ভারতে লিগ খেলতে গিয়ে নিষিদ্ধ, এরপর অবসরের ঘোষণা সামিত প্যাটেলের

সামিত প্যাটেলইনস্টাগ্রাম

ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অলরাউন্ডার সামিত প্যাটেল। ৪১ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেট ছেড়েছেন নিষেধাজ্ঞার জেরে। ভারতে সাবেক ক্রিকেটারদের নিয়ে আয়োজিত একটি লিগে খেলায় ১২ মাসের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন এই অলরাউন্ডার।

জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড লিজেন্ডস প্রো টি-টোয়েন্টি লিগ’-এ অংশ নিয়েছিলেন প্যাটেল।

টুর্নামেন্টটি ভারতীয় বোর্ড বিসিসিআই কর্তৃক অনুমোদিত নয়। ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) নিয়ম অনুযায়ী, এ ধরনের ‘অননুমোদিত’ লিগে অংশ নিলে কোনো ক্রিকেটার পরবর্তী ৬ মাস ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটে অংশ নিতে পারবেন না। একই কারণে এই গ্রীষ্মের টি-টুয়েন্টি ব্ল্যাস্টে খেলতে পারছেন না অস্ট্রেলিয়ান পেসার পিটার সিডলও।

এই নিষেধাজ্ঞার জেরেই ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্যাটেল। তবে বিশ্বের অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে তিনি খেলা চালিয়ে যাবেন।

বিবিসি স্পোর্টসের একটি অনুষ্ঠানে প্যাটেল বলেছেন, ‘আমি সম্ভবত ওই লিগে খেলতাম না (নিয়ম জানলে)। আমাদের খেলা নিয়ে অনেক অনিশ্চয়তা ছিল, কিন্তু এখন আর সেটি বদলানোর সুযোগ নেই। এই ঘটনা আমার অবসরের সিদ্ধান্তকে আরও এগিয়ে দিয়েছে।’

বিশ্বের অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে প্যাটেল খেলা চালিয়ে যাবেন

প্যাটেল আরও যোগ করেন, নিষেধাজ্ঞা না থাকলে এ বছরও তিনি খেলতেন, ‘আমি এই গ্রীষ্মে খেলতাম। কয়েকটি কাউন্টি ক্লাবের সঙ্গে আমার আলোচনা চলছিল। চুক্তি সই না হলেও কথা অনেক দূর এগিয়েছিল। হয়তো শেষ মুহূর্তে কোথাও সুযোগ পেয়ে যেতাম।’ ২০০২ সালে নটিংহ্যামশায়ারের হয়ে অভিষেক হওয়া প্যাটেল দলটির হয়ে দীর্ঘ ২২ বছর খেলেছেন। নটিংহ্যামশায়ারের ২০০৫ ও ২০১০ সালের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ে তাঁর বড় ভূমিকা ছিল। সামিত প্যাটেল ও রবি বোপারা—শুধু এই দুজন ক্রিকেটারই ২০০৩ সালে শুরু হওয়া টি-টুয়েন্টি ব্ল্যাস্টের প্রতিটি আসরে খেলেছেন।

আরও পড়ুন

সব সংস্করণ মিলিয়ে নটিংহ্যামশায়ারের হয়ে ২৫ হাজার রান এবং ৮০০–এর বেশি উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ার শেষ করেন এই বাঁহাতি স্পিন অলরাউন্ডার। পরবর্তী সময়ে তিনি ডার্বিশায়ার, ট্রেন্ট রকেটস ও নর্দার্ন সুপারচার্জার্সের হয়েও খেলেছেন।

সামিত প্যাটেল ইংল্যান্ডের হয়েও খেলেছেন। ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে ইংল্যান্ডের হয়ে ৬০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন এই বাঁহাতি স্পিনিং অলরাউন্ডার।

এর মধ্যে রয়েছে ৬টি টেস্ট, ৩৬টি ওয়ানডে ও ১৮টি টি-টুয়েন্টি। ২০১৫ সালে শারজাতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের শেষ টেস্টটি খেলেছেন এই অলরাউন্ডার। ইংল্যান্ডের হয়ে ৬টি টেস্ট খেললেও নিজের দেশের মাটিতে কোনো টেস্ট খেলার সুযোগ পাননি তিনি।

আরও পড়ুন