দলের একজন সাপোর্ট স্টাফের বরাত দিয়ে ভারতীয় ইংরেজি দৈনিক ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস লিখেছে, বিশ্বকাপের আগেই নাকি এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যেহেতু পেস বোলারদের ম্যাচের দিন সবচেয়ে বেশি সময় দৌড়াতে হয়, তাই বিশ্রামে তাঁদের পা ছড়িয়ে বসার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। তাই বিমানযাত্রায় তাঁরা যেন কিছুটা হাত–পা ছড়িয়ে বসে যেতে পারেন, সে কারণেই নিজেদের বিজনেস ক্লাসের আসন ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধান কোচ দ্রাবিড় ও অধিনায়ক রোহিত আর কোহলি।

আইসিসির যেকোনো বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে প্রতিটি দলের জন্য চারটি বিজনেস ক্লাসের আসন বরাদ্দ থাকে। এটা আইসিসির নিয়ম। বেশির ভাগ দলই এই সুবিধা দিয়ে থাকে প্রধান কোচ, অধিনায়ক, সহ–অধিনায়ক ও ম্যানেজারকে। ভারতীয় দলে এটি বরাদ্দ ম্যানেজার, কোচ দ্রাবিড় ও দুই সিনিয়র ক্রিকেটার রোহিত শর্মা আর বিরাট কোহলির জন্য।

এবারের বিশ্বকাপে ভারত যদি ফাইনালে পৌঁছায়, তাহলে অস্ট্রেলিয়ার মধ্যেই তাদের আকাশযাত্রা দাঁড়াবে ৩৪ হাজার কিলোমিটারে। একই সঙ্গে এই আকাশযাত্রায় তারা তিনটি আলাদা সময় অঞ্চলের মধ্যেও থেকেছে। যে ভেন্যুগুলোতে তারা খেলেছে, সেই শহরেও ছিল ভিন্ন ভিন্ন আবহাওয়া। কোনো শহরে তারা গরম পেয়েছে, কোনোটিতে বাতাস কিংবা তীব্র শীত। এমন অবস্থায় পেসারদের নিয়ে চোটের শঙ্কা সব সময়ই ছিল।

ভারতীয় দলের পেস বোলিং কোচ পরশ মামব্রে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেছেন, ‘পরিকল্পনার সময় সবকিছুই মাথায় রেখেছি আমরা। পেসারদের নিয়ে আলাদা করে পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রতিটি ম্যাচে তারা যেন নিজেদের সেরা শারীরিক অবস্থা নিয়ে খেলতে পারে, সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

বিশ্বকাপে ভারতীয় দলের সূচি কেমন ছিল, সেটির উদাহরণ পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ। শ্বাসরূদ্ধকর সেই ম্যাচ জয়ের পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই তাদের মেলবোর্ন থেকে উড়াল দিতে হয়েছে। ব্যাপারটা এমন ছিল, প্রতিটি ম্যাচ খেলতে খেলোয়াড়দের হোটেল ছাড়তে হয়েছে নিজেদের মালপত্র গুছিয়ে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছিল যে অনেক খেলোয়াড়ই ঘুমের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাননি।