সিডনিতে আজ টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে ৮ উইকেটে ৩০২ রান তুলেছে ইংল্যান্ড। দ্বিতীয় ইনিংসে ১১৯ রানের লিড নিয়েছে বেন স্টোকসের দল। ক্রিজে আছেন সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া জ্যাকব বেথেল ও ম্যাথু পটস। টেস্টের গতিপ্রকৃতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে আগামীকাল পঞ্চম ও শেষ দিনে অস্ট্রেলিয়ার জয় তুলে নেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
অথচ আজ দিনের শুরুটা ইংল্যান্ডের জন্য হতাশার ছিল না। ৭ উইকেটে ৫১৮ রানে তৃতীয় দিন শেষ করা অস্ট্রেলিয়া আজ সকালের সেশনে ৯.৫ ওভারের মধ্যে ৪৯ রানে বাকি ৩ উইকেট হারিয়ে ৫৬৭ রানে প্রথম ইনিংসে অলআউট হয়। ১৮৩ রানে পিছিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫১ ওভারে ইংল্যান্ডের স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ২১৯ রান। কিন্তু ৫২তম ওভারে তিন বলের মধ্যে হ্যারি ব্রুক ও উইল জ্যাকসকে হারানোর পর পতন শুরু হয় ইংল্যান্ডের।
দিনের খেলার (৫১তম ওভারের পর থেকে) বাকি ২৪ ওভারের মধ্যে ৮৩ রান তুলতে ৫ উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। সফরকারীদের আশা বলতে শুধু প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ক্রিজে টিকে থাকা বেথেল। ১৪২ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলে চতুর্থ দিন পার করেন এই বাঁহাতি।
আগামীকাল সকালের সেশনে খুব দ্রুত ইংল্যান্ডের বাকি ২ উইকেট নিতে পারলে সিডনি টেস্ট জেতাটা সহজ হয়ে যাবে অস্ট্রেলিয়ার জন্য। অন্যদিকে পটসকে নিয়ে বেথেলের লক্ষ্য থাকবে ক্রিজে যতটা সম্ভব সময় কাটিয়ে দেওয়া। মাত্র ২২ বছর বয়সী বেথেল এই কাজে যে যথেষ্ট পরিণত, তা এখনই বলা যায়। ইংল্যান্ডের বাকি ব্যাটসম্যানরা যেখানে আজ ৫০ রানও করতে পারেননি, সেখানে দলের সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে বেথেল আজ যে পরিণত ব্যাটিং করেছেন, সেটা বাকি অন্যদের জন্য উদাহরণ হতে পারে।
৫২তম ওভার এবং উইল জ্যাকসকে দিয়ে শুরু করা যায়। তার আগে তিন ওভার পেস বোলিং করা অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার বো ওয়েবস্টার সেই ওভারে অফ স্পিনার হয়ে যান। প্রথম বলেই তাঁর ভেতরে ঢোকা ডেলিভারি ওয়ানডে স্টাইলে সিঙ্গেলের জন্য খেলতে গিয়ে এলবিডব্লু হন হ্যারি ব্রুক (৪২)। রিভিউ নিয়ে এই আউটে অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক স্মিথের অবদানও কম নয়। তবে উইল জ্যাকসের আউটে অন্য কারও কোনো অবদানই নেই!
চোট পাওয়া ইংল্যান্ড অধিনায়ক বেন স্টোকস আরও ব্যাটিংয়ে নামার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ব্রুকের পরই ক্রিজে আসেন উইল। এক বল ঠেকিয়েই অফ স্টাম্পের বাইরে করা পরের ডেলিভারিটি টেনে লেগে তুলে মারেন উইল। ফিল্ডার ক্যামেরন গ্রিন ডাইভ দিয়ে ক্যাচটি নেওয়ার পর ধারাভাষ্যকক্ষে অনেকের মাথায় হাত। এটা কী করলেন উইল!
বেথেল ততক্ষণে অন্য প্রান্তে সেঞ্চুরি তুলে নেন। তিনে নেমে ওপেনার বেন ডাকেটের সঙ্গে ৮২ ও ব্রুকের সঙ্গে ১০২ রানের জুটি গড়েন বেথেল। ৪২ করা ডাকেট অস্ট্রেলিয়ান পেসার মাইকেল নেসারের বলে আউট হন। বেথেল এরপর অন্যদের সঙ্গে জুটি গড়ার চেষ্টা করলেও কেউ তাঁকে সেভাবে সহায়তা করতে পারেননি। ষষ্ঠ উইকেটে জেমি স্মিথের সঙ্গে ৪৫ রানের জুটি গড়লেও সেটা বেশিদূর এগোয়নি স্মিথ নিজেই ধৈর্যহারা হয়ে ওঠায়। তাড়াহুড়া করে রান নিতে গিয়ে রানআউট হন স্মিথ (২৬)। চলতি অ্যাশেজে ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা টেস্ট মেজাজের বিপরীত ঢঙে ব্যাট করতে গিয়ে যত বাজে আউট হয়েছেন, উইল ও স্মিথের আউট দুটি তাতে নতুন সংযোজন।
আগের ইনিংসে সেঞ্চুরিয়ান জো রুট ৬ রান করে আউট হন। আটে নামা স্টোকসও বেথেলকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে দিনটা পার করতে পারেননি। ব্যক্তিগত ১ রানে ওয়েবস্টারের বলে স্লিপে ক্যাচ দেন স্টোকস। পেসার ব্রাইডন কার্স এরপর নেমে ৩ চারে ওয়ানডে ঢঙে খেলার চেষ্টা করে ১৬ রানে আউট হন। অন্যদিকে বেথেল পরিস্থিতির দাবি মিটিয়ে খেলেন টেস্ট মেজাজের ক্রিকেট। ৮৭ বলে ফিফটি তুলে নেওয়ার পর সেঞ্চুরি করেন ১৬২ বলে। গোটা ইনিংসে চার ১৫টি, ছক্কা নেই। সেঞ্চুরির সময় গ্যালারিতে তাঁর পরিবার আবেগাক্রান্ত হয়, যেটা ছুঁয়ে যায় ইংল্যান্ডের কিছু সমর্থকদেরও। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইংল্যান্ডের ২২ বছর কিংবা তাঁর কম বয়সী ব্যাটসম্যানদের মধ্যে বেথেল আজ সর্বোচ্চ রানের ইনিংস খেলেন। এই পথে তিনি পেছনে ফেলেন ১৮৮৫ সালে এমসিজিতে জনি ব্রিগসের ১২১ রানের ইনিংসকে। এসসিজিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের সর্বকনিষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্ট সেঞ্চুরি পাওয়া বেথেল দিনের খেলা শেষে মাঠ ছাড়ার সময় দর্শকেরা উঠে দাঁড়িয়ে তাঁকে সম্মান দেখান।
আগের দিন ১২৯ রানে অপরাজিত থাকা অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক স্মিথ আজ আরও ৯ রান যোগ করে ১৩৮ রানে জশ টাংয়ের বলে আউট হন। ৭১ রানে অন্য প্রান্তে অপরাজিত ছিলেন ওয়েবস্টার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ইংল্যান্ড: ৩৮৪ ও ৭৫ ওভারে ৩০২/৮ (বেথেল ১৪২*, ব্রুক ৪২, ডাকেট ৪২, স্মিথ ২৬, কার্স ১৬; ওয়েবস্টার ৩/৫১, বোল্যান্ড ২/৩৪, নেসার ১/৫৫)
অস্ট্রেলিয়া: ১৩৩.৫ ওভারে ৫৬৭ (স্মিথ ১৩৮, ওয়েবস্টার ৭১*, গ্রিন ৩৭, হেড ১৬৩; টাং ৩/৯৭, কার্স ৩/১৩০)।
চতুর্থ দিন শেষে।