পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের জন্য মাথাপিছু ৩১ লাখ টাকা করে চাইছে পিসিবি, অভিযোগ নেপালের
নেপাল প্রিমিয়ার লিগ (এনপিএল) শুরু হচ্ছে আজ। অথচ টুর্নামেন্টে খেলতে যাওয়া পাকিস্তানের ছয় ক্রিকেটারের অংশগ্রহণ নিয়েই তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। অভিযোগ উঠেছে, এই ক্রিকেটারদের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দিতে মাথাপিছু ২৫ হাজার মার্কিন ডলার দাবি করছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৩১ লাখ টাকা।
ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফো জানিয়েছে, এনপিএলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে তারা বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। এমনকি যেসব পাকিস্তানি ক্রিকেটার এরই মধ্যে নেপালে পৌঁছে গেছেন, তাঁদের ছাড়পত্রও আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ। দাবি করা অর্থ না দিলে অনাপত্তিপত্র বাতিলের হুমকিও নাকি দিয়েছে পিসিবি।
আজ সোমবার কীর্তিপুরের ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মাঠে শুরু হচ্ছে এনপিএল। ১৬ অক্টোবরই টুর্নামেন্টটিকে অনুমোদন দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।
এনপিএলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ছাড়পত্রের জন্য ক্রিকেটারপ্রতি প্রায় ২৫ হাজার ডলার দাবি করেছে পিসিবি। তবে এই অর্থ চেয়ে পিসিবি লিখিত কোনো দাবি জানিয়েছে কি না, সেটি নিশ্চিত হতে পারেনি ক্রিকইনফো। এমনকি অর্থের দাবিই ছাড়পত্র আটকে রাখার মূল কারণ কি না, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে পিসিবির বক্তব্য জানতে চেয়েছিল ক্রিকইনফো। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
এনপিএলের তৃতীয় আসরে ছয় পাকিস্তানি ক্রিকেটারের খেলার কথা। চিতওয়ান রাইনোসে আছেন হাসান আলী ও উসামা মীর। জানাকপুর বোল্টসে ইফতিখার আহমেদ, কারনালি ইয়াকসে সাহিবজাদা ফারহান ও হুসেইন তালাত এবং সুদূরপশ্চিম রয়্যালসে হায়দার আলী।
আজ সোমবার কীর্তিপুরের ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মাঠে শুরু হচ্ছে এনপিএল। ১৬ অক্টোবরই টুর্নামেন্টটিকে অনুমোদন দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। এমন সময়ে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের ছাড়পত্র নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় বিপাকে পড়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই ক্রিকেটারদের কেউই এমন কোনো পাকিস্তান দলে নেই, যার আন্তর্জাতিক সূচির সঙ্গে এনপিএলের সময়সূচির সংঘর্ষ হচ্ছে। অর্থাৎ জাতীয় দলের খেলার কারণে তাঁদের নেপাল লিগে অংশ নেওয়ার পথে বাধা থাকার কথা নয়।
তবে পিসিবির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এবারই প্রথম নয়। গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ ক্রিকেটের (এমএলসি) ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোও একই অভিযোগ করেছিল। তখনো পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের ছাড়পত্রের জন্য মাথাপিছু ২৫ হাজার ডলার দাবি করেছিল পিসিবি। একটি সূত্র তো বিষয়টিকে ‘চাঁদাবাজি’ বলেও আখ্যা দিয়েছিল।
সেবার ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর আপত্তি শুধু অর্থের পরিমাণ নিয়ে ছিল না। আপত্তি ছিল অর্থ দাবির সময় নিয়েও। তাদের অভিযোগ, ক্রিকেটারদের সঙ্গে চুক্তির সময় পিসিবি এই অর্থের কথা জানায়নি। টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগে অর্থ দাবি করা হয়। তত দিনে দলগুলোর স্কোয়াড চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ায় বিকল্প ক্রিকেটার নেওয়ার সুযোগও ছিল না।
এমনকি একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির ক্ষেত্রে অদ্ভুত ঘটনাও ঘটেছিল। তিন ক্রিকেটারের ছাড়পত্রের জন্য অর্থ নেওয়ার পর পিসিবি বুঝতে পারে, তারা একজনের অর্থ কম নিয়েছে। এরপর ম্যাচ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে আরও ২৫ হাজার ডলার দাবি করা হয়।
ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের আরেকটি অভিযোগ ছিল, অর্থ পরিশোধ করলেও ছাড়পত্রের নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না। পিসিবি চাইলে ছাড়পত্র বাতিল করতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিকল্প ক্রিকেটারের জন্য আবারও অর্থ দিতে হয়।
তবে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি তখন এই ব্যবস্থার পক্ষেই যুক্তি দিয়েছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, ছাড়পত্রের বিনিময়ে অর্থ নেওয়া বোর্ডের বৈধ আয়ের উৎস। তবে এই অভিজ্ঞতার পর এমএলসির কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি পিসিবির চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের দলে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।