আবারও অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ধস, টানা পঞ্চম সিরিজ জয় দক্ষিণ আফ্রিকার
১৬৩, ১৪০ আর ১৯৮–এর পর এবার ১৯৩। টানা চতুর্থ ওয়ানডেতে ২০০ রানের নিচে অলআউট হলো অস্ট্রেলিয়া। আজ কুইন্সল্যান্ডের ম্যাকাইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১৯৩ রানে অলআউট হয়ে ৮৪ রানে ম্যাচ হেরেছে মিচেল মার্শের দল।
এই হারে তিন ওয়ানডের একটি বাকি থাকতে সিরিজও হেরেছে অস্ট্রেলিয়া। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে এ নিয়ে টানা পঞ্চম ওয়ানডে সিরিজে হারল ছয়বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আর সব প্রতিপক্ষ মিলিয়ে ফল হওয়া সর্বশেষ আট ওয়ানডের মধ্যে হারল সাতটিতেই।
আজকের ম্যাচটিতে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের লক্ষ্য ছিল ২৭৮ রান। দ্বিতীয় ওভারে ট্রাভিস হেড আর তৃতীয় ওভারে মারনাস লাবুশেনকে হারিয়ে শুরুতেই ২ উইকেটে ৭ রানে পরিণত হয় অস্ট্রেলিয়ার স্কোর। বিপদ বাড়ে দলকে ৩৮ রানে রেখে অধিনায়ক মিচেল মার্শও বিদায় নিলে।
এরপর চতুর্থ উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিপর্যয় থামান জস ইংলিস ও ক্যামেরন গ্রিন। এ দুজন দলকে নিয়ে যান শতরানের ওপারে। তবে ২৩তম ওভারে গ্রিন সেনারান মুতুসামির বলে তাঁরই হাতে ক্যাচ দিলে ভেঙে যায় ৬৭ রানের জুটি।
৩৫ রান করা গ্রিনের বিদায়ের পর আবারও ভাঙন ধরে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে। লুঙ্গি এনগিডির তোপে পড়ে ১৩৩ থেকে ১৯৩—এই ৬০ রানের মধ্যেই শেষ ৬ উইকেট হারায় স্বাগতিকেরা। শুরুতে লাবুশেনকে ফেরানো এনগিডি দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে নেন ৪ উইকেট। সব মিলিয়ে ৮.৪ ওভারে ৪২ রানে ৫ উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে একপ্রান্ত আগলে রাখা ইংলিস সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে করে যান ৭৪ বলে ৮৭ রান।
এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার রান পৌনে তিন শয় নিতে ভূমিকা রাখেন দুই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান ম্যাথু ব্রিটজকে ও ট্রিস্টান স্টাবস। ৭৮ বলে ৮৮ রান করে একটা বিশ্ব রেকর্ডও গড়েন ব্রিটজকে।
ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসে তিনিই প্রথম ক্রিকেটার, নিজের প্রথম চার ম্যাচে বা ইনিংসেই যিনি পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের ইনিংস খেলেছেন। চতুর্থ উইকেটে ব্রিটজকের সঙ্গে ৮৯ রানের জুটিতে স্টাবস করেন ৮৭ বলে ৭৪ রান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
দক্ষিণ আফ্রিকা: ৪৯.১ ওভারে ২৭৭ (ব্রিটজকে ৮৮, স্টাবস ৭৪, জর্জি ৩৮; জাম্পা ৩/৬৩, লাবুশেন ২/১৯, বার্টলেট ২/৪৫)।
অস্ট্রেলিয়া: ৩৭.৪ ওভারে ১৯৩ (ইংলিস ৮৭, গ্রিন ৩৫, ক্যারি ১৩; এনগিডি ৫/৪২, বার্গার ২/২৩, মুতুসামি ২/৩০)।
ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৮৪ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: লুঙ্গি এনগিডি।
সিরিজ: ৩ ম্যাচ সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকা ২–০ ব্যবধানে এগিয়ে।