২৯ রানে নেই ৮ উইকেট, ৮৬ রানের লক্ষ্য দিয়ে ফাইনাল জিতে রেকর্ড
অবিশ্বাস্য!
টি-টুয়েন্টিতে ৮৬ রানের লক্ষ্য দিয়েও ফাইনাল জেতা সম্ভব?
গ্লোবাল সুপার লিগে এমনটাই করে দেখিয়েছে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স। মাত্র ৮৫ রানে অলআউট হওয়ার পরও সান ফ্রান্সিসকো ইউনিকর্নসকে ৭৯ রানে গুটিয়ে দিয়ে ৬ রানের নাটকীয় জয় তুলে নিয়েছে তারা। পেশাদার টি-টুয়েন্টি টুর্নামেন্টের কোনো ফাইনালে এত কম রানের লক্ষ্য রক্ষা করে জয়ের ঘটনা এটাই প্রথম।
টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে গায়ানা। সান ফ্রান্সিসকোর ৪১ বছর বয়সী অস্ট্রেলিয়ান পেসার পিটার সিডলের গতি ও সুইংয়ের সামনে ভেঙে পড়ে তাদের শক্তিশালী টপ অর্ডার। জনসন চার্লস, শিমরন হেটমায়ার ও মোহাম্মদ হারিসকে ফিরিয়ে ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন সিডল।
ইনিংসের নবম ওভারের আগেই স্কোরবোর্ডে মাত্র ২৯ রান, অথচ নেই ৮ উইকেট। প্রথম আট ব্যাটসম্যানের কেউই দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। তখন মনে হচ্ছিল, ৫০ রানও বুঝি হবে না গায়ানার। তবে শেষ দিকের ব্যাটসম্যানদের সুবাদে সেটি পারই হয়ে যেতে পারে দলটি। সর্বোচ্চ ২৮ রান আসে ১০ নম্বরে নামা ম্যাথু ফোর্ডের ব্যাট থেকে।
৯ নম্বরে নামা ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস অপরাজিত ছিলেন ১৭ রানে, আর অধিনায়ক ইমরান তাহির করেন ১১। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভার পূর্ণ হওয়ার আগেই ৮৫ রানে অলআউট হয় গায়ানা।
জয়ের জন্য মাত্র ৮৬ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে প্রথম বলেই ধাক্কা খায় সান ফ্রান্সিসকো। ম্যাচসেরা প্রিটোরিয়াসের প্রথম বলেই ক্যাচ দিয়ে ফেরেন নিউজিল্যান্ডের টিম রবিনসন।
তবে একপর্যায়ে ৩ উইকেটে ৫৩ রান তুলে জয়ের পথেই ছিল সান ফ্রান্সিসকো। সেখান থেকে পরের ৫ রান তুলতে দলটি হারায় আরও ৫ উইকেট। শেষ দিকে পিটার সিডল ১৩ রানে অপরাজিত থাকলেও সেটি আর কোনো কাজে আসেনি।
প্রিটোরিয়াস ও মোহাম্মদ নবী নেন ৩টি করে উইকেট। অধিনায়ক তাহিরের শিকার ২টি।
২০২৪ সালে যাত্রা শুরু হওয়া গ্লোবাল সুপার লিগের এটি ছিল তৃতীয় আসর। টুর্নামেন্টটিতে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতল গায়ানা। উদ্বোধনী আসরের চ্যাম্পিয়ন ছিল বাংলাদেশের রংপুর রাইডার্স।