিকল্পনার ঠিকঠাক বাস্তবায়ন করেছিল।’

২০০৭ সালে প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিল ভারত। সেটিই শেষ। এরপর ২০১৪ আসরে ফাইনালে উঠলেও শিরোপা জেতা হয়নি। ২০১২, ২০১৬—বিদায় নিতে হয়েছে সেমিফাইনাল থেকেই। গত বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতে সুপার টুয়েলভই অতিক্রম করতে পারেনি ভারত। কেবল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নয়।

২০১৩ সালের পর (চ্যাম্পিয়নস ট্রফি) আইসিসির কোনো বৈশ্বিক ট্রফিই জেতা হয়নি ভারতের। ২০১৫ ও ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপেও ভারতকে বিদায় নিতে হয়েছে সেমিফাইনাল থেকেই।