সে কারণেই কি না, আজ ভারতের বিপক্ষে সৌম্য সরকারকে বসিয়ে একজন বাড়তি পেসার হিসেবে শরীফুল ইসলামকে সুযোগ দেয় বাংলাদেশ। কিন্তু দুর্ভাগ্য, টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে তৃতীয় খরুচে বোলিংয়ের রেকর্ডে নাম লিখিয়েছেন শরীফুল। আজ তাঁর ৪ ওভার থেকে ৫৭ রান নিয়েছে ভারতীয়রা। যার মধ্যে ২৪ রানই এসেছে শরীফুলের তৃতীয় ওভারে। তবে ডেথ ওভারে শরীফুল ঠিকই ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। ইনিংসের শেষ ওভারে শরীফুলের ৩ বল থেকে মাত্র ৪ রান নিয়েছেন কোহলিরা।

এই তালিকায় শীর্ষে আছেন রুবেল হোসেন। ২০১২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪ ওভারে ৬৩ দিয়েছেন রুবেল। ৪ ওভারে ৬৩ রান দেওয়ার রেকর্ড আছে মাশরাফি বিন মুর্তজারও। ২০১৪ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে খরুচে বোলারের তালিকায় নাম লেখান সাবেক অধিনায়ক।

ভারতের ইনিংসটা শেষ হওয়ার পরে তাই শরীফুলের এই খরুচে বোলিং নিয়ে আফসোস ছিল সবচেয়ে বেশি। তবে ব্যাটিংয়ে নামার পর লিটন দাস সেটা কিছুটা ভুলিয়ে দিয়েছেন। বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ার সময় ৭ ওভারে বিনা উইকেটে ৬৬ রান তুলেছে বাংলাদেশ, যার মধ্যে লিটন একাই করেছেন ২৬ বলে ৫৯ রান, মেরেছেন ৩টা ছক্কা ও ৭টা চার।

শরীফুলের দুর্ভাগ্যের দিনে আজ বাংলাদেশ দলের আরেক পেসার তাসকিনের ৪ ওভার থেকে মাত্র ১৫ রান নিতে পেরেছে ভারত। সবুজ অ্যাডিলেডে তাসকিনকে টানা ৪ ওভার বোলিং করিয়েছেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। কারণও আছে। নতুন বলে দুর্দান্ত বোলিং করছিলেন তিনি। দুই ভারতীয় ওপেনার কেএল রাহুল ও রোহিত শর্মাকে বেশ ভুগিয়েছেন তাসকিন।

রোহিতের উইকেটও পেতে পারতেন এই ফাস্ট বোলার। কিন্তু ১ রানে থাকা অবস্থায় স্কয়ার লেগ বাউন্ডারিতে রোহিতের ক্যাচ ফেলেছেন হাসান। রোহিতের ইনিংস অবশ্য দীর্ঘ হয়নি। পরের ওভারেই হাসানের বলে স্কয়ার কাট করতে গিয়ে ক্যাচ আউট হন ভারতীয় অধিনায়ক। তবে তাসকিনের সৌজন্যেই পাওয়ার প্লেতে ভারতীয়রা দ্রুত রান তুলতে পারেনি। প্রথম ৬ ওভারে ভারতের রান ছিল ১ উইকেটে ৩৭ রান।

দিন শেষে সেই হাসানই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি বোলার। ৪ ওভারে ৪৭ রান দিয়ে তিনি ৩ উইকেট নিয়েছেন। যার মধ্যে দুটিই আবার ডেথ ওভারে। রোহিতের পর ভারতীয় ফিনিশার হার্দিক পান্ডিয়া ও অক্ষর প্যাটেলকে আউট করেন হাসান। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটাই তাঁর সেরা বোলিং।

চার পেসারের আরেকজন মোস্তাফিজের ৪ ওভার থেকে ৩১ রান নিতে পেরেছে ভারত। মূলত মাঝের ওভারেই তিনি বল করেছেন।

তবে পেসারদের ভিড়ে আজ আলো ছড়িয়েছে অধিনায়ক সাকিব। ফিফটি করে বড় স্কোরের পথে এগোতে থাকা রাহুলকে আউট করেন তিনি। ১৬ বলে ৩০ রান করা সূর্যকুমার যাদবও সাকিবের শিকার। জোরের ওপর করা বলে কাট শট খেলতে গিয়ে বোল্ড হন সূর্যকুমার। সাকিবের বোলিংয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে রানও তুলতে পারেনি ভারত। ৪ ওভারে ৩৩ রান দিয়েছেন তিনি। এবারের দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও সাকিব ৩৩ রানে ২ উইকেট শিকার করেন।