বাংলাদেশ–ভারত ম্যাচে অধিনায়কদের হাত না মেলানোর ব্যাখ্যায় বিসিবি যা বলল
জিম্বাবুয়ের বুলাওয়েতে অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপে আজ ভারত–বাংলাদেশ ম্যাচে টসের সময় হাত মেলাননি দুই দলের অধিনায়ক। ঘটনাটি অনিচ্ছাকৃত বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
একটু অসুস্থ বোধ করায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–১৯ দলের অধিনায়ক আজিজুল হাকিম এদিন টস করতে নামেননি। ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক আয়ুশ মাহাত্রের সঙ্গে টস করেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–১৯ দলের সহ–অধিনায়ক জাওয়াদ আবরার। টস শেষে দুই অধিনায়কের হাত মেলানো ক্রিকেটের পুরোনো রীতিগুলোর একটি। কিন্তু এদিন জাওয়াদ ও আয়ুশ হাত মেলাননি।
এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে খবর হয়ে যায় সঙ্গে সঙ্গেই। সম্ভবত তা দেখেই রাত ৮টার দিকে বিসিবি এ নিয়ে একটা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয়। এতে হাত না মেলানোর ব্যাখ্যা দিয়ে বলা হয়েছে, ‘অসুস্থতার কারণে নিয়মিত অধিনায়ক আজিজুল হাকিম টসে উপস্থিত থাকতে পারেননি, ফলে সহ-অধিনায়ক জাওয়াদ আবরার সে সময় দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। বিসিবি স্পষ্ট করতে চায় যে প্রতিপক্ষ অধিনায়কের সঙ্গে করমর্দন না করাটা সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত ছিল এবং তা সাময়িক অসাবধানতার ফল। প্রতিপক্ষের প্রতি কোনো ধরনের অশোভনতা বা অসম্মান প্রদর্শনের কোনো অভিপ্রায় এতে ছিল না।’
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘বোর্ড বিষয়টিকে যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে; কারণ, ক্রিকেটের চেতনা ও প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান রক্ষা করা বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষেত্রে যেকোনো স্তরেই একটি মৌলিক শর্ত। এ বিষয়ে টিম ম্যানেজমেন্টকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি খেলোয়াড়দের প্রতিপক্ষ দলের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগে সর্বোচ্চ ক্রীড়াসুলভ আচরণ, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার দায়িত্বের কথাও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
দুই দলের বয়সভিত্তিক বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের এই ম্যাচটি মাঠে গড়িয়েছে এমন সময়ে, যখন এই দুই দেশের সম্পর্কে শীতলতা বিরাজ করছে। ভারতে নিরাপত্তাশঙ্কায় দেশটিতে আইসিসি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে দশম টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার কথা। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের সব ম্যাচ রাখা হয়েছে ভারতের মাটিতে। ভারতে উগ্রপন্থীদের হুমকির মুখে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় সেখানে বাংলাদেশিদের নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এরপর নিরাপত্তাশঙ্কায় ভারত থেকে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের ম্যাচগুলো সরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করে আইসিসিকে দুবার চিঠি পাঠায় বিসিবি। এখনো বিষয়টির সুরাহা হয়নি।
বাংলাদেশ–ভারত ম্যাচে দুই অধিনায়কের হাত না মেলানোর ঘটনাকে অনেকেই মিলিয়ে নিয়েছেন সেপ্টেম্বরে এশিয়া কাপে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচের সঙ্গে। এশিয়া কাপে গ্রুপ পর্বে প্রথম ম্যাচের আগে ভারতের পক্ষ থেকে ম্যাচ রেফারিকে আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়, টসের সময় ভারতীয় অধিনায়ক পাকিস্তানের অধিনায়কের সঙ্গে হাত মেলাবেন না। ম্যাচের পরও ভারতীয় খেলোয়াড়েরা পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত মেলাবেন না। ম্যাচের পর ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব সংবাদ সম্মেলনে হাত না মেলানোর কারণ হিসেবে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সামরিক সংঘাতের প্রসঙ্গ টানেন। এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে পরের দুটি ম্যাচেও ভারত ওই ’নো হ্যান্ডশেক’ নীতিতে অটল থাকে। এ নিয়ে তখন তুমুল বিতর্ক হয়েছিল।