বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে সমর্থন করলেন সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক

টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের দৃঢ় অবস্থানকে সমর্থন করেছেন নাসের হুসেইনএএফপি

টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের দৃঢ় অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক নাসের হুসেইন। আইসিসিকে সব দেশের প্রতি সমান আচরণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, খেলায় রাজনীতি থামানোর সময় এসেছে।

মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর বাংলাদেশ সরকার নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে বিশ্বকাপের দল পাঠাতে রাজি হয়নি। এরপর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দিলে পাকিস্তান সরকার বিশ্বকাপে ভারত-ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দেয়।

বাংলাদেশের নিজেদের অবস্থানে অটল থাকা ও পাকিস্তান সরকারের পাশে দাঁড়ানোর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে স্কাই ক্রিকেট পডকাস্টে আরেক সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইক আথারটনকে নাসের বলেন, ‘বাংলাদেশের নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল থাকাটা আমার ভালো লেগেছে। তারা তাদের খেলোয়াড় “ফিজ” (মোস্তাফিজ)-এর জন্য দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তানের অবস্থানও আমার ভালো লেগেছে।’

ইংল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার মাইক আথারটন (বাঁয়ে) ও নাসের হুসেইন (ডানে)।
রয়টার্স

পাকিস্তানের বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোটা শুধুই ক্রিকেটীয় নয় বলে মনে করেন নাসের। তবে ক্রিকেট প্রশাসনে রাজনীতির দাপট থামাতে কোনো একটি পক্ষ থেকে দৃঢ় অবস্থান দরকারও মনে করেন তিনি, ‘আমি জানি এটা রাজনৈতিক। পাকিস্তানের বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোটা আমার ভালো লেগেছে। কোনো না কোনো পর্যায়ে কাউকে তো বলতে হবে যে এই রাজনীতি আর না।’

শনিবার শুরু হতে যাওয়া টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি হওয়ার কথা। তবে পাকিস্তান সরকার ম্যাচটি না খেলার ঘোষণা দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) আর্থিক কারণে চাপে পড়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, শুধু ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের বাজার আছে, যা পুরো টুর্নামেন্টের বাকি সব ম্যাচের চেয়ে বেশি।

আরও পড়ুন

পাকিস্তান আর্থিক দিকটি বিবেচনায় নিয়েই ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ডাক দিয়েছে বলে মনে করেন সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক, ‘এটি একটি বড় রকমের সংকটপূর্ণ মুহূর্ত হতে পারে। কারণ, আইসিসি বা এমনকি ভারতকেও আঘাত করার একমাত্র উপায় হলো ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের অর্থ ও অর্থসংস্থান। এটাই একমাত্র পথ।’

গত বছর এশিয়া কাপে ভারতের ক্রিকেটাররা পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সৌজন্যমূলক হাত মেলাননি, ফাইনালে জেতার পর পিসিবি প্রধান মহসিন নাকভির হাত থেকে ট্রফিও নেননি সূর্যকুমার যাদবরা।

এমন পরিস্থিতিকে ‘হতাশাজনক’ উল্লেখ করে নাসের বলেন, ‘খেলাধুলা ও রাজনীতির মধ্যে সব সময়ই একটি যোগসূত্র ছিল, কিন্তু সম্প্রতি মনে হচ্ছে সেই যোগসূত্রটি আরও গভীর হচ্ছে। আগে এটি ব্যতিক্রম হিসেবে দেখা হতো, কিন্তু এখন এটিই নিয়মে পরিণত হয়েছে। এটি শুধু রাজনীতি বা রাজনীতিবিদদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, খেলোয়াড়দের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। গত কয়েক বছরে আমি খেলোয়াড়দের যা করতে দেখেছি তা বেশ হতাশাজনক—করমর্দন না করা, ট্রফি না তোলা। ক্রিকেট আগে সেইসব জাতি ও দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করত, যাদের মধ্যে সমস্যা ছিল, আর এখন এটি মানুষকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে।’

আরও পড়ুন

টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের বর্তমান সংকট নিয়ে তিনি আথারটনকে বলেন, ‘আপনাকে মনে রাখতে হবে এই সাম্প্রতিক সংকটের শুরুটা কোথায়। রহমান (মোস্তাফিজুর রহমান) আইপিএলে কলকাতার হয়ে খেলছিলেন, অথবা স্কোয়াডে ছিলেন। হঠাৎই বিসিসিআই বলে দিল—না, বাংলাদেশ ও ভারতের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে তাকে স্কোয়াড থেকে সরিয়ে দিতে হবে। সেই একটি সিদ্ধান্ত থেকেই সবকিছু তুষারপাতের মতো বড় আকার ধারণ করেছে।’

আইসিসি কি ভারতের ক্ষেত্রেও একই সিদ্ধান্ত নেবে?

ভারতে নিরাপত্তা শঙ্কায় দল না পাঠানোর কথা জানিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিজেদের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তর করতে অনুরোধ করে গত ৪ জানুয়ারি। তবে আইসিসি ‘নিরাপত্তা শঙ্কা নেই’ ও ‘সময় স্বল্প’ জানিয়ে বাংলাদেশের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে। আয়োজক সংস্থা হিসেবে আইসিসির জন্য সময় কম থাকার বিষয়টি সহানুভূতির চোখে দেখছেন নাসের।

তবে অতীতের দৃষ্টান্তের কারণেই পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে  বলে মনে করেন তিনি, ‘আইসিসির প্রতিও আমার কিছুটা সহানুভূতি আছে। একেবারে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, আমরা যাচ্ছি না। তবে আসল তুলনা বা প্রশ্নটি সেখানেই, যার উত্তর শুধু আইসিসিই দিতে পারে। ভবিষ্যতে কোনো টুর্নামেন্টের এক মাস আগে যদি ভারত বলে যে আমাদের সরকার ওই দেশে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে বারণ করছে, তবে আইসিসি কি তখনো এমন অনমনীয় থাকবে এবং বলবে যে— তোমরা নিয়ম জানো, তোমাদের কপাল খারাপ, আমরা তোমাদের বাদ দিয়ে দিচ্ছি?’

নাসের বলেন, সব পক্ষ আসলে নিয়মের ধারাবাহিকতা বা সমতা চায়। ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা হিসেবে আইসিসিকে তা ন্যায্যতার সঙ্গে করতে হবে, ‘আপনাকে বাংলাদেশের সঙ্গে ঠিক তেমনই আচরণ করতে হবে যেমনটা পাকিস্তানের সঙ্গে করেন, ভারতের সঙ্গে করেন। এখন ভারতের সমর্থকেরা বলতেই পারেন যে—আরও কাঁদো, আমাদের টাকা আছে, সবকিছু আমাদের হাতে; কিন্তু ক্ষমতার সঙ্গে দায়িত্বও আসে। আপনি যদি ক্রমাগত বাংলাদেশ বা পাকিস্তানকে কোণঠাসা করেন, তবে তাদের ক্রিকেটের মান কমে যাবে। ফলে অতীতে ভারত-পাকিস্তান বা ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে আমরা যেসব দুর্দান্ত লড়াই দেখেছি, সেগুলো একপেশে হয়ে যাবে, যেমনটা এখন হচ্ছে।’

আরও পড়ুন