নতুন কুঁড়িতে স্বপ্নপূরণের একদিন…

নতুন কুঁড়ি ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ঢাকার মেয়েরাবিসিবি

মঞ্চে গিয়ে দাঁড়াতেই সাদিয়া আফরিনের কণ্ঠ ভারী হয়ে এল, চোখে জল। টুর্নামেন্ট–সেরার পুরস্কার হাতে মিনিটখানেক মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়ে থেকেও তার মুখ দিয়ে বের হলো শুধু এটুকুই, ‘আমার কান্না পাচ্ছে...!’

কেন এতটা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ল সে? আধঘণ্টা পর এমন প্রশ্নে সাদিয়ার মুখে লাজুক হাসি, ‘এমন একটা জায়গায় এসে দাঁড়াব, তা কখনো কল্পনাও করতে পারিনি।’

ছোটবেলায় বাড়ির পাশে ছেলেদের সঙ্গে টেপ টেনিস বলেই সাদিয়ার ক্রিকেটের হাতেখড়ি। তবে বাংলাদেশে যে মেয়েরাও ক্রিকেট খেলে এবং তাদেরও একটা জাতীয় দল আছে—ময়মনসিংহের বিদ্যাগঞ্জের মেয়ে সাদিয়া তা জানতে পেরেছে বছর চারেক আগে। স্থানীয় একটি একাডেমিতে অনুশীলন শুরুর পর প্রায় প্রতিদিনই পরিচিত মানুষজন তাকে খোঁচা দিয়ে বলত, ‘এত খেলে কী লাভ? তোকে তো কখনো টিভিতে দেখা যায় না!’ মাথা নিচু করে সাদিয়া তখন শুধু বলত, ‘যাবে একদিন...।’

সদ্য ১৩-তে পা দেওয়া সাদিয়াকে হয়তো এখন আর এমন প্রশ্ন শুনতে হবে না। ‘নতুন কুঁড়ি’ ক্রিকেটের ফাইনালে এসে তার অধরা স্বপ্নটা অবশেষে পূরণ হয়েছে। আনন্দের দ্যুতি ছড়িয়ে সাদিয়া বলল, ‘আমার জীবনের সেরা মুহূর্ত এটি! (নাজমুল হোসেন) শান্ত ভাইয়ের কাছ থেকে মেডেল এবং জ্যোতি (নিগার সুলতানা) আপুর হাত থেকে টুর্নামেন্ট–সেরার পুরস্কার নিতে পেরেছি।’

রংপুরকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রাজশাহীর ছেলেরা
বিসিবি

সাদিয়ার আলো ছড়ানো পারফরম্যান্সের পরেও অবশ্য নতুন কুঁড়ির ফাইনালে শেষ পর্যন্ত হেরে গেছে তার দল। শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ৫ ওভারের ম্যাচে ঢাকা জেলার কাছে ১৯ রানে হেরেছে ময়মনসিংহের মেয়েরা।

অন্যদিকে ছেলেদের বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রাজশাহী, তারাও রংপুরকে ১৯ রানেই হারিয়েছে। ফাইনাল ম্যাচে ২৬ বলে দুর্দান্ত ৭৪ রান করে ম্যাচসেরা হয়েছে সারাফাত সাদিদ। পাঁচ বছর আগে মামার হাত ধরে রাজশাহীর ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমিতে ভর্তি হয়েছিল সে। সেখান থেকেই উঠে এসে আজ জাতীয় দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।

তাঁকে দেখেই বড় হওয়া সাদিদের গলায় উচ্ছ্বাস, ‘শান্ত ভাই একাডেমিতে এলে আমাদের সঙ্গে দেখা করেন, দারুণ সব অনুপ্রেরণাদায়ক কথা বলেন।’ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নাজমুলই সাদিদের আদর্শ। যাঁকে সামনে রেখে পথচলা, সেই নাজমুলের হাত থেকেই গতকাল ট্রফি নেওয়া, সাদিদের চোখেমুখে কী যে আনন্দ!

সাদিদের দলেরই আরেক উদীয়মান ক্রিকেটার মোহাম্মদ শামীম পেয়েছে ছেলেদের টুর্নামেন্ট–সেরার পুরস্কার। তার বোলিং অ্যাকশন হুবহু ওয়েস্ট ইন্ডিজের তারকা সুনীল নারাইনের মতো। নারাইনকে দেখেই নাকি ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন বুনেছিল শামীম। সেই স্বপ্নই গতকাল তাকে নিয়ে এসেছে স্বপ্নের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। জাতীয় দলের ড্রেসিংরুমের সামনেই ছোটদের জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছিল আলাদা ড্রেসিংরুমের। তবে শামীমের স্বপ্ন একদিন মূল ড্রেসিংরুমেই খেলোয়াড় হিসেবে ঢোকার, ‘একদিন ঠিকই জাতীয় দলে খেলব...।’

আরও পড়ুন