বাবর–ফখরের চোট, তদন্তের অনুরোধ নির্বাচকদের
বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানের ওয়ানডে সিরিজের দলে বাবর আজম নেই কেন? টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যর্থতার কারণে নাকি বিশ্রামে আছেন? অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি বলেন, বাবরকে দেওয়া হয়েছে বিশ্রাম।
অনেকেই বলছেন, টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ভালো না করায় ওয়ানডে দল থেকেও বাদ পড়েছেন বাবর। এবার শোনা গেল বাবরের চোটের কথা। সেটাও জানা গেছে পাকিস্তান দলের নির্বাচক আকিব জাভেদের কাছ থেকে।
চোটে আছেন আরেক অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান ফখর জামান। এই দুই ব্যাটসম্যানের চোট নিয়ে বিশ্বকাপ শেষের আগে কিছুই জানতেন না নির্বাচকেরা। তাই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পিসিবিকে (পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড) তদন্তের অনুরোধ জানিয়েছে নির্বাচক কমিটি। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচক আকিব জাভেদ এ তথ্য দিয়েছেন। এ সময়ে নির্বাচক কমিটির সদস্য মিসবাহ-উল-হক, সরফরাজ আহমেদ ও আসাদ শফিকও উপস্থিত ছিলেন।
টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলে ফেরার পর বাবরের চোট পরীক্ষা করা হয়েছে। ওর যে চোট, তাতে এই সিরিজ এমনকি ঘরোয়া ন্যাশনাল টি-টুয়েন্টি কাপেও খেলতে পারবে না।
কখনো ওয়ানডে না খেলা ছয় ক্রিকেটারকে নিয়ে বাংলাদেশ সফরে এসেছে পাকিস্তান। এই দলে বাবর, ফখরের পাশাপাশি নেই সাইম আইয়ুবও। ওয়ানডেতে বাবরের না থাকা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছিল। কারণ, টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সেরাটা না দিতে পারলেও সর্বশেষ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে সেঞ্চুরি করেছিলেন বাবর।
সংবাদ সম্মেলনে আকিব বলেন, ‘বাংলাদেশ সিরিজের দলে কিছু খেলোয়াড়কে রাখা হয়নি। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলে ফেরার পর বাবরের চোট পরীক্ষা করা হয়েছে। ওর যে চোট, তাতে এই সিরিজ এমনকি ঘরোয়া ন্যাশনাল টি-টুয়েন্টি কাপেও খেলতে পারবে না। বাবর খেলতে চেয়েছিল, কিন্তু বর্তমানে ও খেলার জন্য ফিট নয়।’
আকিব আরও বলেন, ‘ফখরও চোটে। আমরা বোর্ডকে অনুরোধ করেছি এটি তদন্ত করতে যে কীভাবে বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার ঠিক পরই এই দুই খেলোয়াড়ের চোটের খবর আমাদের কাছে এল? বিশ্বকাপের সময় কি তাদের ফিটনেসের যত্ন নেওয়া হয়নি? তারা কি পুরোপুরি ফিট না হয়েই স্কোয়াডে ছিলেন? নির্বাচক হিসেবে আমাদের এই বিষয়গুলো জানা উচিত।’
আকিব আরও যোগ করেন, ‘যেকোনো সময় যে কেউ চোটে পড়তে পারে। আমি জানি না, তারা কীভাবে পেয়েছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি হলো বাবর আজম খেলার জন্য ফিট নয়। ফখর জামান খেলার জন্য ফিট নয়। সালমান মির্জাও খেলার জন্য ফিট নয়। আমরা যদি (বিশ্বকাপের) সেমিফাইনালে উঠতাম, তাহলে কি তারা ‘‘খেলার জন্য ফিট থাকত?’’ এটাই প্রশ্ন।’
তবে বাবর-ফখরের চোটের সঙ্গে বাংলাদেশ সিরিজের দলের কোনো সম্পর্ক নেই। আকিব জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সফরের দলে তরুণ খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই নিয়ে রেখেছিলেন তাঁরা। তিনি বলেন, ‘টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের পর এই সিরিজের জন্য মাজ সাদাকাতসহ তরুণ খেলোয়াড়দের পাঠাব, এই সিদ্ধান্ত আমরা আগেই নিয়েছিলাম। বিশ্বকাপের আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, বাংলাদেশে পূর্ণ শক্তির দল পাঠাব না। আমরা জিম্বাবুয়ে সিরিজের (২০২৪ সালে) পর থেকে এটা করেছি।’