৪ বছর পর জাতীয় দলে ফেরা মোসাদ্দেকের ভূমিকা কী হবে
একটা সময় মনে হচ্ছিল, মোসাদ্দেক হোসেনের জন্য হয়তো আর জাতীয় দলের দরজাটা খুলবে না কখনো। সাবেক প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন তো বলেই দিয়েছিলেন, যত দিন মেহেদী হাসান মিরাজ দলে আছেন তত দিন সুযোগ নেই মোসাদ্দেকের। এমন মন্তব্যের জন্য অবশ্য পরে তাঁর কাছে দুঃখও প্রকাশ করেছিলেন গাজী আশরাফ।
হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটি চার বছর পর মোসাদ্দেককে ফিরিয়েছে জাতীয় দলে, অস্ট্রেলিয়া সিরিজের ওয়ানডে দলে আছেন তিনি। এখনো মিরাজই এই সংস্করণের অধিনায়ক। দুজনের একসঙ্গে একাদশে থাকা নিয়ে তাই কিছুটা সংশয় থাকেই। তবে সিরিজপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে মিরাজ জানালেন, তিনি বিষয়টিকে বড় করে দেখছেন না, ‘আমি আর মোসাদ্দেক একসঙ্গে বাংলাদেশ দলে অনেক দিন খেলেছি, আপনারা যদি দেখেন ২০১৯ বিশ্বকাপও আমরা একসঙ্গে খেলেছি। আমার মনে হয় না এটা কোনো আলাদা ইস্যু হবে। মোসাদ্দেক তার ভূমিকা রাখবে, আমি আমারটা।’
২০১৬ সালে ওয়ানডেতে অভিষেক মোসাদ্দেকের, এক বছর পর মিরাজের। এখন পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে মোসাদ্দেক ৪৩ ওয়ানডে খেলেছেন, মিরাজ ১২০টি। দুজনই ডানহাতি ব্যাটসম্যান, লোয়ার মিডল অর্ডারে ব্যাট করেন, তাঁরা অফ স্পিনারও। দুজনই একসঙ্গে খেলতে নেমেছেন, এমন ওয়ানডে আছে ২৭টি।
দুজনের খেলার ধরনের পার্থক্য তুলে ধরে মিরাজ বলেন, ‘মোসাদ্দেক হলো ব্যাটিং অলরাউন্ডার, আমি বোলিং অলরাউন্ডার। দুজনের ভূমিকা আলাদা। আমার কাছে মনে হয় ও যদি পারফর্ম করতে পারে, এটা আমার জন্য এবং দলের জন্য বড় সাহায্য হবে। আমরা সবাই চিন্তা করি দলটাকে কোন জায়গায় নিয়ে যাওয়া যায়।’
প্রিমিয়ার লিগে চলতি মৌসুমে আবাহনীর হয়ে ৭ ইনিংসে ৬৭.৩৩ গড় ও ১৩৩.৩৩ স্ট্রাইক রেটে ৩৩৬ রান করেছেন মোসাদ্দেক। বল হাতেও নিয়েছেন ১২ উইকেট।
ঘরোয়া ক্রিকেটে এমন পারফরম্যান্সই মোসাদ্দেককে সুযোগ করে দিয়েছে জাতীয় দলে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মিরাজও তাঁকে নিয়ে আশাবাদী, ‘ঘরোয়া ক্রিকেটে ও অনেক বছর ধরে পারফর্ম করছে এবং খুব ভালো ক্রিকেটও খেলছে। আমার কাছে মনে হয় এটাই সঠিক সময় ওকে দলে নেওয়ার। যে জায়গাটা আমরা চিন্তা করেছি, সেই জায়গাটা যদি ও ভালো করতে পারে দলের জন্য তা অনেক ভালো হবে।’
বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া তিন ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচ আগামীকাল মিরপুরে।