পিন্ডিতে দুবার পাকিস্তানকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ, এবার কী করবে

অধিনায়ক নাজমুল হোসেন আর পেসার নাহিদ রানা। গতকাল মিরপুরেপ্রথম আলো

দুই বছর আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডির টেস্ট সিরিজটা কি মনে আছে? প্রশ্নটাই কেমন যেন, তাই না? পাকিস্তানের মাটিতে পাকিস্তানকে ২–০ তে টেস্ট সিরিজ হারানোটা স্মৃতিভ্রংশ না হলে আসলে কারোরই ভোলার কথা নয়। সেই সিরিজ জয় বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে স্মরণীয় এক অধ্যায়।

পাকিস্তানের বিপক্ষে আগের ১৩ টেস্টে বাংলাদেশের জয় ছিল না একটিও। অথচ ওই এক সিরিজেই বাংলাদেশ জয় পেয়েছে দুবার, সেটিও তাদেরই মাটিতে। পাকিস্তান ক্রিকেটকেই ওলট–পালট করে দিয়েছিল তাদের ওই হার, ওয়াসিম আকরামের মতো সাবেক অনেক ক্রিকেটারই যেটিকে বলেছিলেন ‘বিব্রতকর’।

বাংলাদেশের স্পিনে ঘায়েল হওয়ার শিক্ষা থেকে পিসিবি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পরের সিরিজেই ফ্যান, হিটার ব্যবহার করে উইকেটকে বানিয়ে ফেলে স্পিন–ফাঁদ। বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই টেস্টের ২৪ উইকেটের ১৯টিই যেখানে নিয়েছিলেন পাকিস্তানের পেসাররা, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন টেস্টে ৪৬ উইকেটের মধ্যে স্পিনাররা নেন ৪৩টি।

পিন্ডির ওই সিরিজ হারের পর নড়বড়ে হয়ে গিয়েছিল শান মাসুদের অধিনায়কত্বও। পরে অবশ্য টিকে যান, এবারও তাঁর নেতৃত্বেই বাংলাদেশে এসেছে পাকিস্তান। বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বশেষ ওই সিরিজের পর ৯ টেস্ট খেলে যাঁর দল জিতেছে চারটিতে।

একসঙ্গে উইকেট দেখছেন অধিনায়ক নাজমুল, প্রধান কোচ ফিল সিমন্স আর প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার
প্রথম আলো

বাংলাদেশ সর্বশেষ টেস্ট খেলেছে গত বছর নভেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। ঘরের মাঠে দুটি টেস্টেই জিতেছে। তবে সেটি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রের অংশ ছিল না। নতুন চক্রে বাংলাদেশ দল এখন পর্যন্ত একটিই সিরিজ খেলেছে, গত বছর জুনে শ্রীলঙ্কায়।

পাকিস্তানের বিপক্ষে ৮ মে শুরু সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য টেস্টে ঘরের মাঠের ধাঁধা কাটানোর সুযোগও। হ্যাঁ, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের আগের চক্রে বাংলাদেশের জন্য সে রকমই এক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল ঘরের মাঠের টেস্ট। ৬টি টেস্ট খেলে জয় পেয়েছিল মাত্র একটিতে। অথচ দেশের বাইরে ৬ টেস্টে ছিল ৩টি জয়।

ঘরের মাঠের টেস্ট নিয়ে এবার তাই নতুন করে পরিকল্পনা করতে হচ্ছে। ৪–৫ বছর ধরে সাদা বলের ক্রিকেটে বাংলাদেশের বড় শক্তি পেসাররা, তাঁদের ওপর ভরসা রেখে ওয়ানডে আর টি–টুয়েন্টিতে এখন স্পোর্টিং উইকেটে খেলছে বাংলাদেশ। আগে টেস্টে বাংলাদেশ দল ছিল স্পিন–নির্ভর, ঘরের মাঠে স্পিন উইকেটই ছিল ভরসা। পাকিস্তানের বিপক্ষে বদল আসছে সেখানেও। গতকাল পর্যন্তও সবুজ ঘাসে ঢেকে ছিল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের উইকেট, সেটার ওপরই রোলার চালিয়েছেন মাঠকর্মীরা। উইকেটে যেন ব্যাটসম্যান–বোলারদের জন্য সমান সুবিধা থাকে, ওই নির্দেশনাই দেওয়া হয়েছে টিম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে। প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের তিন পেসার নিয়ে খেলার সম্ভাবনাই বেশি।

টেস্ট দলে প্রথমবার সুযোগ পেয়েছেন তানজিদ হাসান
প্রথম আলো

গতকাল অনুশীলনেও উইকেটের দিকেই কৌতূহলী দৃষ্টি ছিল দুই দলের। বাংলাদেশের কোচ–অধিনায়ক–প্রধান নির্বাচক মিলিয়ে ছোটখাটো একটা বৈঠক হয়েছে উইকেটের সামনেই। পাকিস্তানের পেস বোলিং কোচ উমর গুলও অনেকক্ষণ কথা বলেছেন বিসিবির টার্ফ ম্যানেজমেন্ট উইংয়ের প্রধান টনি হেমিংয়ের সঙ্গে।

টেস্টে কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ ব্যাটিং ভালো করলেও থিতু হচ্ছে না ওপেনিং জুটি। এই সিরিজে তাই ওপেনিংয়ে নতুন মুখ হিসেবে সুযোগ দেওয়া হয়েছে সাদা বলের ক্রিকেটের আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান তানজিদ হাসানকে। পাকিস্তানের বিপক্ষে তাঁর টেস্ট অভিষেক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

দলে আরেক নতুন মুখ অমিত হাসান। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রায় ৫০ গড়ের এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান কালই প্রথম অনুশীলন করেছেন জাতীয় দলের সঙ্গে। বিসিবির পাঠানো ছোট্ট এক ভিডিও বার্তায় অমিত জানিয়েছেন তাঁর অনুভূতি, ‘অন্যান্য সময়ও ড্রেসিংরুম শেয়ার করেছি, কিন্তু জাতীয় দলের ড্রেসিংরুম আলাদা, এটা অন্য রকম একটা ভালো লাগা।’ প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে চার নম্বরে খেললেও এই সিরিজে টেস্ট অভিষেক হলে অমিতকে হয়তো আরেকটু পরেই ব্যাটিংয়ে নামতে হবে। পাকিস্তানের বিপক্ষে তাঁর টেস্ট অভিষেক হবে কি না, এমন প্রশ্নে টিম ম্যানেজমেন্টের এক সদস্য বলেছেন, ‘ওকে খেলানোর কথা চিন্তা করেই দলে নেওয়া হয়েছে।’

তানজিদ–অমিতদের নতুন শুরুর সিরিজে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রটাও যেন নতুন করে শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আর তাতে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে রাওয়ালপিন্ডির দুই বছর আগের স্মৃতি। প্রতিপক্ষ যে সেই পাকিস্তানই!

আরও পড়ুন