আর সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ব্রেভিস এবার গড়লেন স্বীকৃত টি–টোয়েন্টিতে দ্রুততম ১৫০ রানের রেকর্ড। দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া লিগ সিএসএ টি–টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জে টাইটানের হয়ে ৫৭ বলে ১৩ ও ১৩ ছক্কায় খেলেছেন ১৬২ রানের অনবদ্য এক ইনিংস, স্ট্রাইক রেট ২৮৪.২১! মজার ব্যাপার, ওয়ানডেতে দ্রুততম দেড় শ রানের ইনিংসের রেকর্ড আবার ডি ভিলিয়ার্সের। নিজের এই কীর্তি নিয়ে ব্রেভিসও দারুণ এক বিষয় জানালেন। সেখানে আছে ডি ভিলিয়ার্সের অবদানও।

দক্ষিণ আফ্রিকার টিভি চ্যানেল সুপারস্পোর্টকে ব্রেভিস জানিয়েছেন, একটু বয়স হওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডি ভিলিয়ার্সের ব্যাটিংয়ের ভিডিও দেখে স্ট্রোক–প্লে শিখেছেন। শুধু ডি ভিলিয়ার্স নয়, তাঁর মতো স্ট্রোক খেলেন, এমন অনেকের ব্যাটিংই অনুসরণ করেছেন ব্রেভিস, ‘ছোটবেলা থেকে—এখনো—ইনস্টাগ্রামে ডি ভিলিয়ার্স এবং এমন আরও কয়েকজনের ভিডিও দেখে বড় হয়েছি। তারা কীভাবে বল মারে, সেসব দেখেছি।’

পচেফস্ট্রুমে এদিন টস জিতে টাইটানসকে আগে ব্যাট করতে পাঠিয়ে রীতিমতো বিপদই ডেকে আনে নাইটস। ওপেনিংয়ে নেমে রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছেন ব্রেভিস। প্রথম ফিফটিতে পৌঁছাতে তিনি খেলেন ১৮ বল। পরের ফিফটি করেন মাত্র ১৭ বলে। অর্থাৎ ১০০ ছুঁতে ব্রেভিসের লেগেছে সব মিলিয়ে ৩৫ বল, যেটি দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া ক্রিকেটে দ্রুততম সেঞ্চুরি।

এরপর ১৫০ রানের ‘ম্যাজিক ফিগার’ ছুঁতে ব্রেভিসের লেগেছে ৫২ বল, যা কিনা টি–টোয়েন্টিতে দ্রুততম দেড় শ রান। টি–টোয়েন্টিতে আগের দ্রুততম ১৫০ ছিল গ্রাহাম নেপিয়ারের। ২০০৮ সালে ইংল্যান্ডের টি–টোয়েন্টি কাপে এসেক্সের হয়ে রেকর্ডটি গড়েন নেপিয়ার। তাঁকে খেলতে হয়েছিল ৫৭ বল।

ব্রেভিসের রেকর্ড গড়া এই ইনিংসে ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ২৭১ রান সংগ্রহ করে টাইটানস। জবাবে ৯ উইকেটে ২৩০ রানে থামে নাইটস। টাইটানস ম্যাচ জেতে ৪১ রানে। বেবি এবির এমন ইনিংস দেখে মুগ্ধতা জানাতে দেরি করেনি আসল এবি ডি ভিলিয়ার্স। টুইটে লিখেছেন, ‘ডেওয়াল্ড ব্রেভিস। এর বেশি বলার দরকার নেই।’

তবে ইনিংসটি খেলার সময় বারবার সুযোগ পেয়েও তাঁকে নাইটস কেন আউট করেনি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইএসপিএন ক্রিকইনফোর মাল্টিমিডিয়া ক্রিকেট সম্পাদক ও যুক্তরাষ্ট্র সংবাদদাতা পিটার ডেলা পিনা। টুইটে নন–স্ট্রাইকিং পয়েন্টে দাঁড়ানো ব্রেভিসের একাধিক ছবি পোস্ট করেন ডেলা পিনা। সেখানে দেখা যায়, বলার বল ছাড়ার আগেই বেশ কয়েকবার ক্রিজ ছেড়ে অনেকটা বেরিয়ে এসেছেন ব্রেভিস।

টুইটে এই সংবাদকর্মী লিখেছেন, ‘জরুরি প্রশ্ন। কেন আপনি কিংবা আপনার দলকে একটি টি–টোয়েন্টি ম্যাচে প্রায় ৩০০ স্ট্রাইক রেটে বিচূর্ণ হতে দেবেন? যেখানে আপনি সহজেই মাঠের বাইরে আছড়ে না পড়ে সাধারণ নিয়মেই (মানকাডিং) ডেভাল্ড ব্রেভিসকে রানআউট করতে পারতেন। সে বেশ আগেই ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে।’