৫ উইকেটে ১৭৬ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শেষ করেছিল শ্রীলঙ্কা। আজ আরও ৪১.৫ ওভার খেলে ৮ উইকেটে ৩৬০ রানে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে শ্রীলঙ্কা। ধনাঞ্জয়া ডি সিলভার (১০৯) শতকের অপেক্ষায় করুণারত্নের ইনিংস ঘোষণা করতে দেরি হয়ে গেছে, ম্যাচের পরিস্থিতি দেখে এমন ভেবে নিতে পারেন অনেকে।

কেননা, দ্বিতীয় উইকেটে ৭২ বলে ৪৭ রানে অবিচ্ছিন্ন থাকা বাবর আজম ও ইমাম উল হকের ব্যাটিং দেখে মনে হয়েছে, কাল শেষ দিনেও জমাট ব্যাটিং দেখা যেতে পারে দুজনের কাছ থেকে।

default-image

জয় দূর অস্ত, তবু বলে রাখা ভালো শেষ দিনে জয় থেকে ৪১৯ রানে পিছিয়ে আছে পাকিস্তান। এই লক্ষ্য তাড়া করতে হলে পাকিস্তানকে টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড গড়তে হবে।

স্বাভাবিকভাবেই গলে টেস্টের শেষ দিনে এত রান তাড়া করার ঝুঁকি সম্ভবত নেবে না পাকিস্তান। হাতে থাকা ৯ উইকেট কাজে লাগিয়ে কাল শেষ দিনটা কোনোভাবে কাটিয়ে দিয়ে ড্র করাই হবে লক্ষ্য। করুনারত্নে প্রতিপক্ষের এই সমীকরণ মাথায় রেখে একটা হিসেব কষতে পারেন।

টেস্টে দিন প্রতি মোটামুটি ৯০ ওভার খেলা হয়। প্রথম দিনে খেলা হয়েছে ৮৬ ওভার, দ্বিতীয় দিনে ৮৬.৪ ওভার এবং তৃতীয় দিনে আলোকস্বল্পতার জন্য ৬৯ ওভার খেলা হয়। আলোকস্বল্পতা আজও পুরো সময় খেলা হতে দেয়নি।

কালও যদি এমন হয় তাহলে পাকিস্তানকে অলআউট করতে তুলনামূলক কম সময় পাবে শ্রীলঙ্কা। সে ক্ষেত্রে আজ একটু আগেভাগে করুণারত্নে ইনিংস ঘোষণা করলে পাকিস্তানকে অলআউট করতে আরও বেশি সময় পেত শ্রীলঙ্কা। কে জানে, আজ চতুর্থ দিনের খেলা শেষে স্কোরবোর্ডে পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসের পাশে ২-৩ উইকেটও থাকতে পারত। তখন চাপটা বেশি থাকত পাকিস্তানের ওপরই।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, বাবর-ইমাম আত্মবিশ্বাস নিয়েই চতুর্থ দিনের খেলা শেষ করেছেন। ৮০ বলে ৪৬ রানে অপরাজিত ইমাম-উল-হক। ৩৮ বলে ২৬ রান নিয়ে অন্য প্রান্ত ধরে রেখেছেন পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর। ১৬ রানে আউট হওয়া আবদুল্লাহ শফিকের উইকেটটি প্রবাত জয়াসুরিয়ার।

জয়াসুরিয়া, রমেশ মেন্ডিস ও ধনাঞ্জয়া সিলভাকে ইতিবাচক মানসিকতায় খেলেছেন বাবর-ইমাম। রান করার বলে রান তুলেছেন। দুজনে মিলে ছয়টি চার মারেন। জয়াসুরিয়াকে ছক্কাও মারেন বাবর।

দ্বিতীয় সেশনে শ্রীলঙ্কা নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণার আগে করুনারত্নের সঙ্গে ১২৬ রানের জুটি গড়েন ধনাঞ্জয়া। ১৬ চারে ১৭১ বলে ১০৯ রানের ইনিংস খেলেন ধনাঞ্জয়া। মেন্ডিসের সঙ্গে ১০২ বলে ৮২ রানের জুটিতে টেস্ট ক্যারিয়ারে নিজের নবম শতক তুলে নেন ধনাঞ্জয়া।

১০২ বলের এ জুটিতে দুজনেই দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেন। ৫৪ বলে ৪৫ রানে অপরাজিত ছিলেন মেন্ডিস। ৬১ রান করেন করুনারত্নে। পাকিস্তানের হয়ে ২টি করে উইকেট নাসিম শাহ ও মোহাম্মদ নেওয়াজের।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন