লাল কার্ড দেখার পর বর্ণবাদের শিকার বায়ার্নের উপামেকানো

লাৎসিওর বিপক্ষে গত রাতের ম্যাচ যত দ্রুত সম্ভব, ভুলে যেতে চাইবেন বায়ার্নের উপামেকানোএক্স

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ৬৯ বছরের ইতিহাসে ভালোবাসা দিবসে মাত্র ৩ জন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখেছেন। ২০০১ সালে এসি মিলানের রকি জুনিয়র, গত বছর বায়ার্ন মিউনিখের বেঞ্জামিন পাভার এবং গত রাতে জার্মান ক্লাবটিরই দায়োত উপামেকানো। লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপামেকানো বর্ণবাদের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছে বায়ার্ন।

২৩ বছর আগের ১৪ ফেব্রুয়ারি রকি জুনিয়র লাল কার্ড দেখলেও পিএসজির সঙ্গে ড্র করেছিল তাঁর দল এসি মিলান। এক বছর আগে পিএসজির বিপক্ষেই যোগ করা সময়ে পাভারের লাল কার্ড ম্যাচের ফলে একদমই প্রভাব ফেলেনি। তার আগেই কিংসলে কোমান গোল করায় জিতেছিল বার্য়ান। কিন্তু গত রাতে লাৎসিওর গুস্তাভ ইসাকসেনকে বাজেভাবে ট্যাকল করে উপামেকানো শুধু নিজেরই ক্ষতি করেননি, দলেরও সর্বনাশ ডেকে আনেন।

রোমের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোর প্রথম লেগের ম্যাচের ৬৭ মিনিটে নিজেদের বক্সে ইসাকসেনকে ফাউল করায় উপামেকানোকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেজিয়ে। মানুয়েল নয়ার-হ্যারি কেইনরা এর প্রতিবাদ জানালেও নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন রেফারি। ৬৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে লাৎসিওকে জয় এনে দেন চিরো ইম্মোবিলে।

লাল কার্ড দেখার পর হতাশ উপামেকানো
এক্স

একে তো ১২ মৌসুম পর জার্মান বুন্দেসলিগার শিরোপা হারানোর পথে বায়ার্ন, তার ওপর গত রাতের হার বাভারিয়ানদের শেষ ষোলো থেকে বিদায়ের শঙ্কায় ফেলে দিয়েছে। হারের জন্য স্বাভাবিকভাবেই বায়ার্ন–সমর্থকেরা ২৫ বছর বয়সী ফরাসি সেন্টার-ব্যাক উপামেকানোকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। তবে তাঁকে ‘খলনায়ক’ বানাতে গিয়ে কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্ণবাদী মন্তব্য করেছেন।

আরও পড়ুন

এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বায়ার্ন নিজেদের এক্স অ্যাকাউন্টে লিখেছে, ‘এফসি বায়ার্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়োত উপামেকানোর প্রতি বর্ণবাদী মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। যারা এ ধরনের ঘৃণ্য মন্তব্য করে, তারা আমাদের ক্লাবের সমর্থক হতে পারে না। উপা, আমরা তোমার সঙ্গেই আছি।’

বায়ার্নের হারকে ‘প্রহসন’–এর সঙ্গে তুলনা করে ক্রীড়াবিষয়ক ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ডিএজেডএনকে কোচ টমাস টুখেল বলেছেন, ‘এই পরাজয়ে আমরা হতাশ ও ক্ষুব্ধ। আমরা হেরেছি, তবে লাৎসিও জিতেছে কি না, নিশ্চিত নই। এটা কিছুটা প্রহসনের মতো। পিছিয়ে পড়ার জন্য আমরা সম্ভাব্য সবকিছুই করেছি। অনেক ভুল করেছি, আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছি। উপামেকানোর এমনটা (বাজে ট্যাকল) করার কোনো প্রয়োজন ছিল না। এটা ঠিক, ফাউলটা খ্যাপাটে বা ইচ্ছাকৃত ছিল না। তবে শটটা শুধু আটকালেই চলত।’