অস্ট্রেলিয়া সিরিজে নেই বিশ্বের দ্রুততম বোলার নাহিদ রানা—কতটা ক্ষতি বাংলাদেশের

নাহিদ রানাশামসুল হক

গতি ভয় দেখায়।
গতি ভুল করায়।
গতি উইকেট এনে দেয়।

বাংলাদেশের হয়ে এই তিন কাজই নিয়মিত করে আসছেন নাহিদ রানা। অস্ট্রেলিয়া সফরেও তাঁর কাছ থেকে তেমনই কিছু প্রত্যাশা ছিল। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সিরিজে তাঁর গতি হতে পারত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

কিন্তু সিরিজের দুই সপ্তাহের বেশি সময় আগেই চোটে ছিটকে গেছেন এই পেসার। শনিবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, পাঁজরের বাঁ পাশের চোটে ছয় থেকে আট সপ্তাহ মাঠেই নামা হবে না নাহিদের।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২৩ বছর বয়সী এই পেসারের না থাকা শুধু বাংলাদেশের জন্যই ক্ষতি নয়, বিশ্বের দ্রুততম দুই পেসারের সম্ভাব্য লড়াইও না হওয়া।

টেস্ট ক্রিকেটে গতির প্রশ্নে বছরের পর বছর ধরে আলোচনায় কিছু নামই ঘুরেফিরে এসেছে। এই যেমন অস্ট্রেলিয়ার মিচেল স্টার্ক, ইংল্যান্ডের জফরা আর্চার ও মার্ক উড! এই পেসাররা বল হাতে নেওয়া মানেই গতির ঝড় তোলা।

তবে এঁদের সবার চেয়ে ধারাবাহিকভাবে জোরে বল করেন বাংলাদেশের নাহিদ রানা, দ্বিতীয় স্থানে স্টার্ক। নির্দিষ্ট কোনো ডেলিভারি নয়, গত দুই বছরের টেস্ট ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে জোরে বল করায় এ দুজনই দ্রুততম।

প্রথম আলো গ্রাফিকস

নাহিদ রানার টেস্ট অভিষেক ২০২৪ সালের মার্চে। এখন পর্যন্ত খেলা ১১ টেস্টে তিনি বল করেছেন গড়ে ঘণ্টায় ১৪১.৫৪ কিলোমিটার গতিতে। গতির গড়ে দ্বিতীয় সেরা স্টার্ক। অস্ট্রেলিয়ার এই বাঁহাতি পেসার গড়ে ১৪১.০৪ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করেছেন।

অবশ্য দ্রুততম একক ডেলিভারির রেকর্ডে স্টার্কই এগিয়ে। নাহিদ রানার অভিষেকের পর টেস্টে সবচেয়ে দ্রুতগতির বল স্টার্কের ঘণ্টায় ১৫৭.৩৯ কিলোমিটার। দ্বিতীয় দ্রুততম ডেলিভারি নাহিদের—গতি ১৫১.৯৬ কিলোমিটার।

শুধু নাহিদ রানাই নন, বাংলাদেশ দলের পুরো পেস আক্রমণও গত দুই বছরের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সেরা দুইয়ে। ক্রিকেটের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ প্লাটফর্ম ক্রিকভিজ বলছে, ২০২৪ সালের মার্চ থেকে বাংলাদেশের পেসাররা মোট ৫,৮৮৭টি ডেলিভারি দিয়েছেন।

এর মধ্যে ১,২৮২টি বলের গতি ছিল ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারের বেশি। শতাংশের হিসাবে যা ২১.৭৮। এই সূচকে বাংলাদেশের ওপরে আছে শুধু অস্ট্রেলিয়া। তাদের পেসারদের ২২.০৭ শতাংশ ডেলিভারি ছিল ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতির।

আরও পড়ুন

দুঃখজনক বাস্তবতা হচ্ছে, নাহিদ রানা–মিচেল স্টার্কের মতো বাংলাদেশ–অস্ট্রেলিয়া গতির লড়াইও এবার দেখা যাবে না। কারণ, যেসব বোলারকে নিয়ে বাংলাদেশের গতিময় আক্রমণ, তাদের অন্যতম শরীফুল ইসলাও এখন চোটে। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট পাওয়া এই বাঁহাতি পেসারকে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে পাওয়ার সম্ভাবনা নোই বললেই চলে। চিকিৎসকের ছাড়পত্র পাওয়া সাপেক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের জন্য বিবেচনা করা হতে পারে।

প্রথম আলো গ্রাফিকস

অস্ট্রেলিয়া সফরে বাংলাদেশ প্রথম টেস্ট খেলতে নামবে ১৩ আগস্ট ডারউইনে, ম্যাকাইয়ে দ্বিতীয় টেস্ট শুরু ২২ আগস্ট। এটি হতে যাচ্ছে ২০০৩ সালের পর অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সফর। প্রায় দুই যুগ বিরতির সিরিজটা হতে পারত গতির লড়াইয়ের। কিন্তু নাহিদ রানা–শরীফুলদের চোটে সেটি আর কতটা হবে?

আরও পড়ুন