বাংলাদেশের সাফল্যে খুশি ওয়াহ, তবে টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে উদ্বিগ্ন
টেস্ট ক্রিকেটের টিকে থাকার লড়াইটা শুধু মাঠে নয়। মাঠের বাইরেও। একদিকে ঝলমলে টি-টুয়েন্টি। চার-ছক্কার বৃষ্টি। অন্যদিকে পাঁচ দিনের ক্রিকেটে ধৈর্যের পরীক্ষা। অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটারই এখন ধৈর্যের পরীক্ষায় যেতে চান না। বেছে নেন টি–টুয়েন্টি ক্রিকেট, অগ্রাধিকারের তালিকায় তারপর আসে ওয়ানডে।
ক্রিকেটের এ বদলে যাওয়া ভাবাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহকে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ নিয়ে কথা বলেন কিংবদন্তি। সম্প্রতি ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে টেস্টে হারানো বাংলাদেশেরও প্রশংসা করেছেন স্টিভ ওয়াহ।
চলতি মাসেই ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারায় বাংলাদেশ। তা–ও ৯ উইকেট, টানা ১১ সেশনে দাপট দেখিয়ে। বাংলাদেশের এ জয় নিয়ে স্টিভ ওয়াহ বলেছেন, ‘এটি বিস্ময়কর। সম্ভবত এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় সতর্কবার্তা ছিল। বাংলাদেশকে ভালো করতে দেখা দারুণ ব্যাপার।’
টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন ওয়াহ। তাঁর ভাষায়, ‘সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। টি-টুয়েন্টিতেই অর্থ, আর খেলোয়াড়েরা সেখান থেকেই জীবিকা নির্বাহ করে। তাদের জন্য সিদ্ধান্তটা কঠিন নয়: অল্প সময়ে অনেক অর্থ আয় করা অথবা টেস্ট ক্রিকেটে নিজেকে উন্মুক্ত করে দেওয়া এবং তুলনামূলক কম অর্থ আয় করা। তবে আপনি যদি জানতে চান ক্রিকেটে আপনি কতটা ভালো, তাহলে টেস্ট ক্রিকেট খেলুন। আর যদি নিজের পরিবারকে দেখাশোনা করতে চান এবং অনেক অর্থ আয় করতে চান, তাহলে টি-টুয়েন্টি খেলুন। তাই কেউ যে সিদ্ধান্তই নিক, আমি তাকে দোষ দিই না। কিন্তু আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, টেস্ট ক্রিকেট যেন খেলা হয়।’
খেলোয়াড়দের দোষ দিতে চান না ওয়াহ। তাঁর ক্ষোভ প্রশাসকদের ওপর। তাঁর দাবি, টেস্ট ক্রিকেটকে বাঁচাতে যথেষ্ট উদ্যোগ নিচ্ছে না ক্রিকেট প্রশাসন। সমাধান হিসেবে ওয়াহ টেস্ট ক্রিকেটের জন্য আলাদা সময় রাখার কথা বলেছেন। শুনুন তাঁর মুখেই, ‘টেস্ট ক্রিকেটের জন্য আলাদা সময় রাখতে হবে। যদিও এটা সহজ নয়। এটি করতে কিছুটা দক্ষতার সঙ্গে ব্যবস্থাপনা করতে হবে।’
টি–টুয়েন্টি ক্রিকেট আসার আগেই টেস্টের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভেবেছিলেন সর্বকালের অন্যতম সেরা টেস্ট অধিনায়ক ওয়াহ। ৫৭ টেস্টে অধিনায়কত্ব করে ৪১ জয় পাওয়া ৬১ বছর বয়সী ওয়াহ ১৯৯৯ সালেই বলেছিলেন, সব টেস্ট ক্রিকেটারকে সমান পারিশ্রমিক দেওয়া উচিত। ২৭ বছর পরও সেই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয়নি।
এ নিয়েও কথা বলেন ওয়াহ, ‘২৭ বছর হয়ে গেল। এখনো এটি হচ্ছে না। আপনি যদি চান ছেলেরা টেস্ট ম্যাচ ক্রিকেট খেলুক, তাহলে সবার জন্য একই পারিশ্রমিকের ব্যবস্থা করুন। শ্রীলঙ্কা বা বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট খেলা খেলোয়াড় যেন একই অর্থ পায়, যতটা একজন ভারতীয় বা অস্ট্রেলীয় খেলোয়াড় টেস্ট ম্যাচ খেলে পায়।’
টেস্ট ক্রিকেট খেলার ধরন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দুবার বিশ্বকাপজয়ী ওয়াহ, ‘কঠিন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার এবং কঠোর পরিশ্রম করে কুৎসিত রান করার শিল্প—আমার মনে হয়, এখন আর খুব বেশি দেখা যায় না। টেস্ট ক্রিকেটে কখনো কখনো আপনাকে শুধু উইকেটে পড়ে থাকতে হবে। তিন-চারটি মেডেন ওভার খেলতে হবে এবং রান করার জন্য দেখতে খারাপ লাগলেও ব্যাট করতে হবে। এটি এখনকার ধারা বা মানসিকতার বিপরীত। হয়তো এ বিষয়ই কিছুটা হারিয়ে গেছে। কীভাবে এটি করতে হয়, সেটি আবার শিখতে হবে।’